ত্রাণের অপেক্ষায় তিস্তা পাড়ের মানুষ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নীলফামারী
প্রকাশিত: ১২:১৭ পিএম, ১৫ আগস্ট ২০১৭

নীলফামারীর ডিমলায় তিস্তায় বন্যার উন্নতি হলেও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের দুর্ভোগ এখনও কাটেনি। গত রোববারের প্রবল বন্যায় লণ্ডভণ্ড হয়ে যাওয়া পরিবারগুলো বাড়িতে ফিরলেও সরকারিভাবে সহায়তা পাচ্ছেন না তারা।

বন্যায় তিস্তা পাড়ের ৩০১টি পরিবারের বসতভিটা বিলীন হলেও সরকারিভাবে কোনো সহায়তা তারা পাননি। ফলে দুদিন ধরে অনাহারে অর্ধাহারে কাটছে তাদের জীবন। দুদিন ধরে ত্রাণসহায়তার অপেক্ষায় রয়েছে পানিবন্দি মানুষ।

মঙ্গলবার বিকেলে পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়নে তিস্তার বাঁধে ৭-বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ৩০০ পরিবারের মাঝে শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়। এসব ত্রাণ বিতরণ করেন ৭-বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মাহফুজ উল বারী। এ সময় থানারহাট কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার মশিউর রহমান, ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ খান উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত দুই শতাধিক পরিবারকে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করেছে বিজিবি। স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করেন মেজর ডা. আফসানা মাহামুদা।

মঙ্গলবার দুপুরে তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ৪৫ সেন্টিমিটার নিজ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। ব্যারাজের ৪৪টি গেট খুলে দেয়া হয়েছে। তিস্তার পানি ক্রমাগত কমছে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানিয়েছে।

এদিকে ডিমলা উপজেলায় বন্যায় ৮ হাজার ৬৮৫ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বরাদ্দ না থাকায় অধিকাংশ পরিবারকে ত্রাণ ও শুকনা খাবার দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।

যে পরিমাণ শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বলেন জানান ঝুনাগাছ চাপানি ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান। তার ইউনিয়নের ১ হাজার ৪০০ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হলেও শুকনা খাবার দেয়া হয়েছে ৩০০ পরিবারকে।

পূর্ব ছাতনাই ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ খান ও খগাখড়িবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম লিথন বলেন, সরকারিভাবে কোনো শুকনা খাবার পাওয়া যায়নি। যে পরিমাণ ত্রাণ পাওয়া গেছে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।

তিস্তায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো ঘরবাড়ি হারিয়ে বাঁধের রাস্তায় মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। সেখানে দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানি এবং তীব্র খাবার সঙ্কট। সেই সঙ্গে বন্যাকবলিত এলাকায় সরকারি ত্রাণ সামগ্রী এলেও তা পর্যাপ্ত নয়।

ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, তিস্তার ভাঙনে বিলীন হওয়া পরিবারগুলোর জন্য বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত পাঠিয়ে দেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

জাহেদুল ইসলাম/এএম/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।