উজানের ঢলে ২ কিলোমিটারের বাঁধ ভাঙনের কবলে

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নীলফামারী
প্রকাশিত: ১১:৫৭ এএম, ০৪ আগস্ট ২০১৭

উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি ডালিয়া পয়েন্টে আবার বৃদ্ধি পেয়েছে। শুক্রবার সকাল ৬টা হতে নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টের তিস্তা ব্যারাজে নদীর পানি বিপদসীমার ৩ সেন্টিমিটার নিচ (বিপদসীমা ৫২ দশমিক ৪০ মিটার) দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

শুক্রবার বিকেল ৩টায় বিপদসীমার ২৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। দুপুরের পর পানি কমতে থাকায় শুরু হয় ব্যাপক ভাঙন। প্রবল স্রোতের ফলে টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের পূর্ব খড়িবাড়ী গ্রামের মাটির বাঁধটি ভেঙে যায়।

সেই সঙ্গে টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের পূর্ব খড়িবাড়ীতে তিস্তার নদীর ডানতীরে তৈরি ২ কিলোমিটার মাটির বাঁধটি ইতোমধ্যে ২০০ মিটার নদীগর্ভে বিলীন হতে বসেছে।

২০১৫ সালে টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের পূর্ব খড়িবাড়ী গ্রামে ২৯ লক্ষ টাকা ব্যয়ে তিস্তার নদীর স্বপন বাঁধ সংলগ্ন এ বাঁধটি নির্মাণ করা হয়। ফলে পূর্ব খড়িবাড়ী, দক্ষিণ খড়িবাড়ী, ছোটখাতা গ্রামের সহস্রাধিক পরিবার তিস্তা নদীর বন্যার কবল থেকে রক্ষা পায়।

বাঁধটি শুক্রবার ভেঙে পড়ায় এসব পরিবার চরম হুমকির মুখে পড়েছে। সকালে বাঁধ সংলগ্ন ২টি পরিবারের বসতভিটা অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

সরেজমিনে শুক্রবার বিকেলে গিয়ে দেখা যায়, নদীর প্রবল স্রোতের কারণে ইতোমধ্যে পূর্বখড়িবাড়ীর ২ কিলোমিটার বাঁধের ২০০ মিটার ভেঙে পড়েছে। তিস্তার ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ পরিদর্শন করেন ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম।

বাঁধটি ভেঙে পড়ায় কয়েক শত হেক্টর জমির ফসল বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ওই এলাকার বাসিন্দারা জরুরি ভিত্তিতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধটি মেরামতসহ দীর্ঘস্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি করেছেন।

পূর্বখড়িবাড়ী গ্রামের জিয়াউর রহমান (৪৫) জাগো নিউজকে জানান, মাটির বাঁধটি ভেঙে যাওয়ার ফলে ৩টি গ্রাম বন্যার পানির তলিয়ে যাবে।

kurigram2

টেপাখড়িবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহীন জাগো নিউজকে বলেন, বাঁধটি রক্ষা করতে না পারলে ৩ গ্রামের সহস্রাধিক পরিবারে বন্যার কবলে পড়বে। বাঁধের ভেতরে কয়েক শত একর জমির ফসলের বন্যার পানিতে ব্যাপক ক্ষতি হবে।

এদিকে, তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধিতে নদী অববাহিকার নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করায় রোপা আমন ধানের জমিগুলো পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র মতে, উজানে ভারতের তিস্তা নদীর উপর নির্মিত জলপাইগুড়িতে গজলডোবা ব্যারেজের ৫৪টি জলকপাটের মধ্যে অন্তত ১৫টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে। পানির চাপ কমাতে তারা এই জলকপাট খুলে রেখেছে বলে জানানো হয়েছে।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজার রহমান জাগো নিউজকে বলেন, প্রতিদিন তিন বার ডালিয়া হতে ভারতের দোমহনী পয়েন্টের তিস্তার পানি প্রবাহের হিসাব ওয়্যারলেন্সের মাধ্যমে আদান প্রদান করা হয়ে থাকে।

তাদের খবর মতে, বাংলাদেশের তিস্তা ব্যারাজের ৬৫ কিলোমিটার উজানে ভারতে দোমহনী পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি শুক্রবার ৮৫ দশমিক ৫০ মিটার উপর দিয়ে বাংলাদেশে নেমে আসছে। বর্তমানে তিস্তা নদীতে সব সময় সর্তক দৃষ্টি রেখে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪ জলকপাট সব সময় খুলে রাখা হয়েছে।

জাহেদুল ইসলাম/এএম/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।