ভালো ফলনেও রাঙ্গামাটিতে কাঁঠালের দাম চড়া


প্রকাশিত: ০৪:৩১ এএম, ০২ জুলাই ২০১৫

এবার মৌসুমেও কাঁঠালের বাম্পার ফলন হয়েছে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলায়। এখন স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত কাঁঠালে ভরপুর সদরসহ জেলার হাট-বাজারগুলো। সেখানকার উৎপাদিত কাঁঠাল স্থানীয় বাজার ছাড়িয়ে বাজারজাত হচ্ছে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায়। তবে ন্যায্য দাম মিলছে না বলে জানিয়েছেন চাষিরা।

বাগানচাষিরা এ কথা জানালেও পক্ষান্তরে ক্রেতারা বলছেন স্থানীয় ফল হিসেবে যে দামে কাঁঠাল পাওয়ার কথা তার চেয়ে অনেক চড়া দামে কিনতে হচ্ছে তাদের। অতি মুনাফা লাভের ফায়দা লুটতে এক ধরনের ফড়িয়াদের দৌরাত্ম্য এর মূল কারণ বলে জানান সাধারণ ক্রেতারা।

তারা বলেন, কৃষকরা বাজারে নিয়ে আসার আগেই ফরিয়াদের কব্জায় চলে যাচ্ছে সব কাঁঠাল। ফলে স্থানীয় বাজারে সরাসরি চাষিদের কাছ থেকে কাঁঠাল পাওয়া যাচ্ছে না। এতে কৃষকদেরও ন্যায্য দাম মিলছে না। আবার চাষিদের কাছ থেকে সরাসরি কাঁঠাল কিনতে গিয়েও ফড়িয়াদের বাঁধার মুখে পড়ছেন ভোক্তারা। মাঝখান থেকে অতি মুনাফা কামিয়ে বগল দাবাচ্ছেন ওইসব মধ্যসত্ত্বভোগী ফড়িয়া দালালরা। এসব নিয়ন্ত্রণ বা তদারকির জন্য কোনো কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ না থাকায় লোকসানের মুখে পড়েছেন স্থানীয়রা।  

স্থানীয় বাজার ঘুরে দেখা গেছে, রাঙ্গামাটি শহরের ট্রাক টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন কাঁঠাল বোঝাই প্রচুর গাড়ি দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হিসেব মতে, প্রতিদিন গড়ে ৪০-৫০টি কাঁঠাল বোঝাই গাড়ি রাঙ্গামাটি শহর ছেড়ে যাচ্ছে। কিন্তু প্রচুর উৎপাদন সত্বেও বাগান থেকে কাঁঠাল বাজারে নিয়ে যাওয়ার সময় পরিবহন খরচ ও বিভিন্ন ধরনের টোল পরিশোধসহ নানা খরচ মিটিয়ে কাঁঠালের পেছনে যে ব্যয় হচ্ছে সে তুলনায় ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাগানচাষিরা।

রাঙ্গামাটি কৃষি অধিদফতর সূত্র জানায়, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলায় এ বছর ২৭৫৫ হেক্টর জমিতে কাঁঠাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। আর হেক্টর প্রতি কাঁঠাল উৎপাদিত হচ্ছে ২৭ মেট্রিকটন। সে হিসেবে ৭৪ হাজার অধিক মেট্রিকটন কাঁঠাল উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে রাঙ্গামাটি জেলায়।

জেলার প্রায় সব উপজেলাতেই কাঁঠাল ভালো উৎপাদন হয়েছে। সবচেয়ে বেশি কাঁঠাল উৎপাদন হয়েছে নানিয়ারচর ও বুড়িঘাট এলাকায়। ব্যবসায়ীদের দেয়া তথ্য মতে, ফলের মৌসুমের তিন মাসে রাঙ্গামাটি জেলা থেকে শুধু জাতীয় ফল কাঁঠাল বেচাকেনায় লেনদেন হয় অন্তত ১৫ কোটি টাকা।

রাঙ্গামাটি মৌসুমী পণ্য ব্যবসায়ী সমিতির কোষাধ্যক্ষ মো. আবুল কাশেম জাগো নিউজকে জানান, এ বছর প্রচুর পরিমাণ কাঁঠাল উৎপাদন হয়েছে রাঙ্গামাটি জেলার বিভিন্ন এলাকায়। সমিতির সদস্যরা রাঙ্গামাটির কাঁঠাল দেশের বিভিন্ন স্থানে বাজারজাত করছেন।

তিনি জানান, প্রথম দিকে কাঁঠালের দাম একটু বেশি থাকলেও এখন সহনীয় পর্যায়ে। বর্তমানে শহরের স্থানীয় বাজারে একশো কাঁঠাল ৩-৪ হাজার টাকায় কেনা হচ্ছে।

এদিকে সাধারণ ক্রেতারা কাঁঠালের বেশি দাম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, কৃষকরা খুচরা বিক্রি না করায় ৩০-৪০ টাকার কাঁঠাল পাইকারদের কাছ থেকে কিনতে হচ্ছে ৭০-৮০ টাকায়। বড় আকারের কাঁঠালের দাম তো অনেক বেশি।

এমজেড/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।