নেত্রকোনায় একজনের মৃত্যুদণ্ড, দুইজনের যাবজ্জীবন

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি নেত্রকোনা
প্রকাশিত: ০৮:২৬ পিএম, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮
ছবি-প্রতীকী

নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলার স্বরমুশিয়া ইউনিয়নের রূপচন্দ্রপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল লতিফকে (৪৫) হত্যার দায়ে একজনের মৃত্যুদণ্ডসহ ২০ হাজার টাকা জরিমানা, দুইজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অপর তিনজনকে এক বছরের কারাদণ্ডসহ ২০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছেন আদালত।

সোমবার দুপুরে নেত্রকোনার জেলা ও দায়রা জজ কে এম রাশেদুজ্জামান রাজা জনাকীর্ণ আদালতে আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় দেন। এছাড়াও মামলাটির অপর তিন আসামিকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেন- রূপচন্দ্রপুর গ্রামের সুলতু খাঁর ছেলে নূরুল আমীন খাঁ (২৬)। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- সুলতু খাঁর ছেলে আল আমীন খাঁ (২৯) ও আব্দুল হামিদ খাঁর ছেলে তৌফিক খাঁ (২৭)। এক বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- মৃত আরফান আলী খাঁর ছেলে সুলতু খাঁ (৫৬), আব্দুল হামিদ খাঁর ছেলে কাজল খাঁ (২৪) ও মৃত মোবারক আলীর ছেলে তাজুল ইসলাম (৪৮)। খালাস প্রাপ্তরা হলেন- আনিছুর রহমান চৌধুরীর ছেলে অলী চৌধুরী (৩০), মৃত ইজ্জত আলীর ছেলে নূর আহম্মদ ওরফে নূর মোহাম্মদ (৩৮) ও আনিছুর রহমান চৌধুরীর ছেলে সবুজ চৌধুরী (৩৮)।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়, রূপচন্দ্রপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল লতিফের সঙ্গে জমিতে সেচ দেয়াকে কেন্দ্র করে একই গ্রামের নুরুল আমীন খাঁ গংদের বিরোধ চলে আসছিল। বিগত ২০১৩ সালের ১৬ জুন সন্ধ্যা ৬টার দিকে কৃষক আব্দুল লতিফ তার অসুস্থ বড় ছেলে শরীফকে নিয়ে পার্শ্ববর্তী কোনাপাড়া বাজারে যাওয়ার পথে কোনাপাড়া চৌরাস্তা মোড়ে পৌঁছতেই উল্লেখিত আসামিরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালিয়ে কুপিয়ে জখম করেন। স্থানীয় লোকজন তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী শেফালী বেগম বাদী হয়ে নূরুল আমীন খাঁসহ ৯ জনকে আসামি করে ১৯ জুন আটপাড়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ তদন্ত শেষে ২০১৩ সালের ৭ অক্টোবর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নূর আহমদসহ তিন আসামিকে বাদ দিয়ে আদালতে চাজশিট দাখিল করে।

বাদীপক্ষ নারাজি দিলে আদালত সিআইডিকে তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। সিআইডি তদন্ত পূর্বক ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নূর আহম্মদকে বাদ দিয়ে ২০১৪ সালের ১৭ মে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে বাদী পক্ষ পুনরায় নারাজি দিলে বিজ্ঞ আদালত মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেন।

২০১৫ সালের ১৯ জানুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে বিচার বিভাগীয় প্রতিবেদন দাখিলের পর বিজ্ঞ বিচারক তা আমলে নিয়ে ২০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহন করে ছয়জন আসামির বিরুদ্ধে অপরাধ সন্দেহাতীত ভাবে প্রমাণিত হওয়ায় উপরোক্ত রায় দেন।

রাষ্ট্রপক্ষে ভারপ্রাপ্ত পিপি অ্যাডভোকেট সাইফুল আলম প্রদ্বীপ এবং আসামিপক্ষে অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম খান মামলাটি পরিচালনা করেন।

কামাল হোসাইন/আরএআর/আরআইপি