বগুড়ায় পুলিশি হেফাজতে বিএনপি নেতার মৃত্যু
বগুড়ার শাজাহানপুরে পুলিশ হেফাজতে মাসুদুল হক পিন্টু (৪৭) নামের এক বিএনপি নেতার মৃত্যু হয়েছে। পিন্টু উপজেলার আশেকপুর ইউনিয়নের শাবরুল গ্রামের জাহান আলীর ছেলে এবং ৩ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি। এছাড়া তিনি আশেকপুর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য।
শাজাহানপুর থানায় চলতি মাসে দায়ের করা জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের একটি মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি ছিলেন তিনি। মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কৈগাড়ী ফাঁড়ির ইনচার্জ আনিছুর রহমান ফোর্সসহ অভিযান চালিয়ে নিজবাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করেন।
নিহত পিন্টুর ভাগিনা সুমন জানান, পুকুর নিয়ে পারিবারিক দ্বন্দ্বে জের ধরে দায়ের করা একটি মামলায় মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে পুলিশ তার মামা মাসুদুল হক পিন্টুকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়।
এর আগেই প্রতিপক্ষ গ্রুপের কাছে থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে গ্রেফতারের পর পুলিশ সড়কের মধ্যেই লোকজনের সামনে তাকে বেদম মারপিট করে। মারতে মারতেই তাকে পুলিশের গাড়িতে তোলা হয়।
একপর্যায়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে অবস্থা বেগতিক দেখে তাকে পুলিশ সদস্যরাই বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে দেয়।
সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যার দিকে পিন্টু মারা যান। এ ঘটনায় অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করবেন বলেও জানান তিনি।
কৈগাড়ী পুলিশ ফাঁড়ির ইন্চার্জ আনিছুর রহমান মারপিটের কথা অস্বীকার বলেন, তাকে কোনো মারপিট করা হয়নি। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত কারণে তিনি মারা গেছেন।
পিন্টুর বিরুদ্ধে চলতি মাসের প্রথম দিকে শাজাহানপুর থানায় মামলা করেন তার চাচাতো ভাই মিল্টন। সেই মামলার (মামলা নং-১৯) এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন তিনি।
মঙ্গলবার ফোর্সসহ অভিযান চালিয়ে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসার পথে রানীরহাট এলাকায় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তার স্বজনদের সঙ্গে করে তাকে মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। সেখানেই তিনি মারা যান।
বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বিকেল সাড়ে ৪টার কিছু আগে পুলিশ সদস্যরা মাসুদুল হক পিন্টুকে নিয়ে আসেন। তারা মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের কথা বললেও প্রাথমিক পরীক্ষায় হৃদরোগ ধরা পড়ে।
এ কারণে কার্ডওলজি বিভাগে তাকে ভর্তি করানো হয়। হাসপাতালের দায়িত্বরত কোনো চিকিৎসক এ ব্যাপারে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
তবে একজন জানিয়েছেন পিন্টু হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েই মারা গেছেন। এটি অতিরিক্ত টর্চার থেকেও হতে পারে। শরীরে কিছু আঘাতের চিহ্ন রয়েছে তার। ময়নাতদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে পিন্টু মারা যাওয়ার খবরে শাবরুল গ্রামের ও দলীয় নেতাকর্মীরা হাসপাতাল গেটে ভিড় করেন। সেখানে উত্তেজিত নেতাকর্মীরা পুলিশের বিরুদ্ধে স্লোগান দেয়। তারা প্রকাশ্যে মারপিট করে হত্যা করার অভিযোগ আনে কৈগাড়ী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আনিছুর রহমানের বিরুদ্ধে।
এ সময় তারা সেখানে কর্তব্যরত পুলিশের ওপর হামলা করারও চেষ্টা করে। রাতে এ রিপোর্ট লেখার সময় সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল।
বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান মন্ডল পুলিশে হেফাজতে আসামির মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, এ ব্যাপারে পুলিশ জড়িত থাকলে বা অন্যায় কোনো কাজ করে থাকলে তদন্ত করে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এএম/এমএস