কেঁদে কেঁদে মা হত্যার বর্ণনা দিলো সিআইডি কর্মকর্তার ছেলে-মেয়ে

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি যশোর
প্রকাশিত: ১০:১০ এএম, ০৩ আগস্ট ২০১৭

মা হত্যার বিচার চেয়ে কাঁদছে ছেলে-মেয়ে। সেই সঙ্গে নানি কাঁদছেন মেয়ে হত্যার বিচার চেয়ে। দুই প্রজন্মের এই কান্নায় সংবাদ সম্মেলন পরিণত হয় আহাজারিতে। মা হারা সন্তানের আহাজারিতে এ সময় উপস্থিত সবার চোখে জল নামে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে এমন হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। মরিয়ম আক্তার পারুল হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। পারুলকে তার স্বামী সিআইডি কর্মকর্তা আজিজুল হক সবজু হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্বজনদের দাবি, গত ২০ জুলাই ঢাকায় কর্মরত সিআইডি কর্মকর্তা আজিজুল হক সবুজ তার স্ত্রীকে যশোরের বাসায় পিটিয়ে হত্যা করে মরদেহ হাসপাতালে রেখে পালিয়ে যায়। তবে ওই কর্মকর্তার দাবি, তার স্ত্রী আত্মহত্যা করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে সেদিনের ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে আজিজুল-পারুল দম্পতির মেয়ে স্কুলপড়ুয়া লাবিবা হক লাবণ্য জানায়, স্কুলে যাওয়ার সময় দেখি আব্বু ও আম্মুর মধ্যে ঝগড়া চলছিল। আম্মুকে চলে আসতে বললে, আব্বু পেছন থেকে আম্মুকে মারপিট করে। আমি ঠেকাতে গেলে আমাকে আলাদা ঘরে আটকে রাখে। আব্বু আম্মুকে মারপিট করে। তখন আম্মু আমাকে দুই বার ডাকে। পরে দেখি পাশের ঘরে জানালা ভাঙা আর উপরে রশি ঝুলছে। এটা আমি নিজ চোখে দেখেছি।

ছেলে রাহাতুল হক জানায়, দেখি আম্মু নিচে পড়ে আছে। আর আব্বু আমাকে বলছে, তোমার আম্মুকে হসপিটালে নিতে হবে। তারপর তাড়াতাড়ি আব্বুর গাড়িতে করে আম্মুকে হসপিটালে নিয়ে যাই। এ সময় তারা কান্নায় ভেঙে পড়ে। সঙ্গে তাদের নানি রোকেয়া বেগমও সন্তান হত্যার বিচার দাবিতে আর্তনাদ করেন। স্বজনহারাদের কান্নায় হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়।

Jessore-parul-murder

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মরিয়ম আক্তার পারুলের ভাই জিয়াউর রহমান অভিযোগ করেন, গত ২০ জুলাই তার ছোট বোন মরিয়ম আক্তার পারুলকে নির্মমভাবে খুন করেছেন তার স্বামী সিআইডি পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আজিজুল হক সবুজ। বর্তমানে তিনি হেড অফিসের কন্ট্রোল রুমে কর্মরত আছেন। পুলিশে কর্মরত থাকায় তাদের নানাভাবে হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন।

একই সঙ্গে খুনের ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করেতে পুলিশ প্রশাসনকে ব্যবহারের চেষ্টা করছে। পুলিশও তাকে গ্রেফতার করছে না। সংবাদ সম্মেলনে তারা আজিজুল হক সবুজের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

এ ঘটনায় গত ২৬ জুলাই সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করা হয়। আদালত মামলাটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করার জন্য কোতোয়ালি থানাকে নির্দেশ দেয়। মামলাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য নানা অপচেষ্টা করছেন আসামি আজিজুল হক সবুজ। তাকে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন নিহতের পরিবারের সদস্যরা।

এ সময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মরিয়ম আক্তার পারুলের বাবা আজিজুল হক, মা রোকেয়া বেগম, ছেলে রাহাতুল হক ও মেয়ে লাবিবা হক লাবন্য প্রমুখ।

মিলন রহমান/এএম/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।