জয়পুরহাট আওয়ামী লীগে অভ্যন্তরীণ কোন্দল

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি জয়পুরহাট
প্রকাশিত: ০৮:৩১ পিএম, ১৮ জানুয়ারি ২০১৮

জয়পুরহাট জেলা আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের ধরে চলছে বহিষ্কার-পাল্টা বহিষ্কারের মতো ঘটনা। সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বাধীন জেলা আওয়ামী লীগের একটি অংশের নেতারা অপর গ্রুপের ৩ নেতাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেন।

এর জেরে এ অংশের নেতা জয়পুরহাট জেলা চেয়ারম্যান ফোরামের সভাপতি জেলার পাঁচবিবি উপজেলার আয়মা ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদুল আলম বেনুকেও ফোরাম থেকে বহিষ্কার করে সংখ্যাগরিষ্ঠ আওয়ামী লীগ সমর্থিত ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের নেতৃত্বাধীন অংশের চেয়ারম্যানরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলা আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল বর্তমানে প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। এর এক অংশের নেতৃত্বে রয়েছেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জয়পুরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন।

অপর অংশের নেতৃত্বে আছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জয়পুরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সামছুল আলম দুদু এবং সাধারণ সম্পাদক এস এম সোলায়মান আলী।

দীর্ঘদিন ধরে উভয় গ্রুপ পৃথক পৃথকভাবে দলীয় কর্মসূচি পালন করে আসায় তাদের মধ্যে কোন্দল জনসম্মুখে চলে আসে। সম্প্রতি এ কোন্দল চরমে ওঠায় বিভিন্ন অজুহাতে এ বহিষ্কার-পাল্টা বহিষ্কারের ঘটনা চলছে বলে পরষ্পরবিরোধী অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৩ জানুয়ারি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বাধীন অংশের নেতারা কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক গ্রুপের নেতা বলে পরিচিত জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও কালাই উপজেলা চেয়ারম্যান মিনফজুুর রহমান মিলন, তার চাচা জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও পুনট ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুস ফকির এবং অপর সদস্য ও মাত্রাই ইউপি চেয়ারম্যান আ ন ম শওকত হাবিব তালুকদার লজিককে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেন।

তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, মিনফজুুর রহমান মিলনের পিতামহ ও আব্দুল কুদ্দুস ফকিরের বাবা মোহাম্মদ আলী ফকির এবং অপর সদস্য আ ন ম শওকত হাবিব তালুকদার লজিকের বাবা আজহারুল ইসলাম তালুকদার ছিলেন একাত্তর সালের রাজাকার ও শান্তি কমিটির সদস্য।

বহিষ্কারের জেরে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জয়পুরহাট পৌর মিলায়তনে ফোরামের জরুরি সভায় সংগঠনটির সভাপতি জেলার পাঁচবিবি উপজেলার আয়মা-রসুলপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাহিদুল আলম বেনুকে বহিষ্কার করেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক গ্রুপের সংখ্যাগরিষ্ঠ চেয়ারম্যানরা।

এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক গ্রুপের নেতা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, দোগাছী ইউপি চেয়ারম্যান ও চেয়ারম্যান ফোরামের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম জানান, জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ তাদের মাত্র কয়েকজন নেতা আমাদের যে ৩ জন নেতাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা অগণতান্ত্রিক।

জয়পুরহাট-২ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন যাতে আগামী জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়ন না পান আর মনোনয়ন পেলেও যাতে নির্বাচিত হতে না পারেন সে উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ ওই ৩ নেতাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

অন্যদিকে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম সোলায়মান আলী জানান, যাদের মেম্বার হওয়ার যোগ্যতা ছিল না তাদের বিনা ভোটে চেয়ারম্যন করা হয়েছে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের নির্দেশে। তারাই ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে জনগণের ভোটে নির্বাচিত চেয়ারম্যানকে ফোরাম থেকে বহিষ্কার করেছে। যদিও বহিষ্কারের ক্ষমতা নেই তাদের।

রাশেদুজ্জামান/এএম/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :