আহতদের বর্ণনায় উঠে এসেছে দুর্ঘটনার লোমহর্ষক কাহিনী


প্রকাশিত: ০৯:৩১ এএম, ২০ জুলাই ২০১৫

ঈদের কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ। তেমন কোনো কাজও নেই। এই ফাঁকে বাড়তি কিছু আয় হলে ক্ষতি কি। এই ভেবে চার বন্ধু মিলে দিনাজপুর থেকে চট্রগ্রাম পাড়ি জমায় বাড়তি আয়ের আশায়। তারা চট্রগ্রামের ভাটিয়ানী ফুটুলিয়ন গার্মেন্টেসে কাজ শুরু করেন। তিনদিন কার্টুন প্যাকেজিং এর কাজ করে তারা বেশ আয়ও করেন।

এরই মাঝে কেটে যায় ঈদ। চার বন্ধু মিলে আনন্দেই সেখানে ঈদ করেন। শনিবার রাতে চট্রগ্রাম থেকে সাব্বির পরিবহনে চেপে বসেন বাড়ি ফেরা জন্য। ঈদ পরবর্তী দিনগুলো পরিবারের সাথে উৎযাপন করা যাবে। কিন্তু সব কিছু মাটি করে দিয়েছে সিরাজগঞ্জের মুলিবাড়িতে দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ।

কথাগুলো বলছিলেন সিরাজগঞ্জের মুলিবাড়ীতে দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত দিনাজপুর জেলার আমিরুল ইসলাম। তিনি আরো জানালেন, সেসহ চান মিয়া, বিপ্লব ও অন্তত চট্টগ্রাম গিয়েছিলেন বাড়তি আয়ের জন্য। কিন্তু বাড়ি ফেরার সময় দুটি বাসের সংঘর্ষে তার সব কিছু ওলট পালট হয়ে গেছে। জ্ঞান ফিরে দেখতে পান তিনি সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল বেডে শুয়ে রয়েছেন। অন্য বন্ধুদের মধ্যে বিপ্লব মারা গেছে বলে তিনি জানেন। তবে অন্য আরো দুই বন্ধু কোথায় আছে তিনি তা বলতে পারেন না।

অপরদিকে কুমিল্লা জেলার বড়রা গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে আব্দুল করিম জানালেন, প্রচুর ভীড়ের কারণে তিনি ঈদের আগে বাসের টিকিট পাননি। তবে ঈদের পরের দিন তিনি সাব্বির পরিবহনে টিকিট পেয়ে কুমিল্লা থেকে মেয়ে, শাশুড়ি ও ভাইরার ছেলেকে নিয়ে বগুড়ার সোনাতলা যাচ্ছিলেন। বঙ্গবন্ধু সেতুর পরেই এই দুর্ঘটনাটি ঘটার সময় তিনি কিছুই বুঝতে পারনেনি।

 জ্ঞান ফিরে তিনি দেখতে পান ভাইরার ছেলেটি তাকে টেনে বের করছে। তার আগেই মেয়েকে বের করছে সে। পরবর্তীতে দেখতে পান শাশুড়ি বাসের মধ্যেই অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে রয়েছেন। পুলিশ ও দমকল বাহিনীর সদস্যরা তাদের উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। এখনও শাশুড়ির অবস্থা ভালো নয় বলে তিনি জানালেন।

রংপুরের বদরগঞ্জের জয়দেব কুমার জানালেন, তিনি সাব্বির পরিবহনের সামনের দিকেই ছিলেন। চট্রগ্রাম থেকে বাসটি ছাড়ার পর বেশ কয়েকবার বাস বন্ধ হয়ে যায়। কোনো ত্রুটির কারণে মাঝে মধ্যেই বাসটি সড়কের ডান দিকে চলে যাচ্ছিল। দুর্ঘটনার আগ মুহূর্তে বাসটি সড়কের ডাক দিকে চলে যাওয়ার কারণেই এই মারাত্মক দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। এই দুর্ঘটনার জন্য সাব্বির পরিবহনের চালকই আসলে দায়ী।

উল্লে­খ্য, রোববার ভোরে বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিমপাড় সিরাজগঞ্জের মুলিবাড়িতে দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে চালকসহ অন্তত ১৭ যাত্রী নিহত ও অর্ধশতাধিক যাত্রী আহত হয়। সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা আহত যাত্রীরা তাদের দুর্ঘটনার সময়ের নানা ঘটনার বর্ণনায় এ সকল কথা বলেন।

বাদল ভৌমিক/এসএস/এমআরআই

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।