বগুড়ায় বাঙালি নদীর বাঁধ ভেঙে তলিয়ে গেছে ১৫ গ্রামের ফসল

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি বগুড়া
প্রকাশিত: ১১:৪৪ এএম, ২৭ আগস্ট ২০১৭

অতি বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে পানি বৃদ্ধি পেয়ে প্রবল চাপে বগুড়ার ধুনট উপজেলায় তারাকান্দি গ্রামে বাঙালি নদীর বাঁধ ভেঙে গেছে। এতে বন্যার পানি লোকালয়ে প্রবেশ করছে। রোববার দুপুরের দিকে হঠাৎ করেই বাঁধের প্রায় ৫০ ফুট অংশ ভেঙে যায়।

বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সহকারী প্রকৌশলী হারুনুর রশিদ বলেন, ধুনট উপজেলায় বাঙালি নদীতে সরকারিভাবে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ করা হয়নি। স্থানীয় লোকজন খেতের ফসল রক্ষায় তারাকান্দিসহ বেশ কয়েকটি স্থানে বাঁধ নির্মাণ করেছিল। কিন্ত নদীর পানি বেড়ে গিয়ে প্রবল চাপের কারণে বাঁধ ভেঙে গেছে।

এলাকাবাসী জানান, উপজেলার এলাঙ্গী ইউনিয়নের তারাকান্দি থেকে নবীনগর গ্রাম পর্যন্ত বাঙালি নদীর পাড় দিয়ে পায়ে চলা রাস্তার ওপর মাটি ফেলে স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ নির্মাণ করেন তারা। প্রায় ৫ বছর আগে নির্মিত বাঁধটি প্রতিবছরই সংস্কার করা হয়। এই বাঁধ নির্মাণের ফলে পূর্ব পাশে এলাঙ্গী ইউনিয়নের প্রায় ১৫ গ্রামের নিম্নাঞ্চলে নানা জাতের ফসল ফলাতে পারেন কৃষকরা।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্র জানায়, কয়েক দিন ধরে অতি বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে অন্যান্য নদীর মতো বাঙালি নদীর পানি বাড়তে থাকে। এখন পানি বিপদসীমার ৪৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বৃদ্ধির সঙ্গে নদীতে প্রবল স্রোত বইছে। এতে পানি ঘূর্ণাবর্তের সৃষ্টি হয়ে বাঁধে আঘাত করে। ফলে ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়ে এই বাঁধ। স্থানীয় লোকজন বালু ভর্তি বস্তা ফেলে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ রক্ষায় কয়েক দিন ধরে চেষ্টা করেন। কিন্ত সব চেষ্টা ব্যর্থ করে বাঁধটি ভেঙে যায়।

উপজেলার এলাঙ্গী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এমএ তারেক হেলাল বলেন, বাঁধ ভাঙা বন্যায় ইতিমধ্যেই প্রায় ১৫ গ্রামের নিম্নাঞ্চলের খেতের ফসল তলিয়ে গেছে। প্রতি মুহূর্তে ভাটির দিকে নতুন নতুন এলাকায় পানি প্রবেশ করছে। কিছু কিছু বাড়িঘরে পানি উঠতে শুরু করেছে। পানির প্রবল চাপে গ্রামীণ কাঁচা রাস্তা ভেঙে যাতায়াত বন্ধ হয়ে গেছে।

এদিকে শেরপুর উপজেলায় বাঙালি ও করতোয়া নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় নতুন করে ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

শেরপুর উপজেলার পৌরশহরের ৩নং ওয়ার্ডসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও সবজির খেত বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে কয়েক হাজার মানুষ। বাড়িঘরে পানি ওঠায় আশাপাশের বিদ্যালয় ও উঁচু জায়গায় আশ্রয় নিয়েছে বানভাসিরা।

বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী রুহুল আমীন জানান, গাইবান্ধায় করতোয়া নদীর বাঁধ ধসে যাওয়ায় করতোয়ার পাশাপাশি বাঙালি নদীর পানি বাড়ছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় পৌরসভাসহ উপজেলার খামারকান্দি, খানপুর, সুঘাট ও সীমাবাড়ী ইউনিয়নের অন্তত ২০টি গ্রামে নতুন করে পানি প্রবেশ করেছে। এর মধ্যে পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের পূর্বঘোষপাড়াসহ এলাকার সব বাসা-বাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে।

শেরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খাজানুর রহমান জানান, চলতি বন্যায় এই উপজেলায় শুক্রবার পর্যন্ত ২ হাজার ২৫৫ হেক্টর আমন ধান ও ৪৫ হেক্টর রকমারি সবজি খেত বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে।

লিমন বাসার/আরএআর/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।