শাহজাদপুর থানার ওসিকে আদালতের শোকজ
সাংবাদিক আব্দুল হাকিম শিমুল হত্যা মামলার জামিনপ্রাপ্ত আসামিদের গ্রেফতারের অভিযোগে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খাজা গোলাম কিবরিয়াকে শোকজ করেছে আদালত।
গতকাল সোমবার বিকেলে শাহজাদপুর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক হাসিবুল হক শোকজ আদেশ দেন।
সোমবার দুপুরে সাংবাদিক আব্দুল হাকিম শিমুল হত্যা মামলার জামিনপ্রাপ্ত আসামিরা আদালতে হাজিরা দিয়ে ফিরে যাওয়ার সময় পুলিশ আদালত চত্বর থেকে এসব জামিনপ্রাপ্ত আসামিদের গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারদের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রফিক সরকারের লিখিত অভিযোগে আদালত ওসিকে এই শোকজ করে।
মঙ্গলবার দুপুরে শাহজাদপুর থানা পুলিশের ওসি খাজা গোলাম কিবরিয়া আদালতে শোকজের লিখিত জবাব জমা দিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন শাহজাদপুর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারী নূর-ই-আলম সিদ্দিকী স্বপন।
তিনি বলেন, শাহজাদপুর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক হাসিবুল হক ছুটিতে থাকায় সিরাজগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক হাবিবুর রহমানের আদালতে মঙ্গলবার বিকেলেই উপস্থাপন করা হবে। এরপর তিনি পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে যে নির্দেশনা দেবেন সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নেয়া হবে।
সাংবাদিক আব্দুল হাকিম শিমুল হত্যা মামলার জামিনপ্রাপ্ত আসামিদের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রফিক সরকার বলেন, আমার মক্কেলরা আদালতে হাজিরা শেষে বাড়ি ফিরে যাওয়ার সময় শাহজাদপুর থানা পুলিশ তাদের গ্রেফতার করেছে মর্মে আদালতের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করি। এর প্রেক্ষিতে আদালত শাহজাদপুর থানার ওসিকে এ শোকজ করেছেন।
শাহজাদপুর থানার ওসি খাজা গোলাম কিবরিয়া জানান, সাংবাদিক আব্দুল হাকিম শিমুল হত্যা মামলার জামিনপ্রাপ্ত আসামিদের আদালত প্রাঙ্গণ থেকে গ্রেফতার করা হয়নি। তারা পৌর মেয়র হালিমুল হক মীরুর মুক্তি ও সাংবাদিক আব্দুল হাকিম শিমুলের প্রকৃত খুনিদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে সোমবার দুপুরে শাহজাদপুর পৌর শহরে একটি মিছিল বের করে। মিছিলটি শাহজাদপুর আদালত এলাকা থেকে মনিরামপুর ও দ্বারিয়াপুর বাজার হয়ে বিসিক বাসস্ট্যান্ডের দিকে যাওয়ার পথে মনিহার সিনেমা হল ও রামবাড়ি প্রগতি ক্লাবের কাছে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করে।
এতে ওই এলাকার জানমালের ক্ষতি সাধনের আশঙ্কা দেখা দেয়। তাই শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে শাহজাদপুর থানা পুলিশের একটি টহলদল তাদের কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনে।
এরপর জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। এ বিষয়টি উল্লেখ করে মঙ্গলবার দুপুরে সংশ্লিষ্ট আদালতের কাছে শোকজের লিখিত জবাব দেয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ২ ফেব্রয়ারি দুই গ্রুপের সংঘর্ষের সময় সাংবাদিক আব্দুল হাকিম শিমুল মাথায় গুলিবিদ্ধ হন। পরদিন তাকে বগুড়া থেকে ঢাকায় নেয়ার পথে মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় শিমুলের স্ত্রী মোছা. নুরুন্নাহার বাদী হয়ে মেয়র মীরুসহ ১৮ জনের নাম উল্লেখ করে শাহজাদপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মেয়র মীরু এখন এ মামালায় কারাগারে আটক রয়েছেন।
ইউসুফ দেওয়ান রাজু/এএম/আইআই