মাস না পেরোতেই পদ্মার বাঁধে ধস
অনেক চেষ্টার পর নির্মিত হলেও বাঁধে ভাঙন দেখা দেয়ায় আবারও হতাশ হয়ে পড়েছেন নদী তীরবর্তী হাজারো মানুষ।
নদীর পাড় থেকে মাটি কাটা, সঠিকভাবে রোলার না করা, প্রয়োজনীয় ও সঠিক পরিমাণে জিওব্যাগ দিয়ে ডাম্পিং না করাসহ নানা অনিয়মের কারণে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাঁড়া পদ্মানদীর বামতীর প্রতিরক্ষাবাঁধ নির্মাণের একমাস পার না হতেই ধস নেমেছে। কাজের শুরু থেকেই নানা অনিয়মের আশ্রয় নেয়ায় বাঁধে ধস নামার মূল কারণ বলে এলাকাবাসী অভিযোগ তুলেছেন।
তাদের অভিযোগ, পদ্মানদীর বামতীর প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণকাজ চলাকালীন সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের কাজের সাইডে কম দেখা যেত। কাজের শুরু থেকেই নানা অনিয়ম করা হয়েছে। সাপ্লাই কাজ নিয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। বাঁধ ও নদীর শক্ত মাটি কেটে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিক্রি করা হয়। নদীর পার থেকে মাটি কাটার পর সঠিকভাবে ড্রেসিং ও রোলার করা হয়নি। নদীর মধ্য থেকে ব্লক সাজানো হয়নি। প্রয়োজনীয় ও সঠিক পরিমাণে জিওব্যাগ দিয়ে ডাম্পিং করাসহ নানা অনিয়মের কারণে বাঁধে ধস নেমেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চলতি বছরের ৩০ জুন বাঁধের নির্মাণকাজ শেষ হয়। কাজ শেষ হওয়ার এক মাসের মধ্যেই ঈশ্বরদীর পদ্মানদীর বামতীর প্রতিরক্ষা বাঁধের বিভিন্ন অংশের সিসি ব্লক সরে ফাঁকা হয়ে যায়। এর মধ্যে সাঁড়াঝাউদিয়ার রেলওয়ের গাইড বাঁধ ধসে গেছে।
শুক্রবার বিকেলে সরেজমিনে দেখা গেছে, সাঁড়াঝাউদিয়া বাঁধের পূর্বপাড়ে প্রায় ২০ ফুট জায়গার মাটি ও সিসি ব্লক ধসে গেছে। বাঁধের পাড়ের মাটিও সরে যাচ্ছে। প্রতিরক্ষা বাঁধের প্রায় ১৫ ফুট সিসি ব্লক দেবে গেছে। ওই স্থান থেকে সাঁড়াঘাটের আসাদের বাড়ি পর্যন্ত সিসিব্লক ফাঁক হয়ে গেছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাছরিন আক্তার জানান, তিনি বাঁধের ধসে যাওয়া ও ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পরিদর্শন করেছেন। বাঁধের কিছু অংশের ধসে যাওয়ার সত্যতা পেয়েছেন। সেই সঙ্গে তিনি জরুরি ভিত্তিতে ধসে যাওয়া বাঁধের বিষয়টি সমন্বয় সভায় উত্থাপনের জন্য ইউপি চেয়ারম্যান রানা সরদারকে বলেছেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রেজাউল করিম বলেন, এ ধরনের অভিযোগ সঠিক নয়। কাজ সঠিকভাবে হয়েছে। কিন্তু বাঁধ ধসে গেছে অন্য কারণে।
আলাউদ্দিন আহমেদ/এএম/এমএস