শিকলে বেঁধে রাখা সেই ইউনুসকে ঘরে তুলে দিল প্রশাসন

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি যশোর
প্রকাশিত: ০১:১২ এএম, ২৩ নভেম্বর ২০১৭ | আপডেট: ০১:১৯ এএম, ২৩ নভেম্বর ২০১৭
শিকলে বেঁধে রাখা সেই ইউনুসকে ঘরে তুলে দিল প্রশাসন

মানসিক রোগী দাবি করে পুকুরপাড়ে শিকলে বেঁধে রাখা যশোরের মণিরামপুরের মাছনা গ্রামের ইউনুস অবশেষে মুক্ত হয়েছেন। বুধবার রাতে ইউএনও এবং ওসি তাকে শিকলমুক্ত করে ঘরে তুলে দেন। এই কারণে ভীষণ খুশি ইউনুস। একই সঙ্গে গ্রামবাসীও।

বুধবার রাত ৮টার দিকে মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ ওবায়দুর রহমান, থানার অফিসার কর্মকর্তা (ওসি) মোকাররম হোসেন ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান গাজী মোহাম্ম আলী ইউনুস আলীর বাড়িতে যান। তখনো ইউনুস আলী পুকুরপাড়ের বাগানে শিকল বাঁধা অবস্থায় ছিলেন।

পরে ইউনুস আলীকে শিকল মুক্ত করে নিজ ঘরে তুলে দেয়া হয়। প্রশাসনের কর্মকর্তারা ওই বাড়িতে আসার সাথে সাথে কয়েকশ’ গ্রামবাসী ইউনুস আলীর বাড়িতে উপস্থিত হন। উপস্থিত গ্রামবাসী এ অমানবিক ঘটনার জন্য ইউনুস আলীর স্ত্রী-পুত্রবধূকে ভর্ৎসনা করেন।

উল্লেখ্য, উপজেলার মাছনা মুনসিপাড়া গ্রামের মৃত ফজলু বিশ্বাসের ছেলে ইউনুসকে (৫৫) দীর্ঘ ৫ মাস ধরে বাড়ির পাশে পুকুরপাড়ে একটি গাছের সাথে শিকলে বেঁধে রাখা হয়েছিল। ঝড়-বৃষ্টি-রোদ প্রকৃতির এই দুর্যোগ সহ্য করে তাকে দিনরাত এখানেই কাটাতে হয়েছে। তার স্ত্রী আকলিমা ও ছেলে ইয়াকুব বিল্লাহ এ অমানবিক ঘটনা ঘটায়।

jj

তাদের অভিযোগ, মানসিক প্রতিবন্ধী ইউনুস বাড়ির লোকজনদেরকে মারপিট করে ভাঙচুর করত। এই জন্য তাকে পুকুরপাড়ে গাছের সাথে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। সেখানে তাকে খাবার দিলে সেই খাবার ইউনুস খেত না বলে তাকে খেতে দেয়া হতো না। তবে ইউনুসের মা রোকেয়া বেগম গোপনে খাবার দিলে সেই খাবার সে খেত। এনিয়ে মঙ্গলবার জাগো নিউজ এবং বুধবার বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়।

এদিকে, অমানবিক এই খবর প্রকাশিত হলে মানবিকতায় এগিয়ে আসেন ইউএনও এবং ওসি। তারা রাত ৮টায় পৌঁছান ইউনুসকে শিকল বন্দী করে রাখা সেই পুকুরপাড়ে। স্থানীয় চেয়ারম্যান গাজী মোহাম্মদ, এসআই জহির রায়হান, মেম্বর ইদ্রিস আলী, মানবাধিকারকর্মী মামুনুর রশিদ লাল্টু প্রমুখের উপস্থিতিতে ইউএনও এবং ওসি ইউনুসকে শিকলমুক্ত করে নিয়ে যান তার পাকাবাড়িতে।

সেখানে থাকা তিনটি ঘরের মধ্যে একটি ঘরে ইউনুসকে রেখে স্থানীয় চেয়ারম্যান, মেম্বর ও চৌকিদারকে দায়িত্ব দেন তার দেখভালের। তাৎক্ষণিকভাবে ইউএনও ঘোষণা করেন ইউনুসের নামে একটি প্রতিবন্ধী ভাতা কার্ড করে দেয়া হবে। পরিবারের সকলকে বলে আসেন এই বাড়িতে ইউনুসের জন্য একটি নতুন ঘর তৈরি করে সেখানে তাকে রাখতে হবে এবং তার সাথে ভালো ব্যবহারসহ তার খাওয়া পরা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।

jj

ইউনুসের বোন হাজিরাসহ স্থানীয়রা এ সময় ইউএনও এবং ওসিকে অভিযোগ করে বলেন, ইউনুসের স্ত্রী আকলিমা ও ছেলে ইয়াকুব বিল্লাহর অমানবিক এই ঘটনার জন্য দায়ী। তাদের শাস্তিও দাবি করা হয়।

এদিকে প্রশাসন এ ব্যবস্থা নেয়ায় গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি ইউনুস কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি সকলের উপস্থিতিতে বলেন, শিকলবন্দি দশা থেকে সে মুক্ত হওয়ায় ভীষণ খুশি। পরিবারের লোকদের মারপিট ও ভাঙচুর করার অভিযোগ সত্য নয় বলে তিনি দাবি করেন।

মিলন রহমান/বিএ