আলুর বস্তা ১০০ টাকা!

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি দিনাজপুর
প্রকাশিত: ১২:৩৯ পিএম, ২৯ নভেম্বর ২০১৭ | আপডেট: ১২:৫৯ পিএম, ২৯ নভেম্বর ২০১৭
আলুর বস্তা ১০০ টাকা!
আগাম জাতের নতুন আলু বাজারে আসায় পুরাতন আলুর দাম কমেছে। দিনাজপুরের কাঁচা বাজার থেকে তোলা নতুন আলুর ছবি।

দিনাজপুরে চলতি মৌসুমের আগাম জাতের নতুন আলু বাজারে এসেছে। খুচরা বাজারে এসব আলু ৫০ টাকা থেকে ৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। আমদানি বেশি হওয়ায় নতুন আলুর দামও অন্যান্য বছরের তুলনায় কম। এবার দিনাজপুরে ১০ হাজার হেক্টর জমিতে আগাম জাতের আলুর চাষ হয়েছে।

এদিকে, এ সময়ের মধ্যে হিমাগার থেকে আলু উত্তোলন শেষ হয়ে গেলেও দিনাজপুরের হিমাগারগুলোতে লাখ লাখ বস্তা আলু পড়ে আছে। আলু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন দিনাজপুরের কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। সেই সঙ্গে বিপাকে পড়ার আশঙ্কা করছেন হিমাগারের মালিকরাও। ফলে আলুর বস্তা ১০০ টাকা দরে বিক্রির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

দিনাজপুরের বাজারে উঠা নতুন আলুর মধ্যে গ্যানোলা জাতের আলু খুচরা বাজারে ৪০ টাকা ও দেশি আলু ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অপরদিকে পুরনো আলু খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে প্রকারভেদে ১০ টাকা থেকে ১৫ টাকায়। পুরনো আলুতে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের লোকসান গুণতে হচ্ছে কমপক্ষে ৮ টাকা।

dinajpore-patato

দিনাজপুরের কাঁচা বাজার থেকে তোলা নতুন আলুর ছবি।

দিনাজপুরের ১৩টি হিমাগারে ১ লাখ ১১ হাজার ৪২০ মেট্রিক টন আলু মজুদ করেছে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। এ সময়ের মধ্যে জমির সব আলু উত্তোলন করে ফেলার কথা। অথচ জমির অর্ধেক আলুও উত্তোলন করা হয়নি। ফলে এসব আলু এখন চাহিদা মতো বাজারে বিক্রিও হচ্ছে না।

দিনাজপুর জেলা কৃষি অধিদফতরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আব্দুস সামাদ জানান, গত মৌসুমে জেলায় আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪৩ হাজার হেক্টর জমিতে। উৎপাদন হওয়ার কথা ৮ লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন। তবে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে চাষ হয়েছিল ৪৮ হাজার ৯১৪ হেক্টর জমিতে। উৎপাদন হয়েছে ৯ লাখ ৮৫ হাজার ৬১৭ মেট্রিক টন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্র মতে, জেলায় সরকারি-বেসরকারি মিলে ১৩টি হিমাগার রয়েছে। এসব হিমাগারে আলু সংরক্ষণ ধারণক্ষমতা রয়েছে ১ লাখ ১১ হাজার ৪২০ মেট্রিক টন।

dinajpore-patato

দিনাজপুরের কাঁচা বাজার থেকে তোলা নতুন আলুর ছবি।

জেলার কাহারোল উপজেলার ৬নং রামচন্দ্রপুর বলরামপুর শুকান দিঘি গ্রামের কৃষক আব্দুল্লাহ জানান, তিনি চলতি মৌসুমে ১০ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছেন। আলু যখন জমি থেকে সংগ্রহ করা হয়, তখন বাজারে দাম ছিল প্রতি বস্তা ৯০০ থেকে এক হাজার টাকা। কিন্তু বর্তমানে বাজারে প্রতি বস্তা আলু বিক্রি হচ্ছে ৯০০ থেকে ৯৭০ টাকা। আলু মজুদ করতে হিমাগার ভাড়া দিতে হয়েছে বস্তা প্রতি ৩৬০ টাকা। ফলে বস্তা প্রতি ৩৯০ টাকাসহ পরিবহন ভাড়া লোকসান গুণতে হচ্ছে।

বিরল উপজেলার মাঝাডাঙ্গা গ্রামের খায়রুল ইসলাম জানান, বাজারে আলুর দাম না থাকায় গত মৌসুমে হিমাগারে রাখা আলু তিনি এখনও তুলেননি। আর তুলবেন কি-না তাও ভাবতে পারছেন না। কারণ নতুন আলু বাজারে এসে গেছে।

অপরদিকে, হোলেন্ড জাতের আলু খেত থেকে ১০ থেকে সাড়ে ১০ টাকা ও দেশি জাতের আলু কিনেছেন ১২ টাকা দরে। সেই আলু পরিবহন ও হিমাগারে রাখা নিয়ে খরচ পড়েছে প্রকার ভেদে ১৪ টাকা থেকে ১৬ টাকা। আর বর্তমান বাজারে পুরাতন হোলেন্ড জাতের আলু বিক্রি করতে হচ্ছে ৬ টাকায় আর দেশি আলু বিক্রি করতে হচ্ছে ৮ টাকায়। কেজিতে লোকসান গুণতে হচ্ছে ৮ টাকা। তাই আলু তুলছেন না কৃষক ও ব্যবসায়ীরা।

dinajpore-patato

দিনাজপুরের কাঁচা বাজার থেকে তোলা নতুন আলুর ছবি।

জেলার বীরগঞ্জ উপজেলার হিমাদ্রী হিমাগারের ব্যবস্থাপক নুর নবী জানান, তাদের হিমাগারটিতে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার বস্তা আলুর ধারণক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত মাত্র ৪৩ হাজার বস্তা আলু উত্তোলন করেনি কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। অথচ আগাম জাতের আলু বাজারে চলে এসেছে। এ অবস্থায় দ্রুত পুরনো আলু বিক্রি না হলে ২০১৩ সালের মতো ১শ’ দেড়শ টাকা বস্তা আলু বিক্রি করতে হবে। এ আশঙ্কায় রয়েছেন তারা।

তিনি বলেন, এ অবস্থায় হিমাগার মালিকদের মাথায় হাত পড়েছে। কারণ আলুর জন্য আগাম ঋণ দেয়া আছে। আলু উত্তোলন না হলে এ ঋণ তুলতে পারবেন না তারা। আবার দীর্ঘদিন আলু হিমাগারে থাকলে বিদ্যুতের বিল বাড়বে।

দিনাজপুর শহরের সবচেয়ে বড় কাঁচা বাজার বাহাদুর বাজরের কাঁচা মাল ব্যবসায়ী মাজেদুর রহমান বলেন, নতুন আলু পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা। আর খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি। চাহিদাও ভালো। তবে পুরনো আলুর চাহিদা কমেছে।

এমদাদুল হক মিলন/এএম/জেআইএম