গৌরব আমাদের সুইপার স্বপনের ছেলে
‘প্রায় প্রতিদিন সকালে অফিসের গাড়ি রেখে বারান্দায় উঠার পর সে তার সবগুলো দাঁত বের করে বামহাতে আমাকে সালাম দেয়। কী যে নিষ্পাপ হাসি!! নাম গৌরব। ও স্বপ্ন দেখে বড় হয়ে ডাক্তার হবে। ওর কমিউনিটিতে কী কেউ ডাক্তার হয়েছে? গৌরব আমাদের সুইপার স্বপনের ছেলে (আংশিক পরিমার্জিত)।
নিজের ফেসবুক ওয়ালে হুবহু এই কথাটি লিখে ১২ ঘণ্টা আগে শিশু গৌরবের সঙ্গে একটি সেলফি তুলে সেটি পোস্ট করেছেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক তানজিয়া সালমা। এরপর তাকে রুমে ডেকে জেলা প্রশাসক জানতে চান, তুমি স্কুলে যাও না কেন? গৌরব জানায় তার স্কুল ব্যাগ নেই। সঙ্গে সঙ্গে একটি স্কুল ব্যাগ কিনে গৌরবকে উপহার দেন। এসময় গৌরবের খুশি দেখে জেলা প্রশাসক তার সঙ্গে বেশ কিছু সেলফি তুলেন।
ছবিযুক্ত ওই পোস্টটিতে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ৩ হাজার ৬শ লাইক, ১৫৭টি শেয়ার ও অসংখ্য ইতিবাচক মন্তব্য পড়েছে।
এরপর আগেও ফরিদপুরের মানবিক এই জেলা প্রশাসক ঠাণ্ডায় শিশু সন্তানকে নিয়ে বসে থাকা অসহায় এক মাকে নিজ অফিসে ডেকে সেই শিশুকে গরমের কাপড় কিনে নিজে পরিয়ে দেন এবং দীর্ঘক্ষণ শিশুটিকে কোলে নিয়ে অফিস করেন।

জেলা প্রশাসকের এসব মানবিক কাজকর্ম সুধি সমাজে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে।
এদিকে রাত ৮টার পর জেলা প্রশাসকের প্রশংসনীয় এই কাজ দেখে নিজের ওয়ালে একটি পোস্ট করেছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাকিলা হ্যামি।
তিনি লিখেছেন, ‘রোজ সকালে ছেলেটি বাবার সাথে অফিসে আসে। সকালে যখন তার বাবা অফিস কম্পাউন্ড পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ করে তখন সে দাড়িয়ে দাড়িয়ে বাবার কাজ দেখে। কিন্তু ছেলেটিও মনে মনে একটি কাজ ঠিক করে নিয়েছে। ডিসি স্যার অফিসে পৌছানোর সাথে সাথে দৌড়ে গিয়ে সালাম জানায় স্যারকে।এটা তার প্রতিদিনের কাজ। হয়তো সে প্রতিদিনই মনে মনে অপেক্ষা করে ডিসি স্যার এর জন্য। আজ ও এর ব্যতিক্রম হয়নি। ছেলেটির নাম গৌরব। স্যার আজ গৌরবকে জিজ্ঞাসা করলেন, এই সময়তো তোমার স্কুলে থাকার কথা তুমি স্কুলে যাও না কেন? তার সহজ সরল উত্তর তার স্কুল ব্যাগ নাই।সাথে সাথে একটা স্কুল ব্যাগ কিনে এনে স্যার উপহার দিলেন গৌরবকে। স্কুল ব্যাগ পাওয়ার পরে তার উচ্ছাসটা লিখে বোঝানো সম্ভব নয়। ডাক্তার হতে চায় গৌরব।আমরাও আশা করি সেও বেড়ে উঠুক ত্যাজ কবিতার সাঁঝলির মত তেজ নিয়ে।আর এই নিষ্পাপ স্বর্গীয় হাসিটি তার মুখে লেগে থাকুক সবসময়।’ পোস্টটি হুবহু তুলে দেয়া হয়েছে।
এমএএস/জেআইএম