গাজীপুরে ইজিবাইক চালক হত্যায় ৭ জনের কারাদণ্ড

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি গাজীপুর
প্রকাশিত: ০১:৫৬ পিএম, ২২ জানুয়ারি ২০১৮

গাজীপুরের কালীগঞ্জে ইজিবাইক চালক আব্দুল হামিদকে হত্যার দায়ে বাবা-ছেলেসহ সাত জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার সকালে গাজীপুরের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক একেএম এনামুল হক রায় দিয়েছেন।

দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে একটি ধারায় গাজীপুরের কালীগঞ্জের বড়নগর গ্রামের মো. আঙ্গুর খানের ছেলে মো. মাসুমকে (২৮) যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। অপর ধারায় মাসুমসহ তার বাবা আঙ্গুর খান (৫০), বড়ভাই সুমন (২৫) ও ছোট ভাই মো. রজন (২২) এবং একই এলাকার নজরুল ইসলামের ছেলে মজিবুর রহমান ওরফে মজিব ওরফে মজিবুল হক (২৪), আকবর আলী (৫৪) এবং ছেলে মো. হৃদয়কে (২০) পাঁচ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং দুই হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে এক মাস করে সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

গাজীপুর আদালতের পিপি হারিছ উদ্দিন আহম্মদ মামলার বরাত দিয়ে জানান, ২০১৫ সালের ৮মার্চ সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কালীগঞ্জ উপজেলার চান্দাইয়া গ্রামের একটি রাস্তার পাশে স্থানীয় বড়নগর এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রহমানের ছেলে আব্দুল হামিদ ইজিবাইক চালানোর সময় পেছন দিক থেকে আসামি আঙ্গুর খানের অটোরিকশাটি ধাক্কা দেয়। এ নিয়ে হামিদ এবং আঙ্গুরের মধ্যে বিবাদ ও মারামারি হয় এবং আঙ্গুর হামিদকে জীবননাশের হুমকি দিয়ে চলে যান।

এ ঘটনার পরে হামিদ কয়েকজনকে নিয়ে বিষয়টি মীমাংসার জন্য গেলে বাড়ির সামনের রাস্তায় আঙ্গুর তার লোকজন নিয়ে রড ও লাঠিসোটা দিয়ে হামিদের ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে মাসুম পেছন থেকে লোহার হ্যামার দিয়ে হামিদের মাথার পেছনে আঘাত করে মাটিতে ফেলে দেয় এবং হামিদের কাছে থাকা টাকা ও মোবাইল ফোন নিয়ে চলে যায়। পরে এলাকাবাসী হামিদকে উদ্ধার করে প্রথমে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে অবস্থার অবনতি হলে ধানমন্ডি জেনারেল ও কিডনী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১১ মার্চ রাত ৮টার দিকে হামিদ মারা যান।

এ ঘটনায় পরদিন তার স্ত্রী মোসা. আউলিয়া বেগম বাদী হয়ে কালীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে এসআই তরিকুল ইসলাম দীর্ঘ তদন্তের পর সাতজনকে অভিযুক্ত করে ২০১৫ সালের ২২ সেপ্টেম্বর আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। আদালত ১১ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে সোমবার এ রায় দেন। এ সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রপক্ষে পিপি হারিছ উদ্দিন আহম্মদ এবং আসামিপক্ষে মো. হুমায়ুন কবির ও মো. কাউসার সিকদার মামলাটি পরিচালনা করেন।

আমিনুল ইসলাম/আরএআর/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :