লাউ গাছ কেটে শত্রুতা!

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশিত: ০৬:২৯ এএম, ৩০ নভেম্বর ২০১৭

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় গোষ্ঠীগত বিরোধের জেরে এক কৃষকের ২৬ শতাংশ জমিতে লাগানো লাউ গাছের গোড়া কেটে দেয়া হয়েছে। এতে দেড় লাখ টাকারও বেশি ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই আশরাফপুর গ্রামের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে দাঙ্গা-হাঙ্গামা চলে আসছে। ওই গ্রামের নিরীহ কৃষক হানিফ মিয়া সাববাড়ি গোষ্ঠীর। এই গোষ্ঠীর সঙ্গে একই গ্রামের মেম্বারবাড়ি গোষ্ঠীর লোকদের দাঙ্গা-হাঙ্গামা, মামলা-পাল্টা মামলা চলছে বেশ কদিন ধরেই। তবে এ দাঙ্গার সঙ্গে কৃষক হানিফ মিয়া জড়িত নন। পৈতৃক জমিতে ১২ মাস ফসল ফলিয়েই জীবিকা নির্বাহ করেন তিনি।

কিন্তু গোষ্ঠীগত বিরোধের জেরে গত সোমবার (২৭ নভেম্বর) রাতে তার ২৬ শতক জমিতে লাগানো ৩২টি ফলন্ত লাউ গাছের গোড়া কেটে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এতে তার দেড় লাখ টাকারও বেশি ক্ষতি হয়েছে। গোষ্ঠীগত এ বিরোধে বিদ্বেষের শিকার হয়ে এখন পথে বসার উপক্রম হয়েছে কৃষক হানিফ মিয়ার।

এ ঘটনার দুদিন আগে স্থানীয় বাজারে চারটি লাউও বিক্রি করেছিলেন তিনি। কিন্তু মঙ্গলবার সকালে লাউয়ের জমির মাঁচার ভেতরে গিয়ে প্রতিটি গাছের গোড়া কাটা দেখতে পান হানিফ মিয়া।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক হানিফ মিয়া জানান, জমি চাষের আয় দিয়েই ছয় মেয়ের মধ্যে চার মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। গেল বছর এক মেয়েকে বিয়ে দিয়ে তিন লাখ টাকা ঋণগ্রস্ত হয়েছেন। এবার লাউ বিক্রি করে ধারদেনা মেটাবেন এমন স্বপ্ন যখন দেখছিলেন তখনই শত্রুতা করে গাছগুলো কেটে ফেলা হয়েছে।

কৃষক হানিফ মিয়ার অভিযোগের সূত্র ধরে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তবে ঘটনার তিন দিনেও পুলিশ কাউকে আইনের আওতায় আনতে পারেনি।

কৃষক হানিফ মিয়ার প্রতিবেশী আফজাল হোসেনের স্ত্রী সুবর্ণা আক্তার বলেন, সন্তানের মতো কষ্ট করে গাছগুলোকে ফলন উপযুক্ত করা হয়েছিল। এ অবস্থায় এতগুলো গাছ কেটে ফেলা কী করে সম্ভব? গাছের সঙ্গে এমন শত্রুতা করতে পারে মানুষ?

আশরাফপুর গ্রামের অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল মজিদ বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ সদস্যরা সরেজমিন ঘুরে দেখেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে এ বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আজিজুল সঞ্চয়/এফএ/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :