অবশেষে দখলমুক্ত হলো কুষ্টিয়ার ২১টি বালুমহল
অবশেষে বছরের পর বছর ধরে অবৈধ ভোগ দখলে থাকা কুষ্টিয়ার ২১টি বালুমহল দখলমুক্ত করেছে জেলা প্রশাসন। এ ব্যাপারে কোর্টের আদেশ পাওয়া মাত্র মঙ্গলবার বিকেলে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এসব বালুমহল সরকারের দখলে নিয়ে সেখানে লাল নিশানা ও সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেন।
জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শিগগিরই এসব বালুমহল ইজারা দেয়ার জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।
সূত্র জানায়, উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের কতিপয় নেতার সাথে যোগসাজশে বছরের পর বছর এসব বালুমহল অবৈধভাবে ভোগ দখল করে আসছিল। সরকার পক্ষের তদারকির অভাবে উচ্চ আদালতে রিটের বদৌলতে এতদিন এসব বালুমহল অবৈধভাবে ভোগ দখল করে রেখেছিল অসাধু চক্র। কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক সৈয়দ বেলাল হোসেন ২০১২ সালের ২০ নভেম্বর কুষ্টিয়াতে যোগদানের পর এসব বালুমহল অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে মুক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। দীর্ঘ আইনী লড়াই শেষে সম্প্রতি উচ্চ আদালত রিট আবেদন খারিজ করে দেন।
মঙ্গলবার দুপুরে রিট আবেদন খারিজের আদেশ জেলা প্রশাসকের হাতে এসে পৌঁছালে তিনি সঙ্গে সঙ্গে এসব বালুমহল সরকারি দখলে নেয়ার জন্য অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. আবু হেনা মুস্তফা কামালসহ সংশ্লিষ্ট ৬ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। জেলা প্রশাসকের নির্দেশ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ র্যাব-পুলিশের সহায়তায় ওই দিনই বালুমহলগুলো দখলমুক্ত করে তাতে লাল নিশানা ও সরকারি সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেন।
সূত্র জানায়, সরকারিভাবে সর্বশেষ ২০০৮ সালে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসব বালুমহল ইজারা দেয়া হয়। এসব বালুমহল ইজারা দিয়ে সরকার প্রতি বছর প্রায় ২ কোটি টাকা রাজস্ব আয় করতো। এ হিসেব মতে, ৬ বছরে সরকার প্রায় ১২ কোটি টাকার মত রাজস্ব হারিয়েছে।
বালু মহলগুলো হচ্ছে সদর উপজেলার বাহাদুরখালী, মহানগর, চকুয়াদাম, শুকদেবপুর, জুগিয়া, ভেড়ামারা উপজেলার পশ্চিম চরদাদাপুর, চরগোলাপনগর-আরজীসাড়া ও রূপপুর; মিরপুর উপজেলার রানাখড়িয়া, চরমাদিয়া, পশ্চিম দাদাপুর, মনিপাড়া, চরতালিবাড়িয়া ও ঘোড়ামাড়া; কুমারখালী উপজেলার লাহিনীপাড়া, জয়নাবাদ-ছেঁউড়িয়া, সেরকান্দি-আগ্রাকুন্ডা, তেবাড়িয়া-বরুরিয়া, পাথরবাড়িয়া-উত্তর হজিলাকর-এনায়েতপুর, গোবিন্দপুর, ভাড়ারা-এলঙ্গী এবং খোকসা উপজেলার চাঁদট-ভবানীপুর-গণেশপুর-কমোরভোগ ও সমানপুর।
কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক সৈয়দ বেলাল হোসেন জানান, বাংলাদেশে অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডবিøউটিএ) অনুমতি নিয়ে প্রভাবশালী মহল অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা শুরু করে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২০০৯ সালে এসব বালুমহল দরপত্র আহ্বানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে ভেড়ামারা উপজেলার জনৈক মুক্তার হোসেন ও কুষ্টিয়া পৌর এলাকার আনায়ারুল হক এ ব্যাপারে উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করেন।
সূত্র জানায়, বালু মহলগুলো সরকারিভাবে ইজারা দেয়ার লক্ষ্যে বর্তমান জেলা প্রশাসক সৈয়দ বেলাল হোসেন ২০১৩ সালের ১৩ আগষ্ট আইন ও বিচার বিভাগের সচিবের কাছে চিঠি পাঠান। সরকারের পক্ষে জেলা প্রশাসকের তদারকির কারণে দীর্ঘ আইনী লড়াই শেষে সম্প্রতি উচ্চ আদালত এসব রিট খারিজ করে দিলে ওই দুই ব্যক্তি এ ব্যাপারে আপিল করেন। গত বছর জেলা প্রশাসক সম্মেলনে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক সৈয়দ বেলাল হোসেন তার বক্তৃতায় বিষয়টি সরকারের নজরে এনে সরকারি স্বার্থ সংরক্ষণের অনুরোধ জানালে মন্ত্রী পরিষদ সচিব এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ভূমি মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেন।
কয়েক দিন আগে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ মামলাটি নিষ্পত্তি করে আবেদনকারীর রিট পিটিশনটি খারিজ করে দেন। মঙ্গলবার আপিল বিভাগের রায়ের এই অনুলিপি জেলা প্রশাসকের হাতে এসে পৌঁছায়। দখলদারদের হাত থেকে এসব বালুমহল দখলমুক্ত করার পর জেলা প্রশাসক সৈয়দ বেলাল হোসেন সাংবাদিকদের জানান, প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। খুব শিগগিরই এসব বালুমহল সরকারিভাবে ইজারা দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
আল-মামুন সাগর/এসএস/পিআর