‘একঘরে’ থেকে মুক্তি পেল সেই দুই পরিবার

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি টাঙ্গাইল
প্রকাশিত: ১০:৩০ এএম, ০৪ নভেম্বর ২০১৭

টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার ডুবাইল গ্রামের সেই দুই পরিবার তিন মাসের ‘একঘরে’ জীবন থেকে মুক্তি পেয়েছে। ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্য ও মামলার বাদী শহিদুল ইসলাম শনিবার দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গত ৩১ অক্টোবর ‘তিন মাস ধরে ‘একঘরে’ দুই পরিবার’ শিরোনামে জাগোনিউজ২৪.কমে সংবাদ প্রকাশের পর ওই দিন বিকেলেই উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় মাতব্বররা অভিযুক্ত দুই পক্ষের লোকজন নিয়ে ডুবাইল দক্ষিণ পাড়া মসজিদে বৈঠক করে বিষয়টি মীমাংসা করে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ডুবাইল গ্রামের ইয়াসিন মিয়া (৫৩) নামক এক ব্যক্তি পুর্ব শত্রুতার জের ধরে খুন হন। ঘটনার পর নিহতের ছেলে শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে ওই গ্রামের ১২জনকে অভিযুক্ত করে দেলদুয়ার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর থেকেই হত্যা মামলা প্রত্যাহার করার জন্য চাপ দেয়া হয় বাদীকে। কিন্তু মামলা প্রত্যাহার না করায় ওই দুটি পরিবারকে তিন মাস ধরে ‘একঘরে’ করে রেখেছিল স্থানীয় কিছু মাতব্বররা।

পরিবার দুটির সঙ্গে গ্রামের কাউকে সম্পর্ক রাখতেও দেয়া হয়নি। মাতব্বরদের চাপে এলাকার দোকান-পাট থেকেও তাদের কাছে কোনো পণ্য বিক্রি করা হতো না। এ নিয়ে চরম হতাশা আর উৎকণ্ঠায় ছিল ওই দুটি পরিবার।

মীমাংসা বৈঠকে টাঙ্গাইল মডেল থানা পুলিশের (সদর সার্কেল) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গোবিন্দ্র চন্দ্র পাল, দেলদুয়ার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এস.এম. ফেরদৌস আহমেদ, দেলদুয়ার থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল ইসলাম, ডুবাইল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ইলিয়াস, দেলদুয়ার থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হান্নান, স্থানীয় ইউপি সদস্য কামরুল মিয়া এবং স্থানীয় মাতব্বরদের মধ্যে আব্দুর রহিম, জসিম, জালাল ভুইয়া, দেলোয়ার ভুইয়া, শাহআলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে ‘একঘরে’ পরিবারের সদস্য ও মামলার বাদী শহিদুল ইসলাম জানান, এখন তারা অনেকটাই স্বাভাবিক জীবন-যাপন করছেন। তবে বেশ কিছুদিন যাবৎ সমাজের মানুষগুলোর সঙ্গে কথোপকথোন বন্ধ থাকাসহ দোকানপাটে কেনাকাটা বন্ধ থাকায় একটু সমস্যা হচ্ছে।

আরিফ উর রহমান টগর/আরএআর/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।