মির্জাপুরে ১৫ দিন ধরে ৫৪ ক্লিনিক বন্ধ, ভোগান্তি চরমে

উপজেলা প্রতিনিধি মির্জাপুর (টাঙ্গাইল)
প্রকাশিত: ০৪:০৫ পিএম, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

বর্তমান সরকার গ্রামের নিম্নআয়ের সাধারণ মানুষের সেবা নিশ্চিত করতে গ্রামীণ চিকিৎসাসেবা কমিউনিটি ক্লিনিক চালু করেছে। ইতোমধ্যে গ্রামীণ চিকিৎসাসেবাকে অনেকটা এগিয়ে নিয়ে গেছে।

ক্লিনিকগুলো থেকে প্রতি মাসে প্রায় ২৮ থেকে ৩০ হাজার রোগী চিকিৎসাসেবা নিয়ে থাকেন। রোগীদের মধ্যে প্রায় ৩০ প্রকার ওষুধ বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়।

কিন্তু হঠাৎ কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডাররা চাকরি জাতীয়করণের দাবিতে আন্দোলন শুরু করায় ২০ জানুয়ারি থেকে গ্রামের মানুষ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অন্যতম স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর হাতের নাগালে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে সারাদেশের ন্যায় টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় ৫৪টি কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের পর সরকার জনবল, চিকিৎসক নিয়োগ ও ওষুধ সরবরাহ শুরু করে। এরপর ক্লিনিকগুলোতে শুরু হয় স্বাস্থ্যসেবা।

গত ২০ জানুয়ারি থেকে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ওয়ার্ড পর্যায়ের কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো বন্ধ রয়েছে। ক্লিনিকে কর্মরত হেলথ কেয়ার প্রোভাইডাররা চাকরি জাতীয়করণের দাবিতে ক্লিনিক বন্ধ রেখে আন্দোলন করছেন। ফলে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা গ্রামের শত শত রোগী পড়েছেন চরম বিপাকে।

মির্জাপুর পৌর এলাকার কাণ্ঠালিয়া কমিউনিটি ক্লিনিকের পাশের মুদি দোকানদার হাকিম মিয়া বলেন, গত ১৫ দিন ধরে ক্লিনিক বন্ধ রয়েছে। প্রতিদিন সকালে ২০/২৫ জন শিশু, বৃদ্ধ নারী ও পুরুষ রোগী এসে ক্লিনিক বন্ধ দেখে ফিরে যাচ্ছে। ক্লিনিক বন্ধ থাকায় রোগীদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

উপজেলার ভাতগ্রাম ইউনিয়নের বাগজান গ্রামের চান মিয়া, দিপ্তী রায়, উজালা রায় ও দুল্যা বেগম গ্রামের আব্দুর রহমান বলেন, গত দুই সপ্তাহ ধরে ক্লিনিকে বন্ধ রয়েছে। তবে খোলা থাকলে গ্রামের মানুষ কিছুটা উপকার পেয়ে থাকে।
ক্লিনিকগুলোতে সপ্তাহে একদিন ইপিআই ক্যাম্প, একদিন স্যাটেলাইট ক্যাম্প এবং প্রতিদিন যক্ষা, পুষ্টিহীনতা ও গর্ভবতী মায়েদের প্রাথমিক চেকআপ করা হয়।

Mirzapur1

কাণ্ঠালিায় কমিউনিটি ক্লিনিকের প্রোভাইডার ফারহানা হক, উয়ার্শীর রুবেল মিয়া, মহেড়ারর মঞ্জুরুল ইসলাম রিয়াদ, হাট ফতেপুরের মাসুদ রানা, আজগানার সুমন মিয়া বলেন, ২০১৩ সালে সরকার আমাদের চাকরি জাতীয়করণের আশ্বাস দিয়ে চিঠি দিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। চাকরি জাতীয়করণের দাবিতে ২০ জানুয়ারি থেকে ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত সারাদেশে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে, ২৩ জানুয়ারি থেকে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়।

এছাড়া স্থানীয় এমপি, জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেয়া হয়েছে।

২৭ জানুয়ারি থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। চাকরি জাতীয়করণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলেও তারা জানান।

উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শাহরিয়ার সাজ্জাদ বলেন, ক্লিনিক বন্ধ থাকার খবর আমার জানা নেই। আগামীকাল অফিসে গিয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত সাদমীন বলেন, কমিউনিটি ক্লিনিকে কর্মরত হেলথ কেয়ার প্রোভাইডাররা চাকরি জাতীয়করণের দাবিতে আন্দোলন করছে। ক্লিনিক বন্ধ থাকার বিষয়টি আমাকে কেউ অবহিত করেনি। খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এস এম এরশাদ/এএম/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :