প্রথম কিস্তিতেই বাজিমাত!

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ঝিনাইদহ
প্রকাশিত: ০৯:৩৪ এএম, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

প্রথম বছরেই বাজিমাত করেছেন ঝিনাইদহের টিপু সুলতান এবং নুর মোহাম্মদ। এই দুই ফুলচাষি প্রায় তিন বিঘা জমিতে বিদেশি ফুল জারবেরার চাষ করে এলাকায় রীতিমতো সাড়া ফেলে দিয়েছেন।

কালীগঞ্জ উপজেলার ৬নং ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নের ছোট-ঘিঘাটির ফুলচাষি নুর মোহাম্মদ জানান, বিদেশি জাতের এই ফুলটি খেত থেকে তোলার পরও ১০ থেকে ১৫ দিন তাজা থাকে। তাই বাজারে এই ফুলের ব্যাপক চাহিদা।

তিনি আরও জানান, জারবেরা একটি ইউরোপীয় ফুল। এর বীজ আনা হয় ভারত থেকে। ফুলের খেতের উপর ছাউনি দিতে একই দেশ থেকে আমদানি করা হয় বিশেষ ধরনের পলিথিন। রোপনের তিন মাস পর গাছে ফুল আসতে শুরু করে। একটি গাছ একাধারে দুই থেকে তিন বছর ফুল দেয়। একই সময় একটি গাছে ২০ থেকে ২৫টি ফুল পাওয়া যায়।

অপরদিকে ফুলচাষি টিপু সুলতান জানান, জারবেরা চাষ অত্যন্ত ব্যয়বহুল। ঝিনাইদহে জারবেরা এবারই প্রথম। এই অজো পাড়াগাঁয়ের জারবেরা এখন ঢাকা, খুলনা, সিলেট, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন শহরে যাচ্ছে।

Jhenaidah-Jarbara

তিনি জানান, তিনি ও নুর মোহাম্মদ ৯৬ শতক জমিতে গতবছর এই জারবেরার চাষ শুরু করেন। তাদের খেতে নিয়মিত চারজন শ্রমিক কাজ করেন। বীজ ক্রয়, জমি পরিচর্যা, রোপন, খেতের চারপাশে বাঁশের বেড়া স্থাপন, উপরের ছাউনি, সার, ওষুধ ও শ্রমিক খরচসহ এ পর্যন্ত ৩৩ লাখ টাকা খরচ হয়েছে।

তিনি বলেন, পহেলা ফাল্গুন ও ভ্যালেনটাইন ডে উপলক্ষে বেশ ভালো চাহিদা পাচ্ছি। গত ছয় মাসে ১৫ লক্ষাধিক টাকার ফুল বিক্রি করা হয়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন এক হাজার থেকে ১২শ ফুল সংগ্রহ করা যাচ্ছে। একটি ফুল ১০ থেকে ১৬ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হয়।

কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল করিম জানান, জারবেরা ফুল চাষের জন্য এ অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া বেশ উপযোগী। বছরের যেকোনো সময় এর চাষ করা যায়। শীত মৌসুমে এর উৎপাদন বেশি হয়। এছাড়া দেশের বাজারে এই ফুলের দাম ও চাহিদা বেশি।

আহমেদ নাসিম আনসারী/এফএ/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :