চিংড়ির মাথা ও খোসার দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ খুলনার মানুষ
খুলনার রূপসার লবণচরার মাথাভাঙ্গা এলাকায় উন্মুক্ত স্থানে চিংড়ির মাথা ও খোসা শুকানো হচ্ছে। পচে যাওয়া ওই চিংড়ির তীব্র দুর্গন্ধে ওই এলাকার লোকজন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। পরিবেশ অধিদফতর থেকে কয়েক দফা অভিযান চালিয়েও কোন লাভ হয়নি। ফলে জেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদফতর এবং বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোটার্স এসোসিয়েশন (বিএফএফইএ) এর কর্মকর্তারা এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে রোববার বৈঠকে বসবেন।
ভুক্তভোগী স্থানীয় লোকজন ও ব্যবসায়ীরা জানান, রূপসা সেতুর দক্ষিণ দিকে লবণচরার মাথাভাঙ্গা এলাকার প্রায় ১০ একর জমির উপর খোলা জায়গায় চিংড়ির মাথা ও খোসা শুকানোর জন্য ৬/৭টি প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। খুলনার বিভিন্ন চিংড়ি প্রক্রিয়াজাত কারখানা ও রূপসা উপজেলার ছোট বড় চিংড়ি ডিপো থেকে নাম মাত্র মূল্যে এসব মাথা ও খোসা সংগ্রহ করে এখানে নিয়ে আসে। এরপর তা সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত রোদে শুকানো হয়। পরে কারখানায় মোড়কজাত করে চীনা ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করা হয়।
স্থানীয় এলাকাবাসীরা অভিযোগ করে বলেছেন, চিংড়ির পঁচা মাথা ও খোসার তীব্র দুর্গন্ধে আশপাশের বসতি, বিভিন্ন ফ্যাক্টরি, র্যাব কার্যালয়, নৌ-বাহিনীর স্কুল, ওহাব জুটমিলসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সব বয়সের নারী-পুরুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। এছাড়া রূপসা সেতু দিয়ে চলাচলকারী যানবাহনের যাত্রী সাধারণও এ কটু গন্ধ থেকে রেহাই পাচ্ছে না।
সম্প্রতি সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, পাকা চাতাল করে সেখানে মাথা ও খোসা শুকানো হচ্ছে। এই পঁচা মাথা ও খোসার তীব্র গন্ধ চারপাশের বিস্তৃর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে এবং পরিবেশ দূষণ হচ্ছে। ১৫/১৬ জন নারী-পুরুষ সেখানে কাজ করছে। আবার অনেকে বিভিন্ন এলাকা থেকে মাথা ও খোসা ড্রামে ভরে নৌকায় করে এখানে নিয়ে আসছেন।
এলাকাবাসীরা জানান, এভাবে খোলা জায়গায় শুকানোর ফলে তীব্র গন্ধে এলাকায় অসহনীয় পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। আশপাশের রাস্তা দিয়ে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়েছে। গত ছয় বছর ধরে চললেও গত দু’ বছর ধরে এই সমস্যা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।
চিংড়ি শুকানোর কাজে জড়িত শ্রমিক কালাম বলেন, এই খোসা দিয়ে মাছের খাবার তৈরি হয়। আবার বিদেশেও পাঠানো হয়। তবে এই মাথা ও খোসা চীনারা কিনে নেয় বলে শুনছি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে আলাপ করলে তারা বলেন, তাদের কাছে পরিবেশ অধিদফতরের কোন ছাড়পত্র নেই। এ কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের ভোগান্তি হচ্ছে। সে জন্য অচিরেই তারা এ স্থান ত্যাগ করে অন্যত্র সরে যাবেন বলেও জানান।
খুলনা পরিবেশ অধিদফতরের পরিচালক ড. মল্লিক আনোয়ার হোসেন বলেন, পরিবেশ অধিদফতরের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করে পরিবেশ বিনষ্টকারী ও এলাকার মানুষের জীবন অতিষ্ঠকারী অবৈধ চিংড়ির পঁচা মাথা ও খোসা শুকানো বন্ধ করতে প্রথমে জড়িতদের নোটিশ প্রদান করে। ২০১৪ সালের ডিসেম্বর মাসে নোটিশ দেওয়ার পর এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত লোকজন পরিবেশ অধিদফতরে লিখিতভাবে তা বন্ধ করার কথা জানান। কিন্তু তারা এই প্রক্রিয়া বন্ধ না করে আরো জোরেশোরে তা চালিয়ে যায়। পরে সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে শুকানোর কাজে জড়িত শ্রমিকের কয়েকজনকে আটক করে।
তিনি আরো জানান, যখন পরিবেশ অধিদফতর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, র্যাব নিয়ে অভিযান চালালে ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টাস অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ সামনে চলে আসেন এবং তারা শুকানোর এলাকা স্থানান্তর করার জন্য সময় প্রার্থনা করেন। কিন্তু পরিবেশ অধিদফতরের আইনগতভাবে সময় দেওয়ার কোন বিধান নেই। এই বিষয়টি নিষ্পত্তি করার লক্ষ্যে রোববার খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের দফতরে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে এক সভা আহ্বান করা হয়েছে। ওই সভায় এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে বলে পরিবেশ অধিদফতরের পরিচালক জানান।
আলমগীর হান্নান/এসএস/আরআইপি