প্রেমের অপবাদ, তরুণীর গোপনাঙ্গে রড দিয়ে আঘাত
শরীয়তপুর জেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিবেশী এক ছেলের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের অপবাদ দিয়ে এক তরুণীকে বেধড়ক মারধর ও গোপনাঙ্গে রড দিয়ে খুঁচিয়ে জখম করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর থানার সখিপুর বাজার ছৈয়ালকান্দি গ্রামে রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ওই সময় তরুণীর মাকেও বেধড়ক মারধর করা হয়। মা-মেয়ে দু’জনই শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
আহত তরুণী উপজেলার সখিপুর থানার সখিপুর বাজার ছৈয়ালকান্দি গ্রামের বাবুল দেওয়ানের মেয়ে। তিনি দুই বছর ধরে সৌদি আরবে গৃহকর্মীর কাজ করছেন।
সখিপুর থানা পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, উপজেলার সখিপুর থানার সখিপুর বাজার ছৈয়ালকান্দি গ্রামের বাবুল দেওয়ানের সঙ্গে চাচাতো ভাই মালেক দেওয়ান ও সুমন দেওয়ান গংদের দীর্ঘদিন জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলছে।
এ ঘটনা নিয়ে এলাকায় একাধিকবার সালিশ হয়। একই গ্রামের বুলবুল সরদার মালেক দেওয়ানদের পক্ষ নিয়ে বিরোধীয় জমি কিনতে চায়। কিন্তু এতে ওই তরুণীর পরিবার রাজি হয়নি।
গত বৃহস্পতিবার (২৮ ডিসেম্বর) ওই তরুণী সৌদি আরব থেকে ছুটিতে বাংলাদেশের নিজ গ্রামে আসেন। সৌদি থেকে আসার পর বাবা-মার থাকার জন্য সেই জমিতে তিনতলা একটি বাড়ির কাজ শুরু করেন তিনি। তখন ওই তরুণীর পরিবার থেকে ২ লাখ টাকা দাবি করেন বুলবুল সরদার।
২ লাখ টাকা না দেয়ায় তরুণীর সঙ্গে বুলবুল সরদারের শ্যালক আরিফ দেওয়ানের প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে বলে অপবাদ দেয় বুলবুল সরদার ও তার স্ত্রী মনি আক্তার।
এ ঘটনায় রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে তরুণী ও তার মা জোসনা বেগম নিজেদের ঘরে বসে কথা বলছিলেন। এ সময় বুলবুল সরদার ও তার স্ত্রী মনি বেগম লোকজন নিয়ে ঘরে ঢুকে সুমির বাবা বাবুল দেওয়ানকে মারার জন্য খোঁজাখুঁজি করে। তাকে না পেয়ে তারই কন্যা সৌদি প্রবাসী তরুণী সুমি আক্তারকে বেধড়ক মারধর করে।
একপর্যায়ে হামলাকারীরা সুমি আক্তারের গোপনাঙ্গে রড দিয়ে খুঁচিয়ে মারাত্মক জখম করে। এ সময় সুমির মা তাকে রক্ষা করার জন্য এগিয়ে গেলে তাকেও পিটিয়ে আহত করা হয়।
সোমবার সকালে সুমির কাকি হালিমা বেগম ও স্থানীয় লোকজন মা-মেয়েকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন।
আহত সুমি আকারের মা জোসনা বেগম বলেন, আমরা বাড়িতে একটি বিল্ডিং নির্মাণ করছি। এ কারণে বুলবুল সরদার ও মালেক দেওয়ান দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা দিতে রাজি না হলে তারা আমার মেয়ে সুমিকে ও আমাকে মারধর করে। এ সময় রড দিয়ে আমার মেয়ের গোপনাঙ্গে খুঁচিয়ে মারাত্মক জখম করে তারা। আমি এর বিচার চাই।
এ ব্যাপারে সদর হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট সাজেদা খাতুন বলেন, সুমির গোপনাঙ্গসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তার চিকিৎসা চলছে।
এ ব্যাপারে সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. শেখ মো. এহসানুল ইসলাম বলেন, সুমি নামে একটি মেয়ে সোমবার দুপুরে হাসপাতালে ভর্তি হয়। সুমির শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
সখিপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মঞ্জুরুল হক আকন্দ বলেন, ঘটনাটি শুনে ঘটনাস্থলে যাই। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার থানায় মামলা করতে আসলে মামলা নেয়া হবে।
মো. ছগির হোসেন/এএম/আরআইপি