গাজীপুরে নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের মহোৎসব
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমাদানের শেষ দিন বৃহস্পতিবার গাজীপুরে চলছে নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের মহোৎসব। এ বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা অনেকটাই নীরব ভূমিকা পালন করেছে। রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ের আশপাশে আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলেও বিকেল পর্যন্ত কারো বিরুদ্ধেই কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
সকাল থেকেই কাউন্সিলর প্রার্থীরা তাদের কর্মী ও সমর্থকদের গাড়ি ভাড়া করে লোকজন নিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় জেলা শহরের রথখোলার বঙ্গতাজ অডিটোরিয়ামের আসে। এসময় ব্যানার, পোস্টার ও দলীয় প্রতীক নিয়ে মিছিল আর শোডাউন করতে দেখা গেছে প্রার্থী সমর্থকদের। দুপুর না গড়াতেই নির্বাচনী কর্মীদের উপস্থিতিতে শহরটি সরগরম হয়ে উঠে, সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট।
সরেজমিনে দেখা গেছে, দুপুর সোয়া একটার দিকে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী মো. জাহাঙ্গীর আলম মনোনয়নপত্র জমা দিতে দলবল নিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে ঢুকেন। এসময় জেলা আওয়াওমী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন সবুজ, সহ-সভাপতি আমানত হোসেন খান, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য রেজাউল করিম রাসেল, মহানগর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা সফিকুল আলম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আজমত উল্লাহ খান, সহ-সভাপতি কাজী আলিম উদ্দিন বুদ্দিন, সদস্য আব্দুল হাদী শামিম, সাংগঠনিক সম্পাদক মুজিবুর রহমান, অধ্যক্ষ মো. মহিউদ্দিন মহি, যুগ্ম সম্পাদক মতিউর রহমান মতি, মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক কামরুল আহসান রাসেল সরকার, মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাসুদ রানা এরশাদ, মহানগর আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক মো. খালিদ হোসেনসহ ২০/২৫ জন নেতা-কর্মী আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীর সঙ্গে রিটার্নিং কর্মকর্তার কক্ষে ঢুকেন।

খোদ রিটার্নিং কর্মকর্তার কক্ষে আচরনবিধি লঙ্ঘিত হলেও এসময় রিটার্নিং কর্মকর্তা ওই বিষয়ে কথা না বলে উল্টো আওয়ামী লীগ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র গ্রহণ শেষে তাকেসহ অন্যদের নির্বাচনী আচরণবিধির কপি ধরিয়ে দিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। এর আগে জেলা শহরের তার সমর্থিত নেতা-কর্মীরা জেলা শহরের দলীয় কার্যালয় থেকে পোস্টার, ব্যানার, প্ল্যাকার্ড ও নৌকা প্রতীকসহ মিছিল নিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় চত্বরে যায়।
এ বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. রকিব উদ্দিন মন্ডল বলেন, আচরণবিধি যাতে লঙ্ঘিত না হয়, সে বিষয়ে আজকে আমি ডিসি সাহেব-এসপি সাহেব ও কেন্ডিডেটদের সঙ্গে কথা বলেছি। মনোনয়নপত্র দাখিল করার সময় কোনো প্রার্থীর সঙ্গে যেন পাঁচজনের বেশি লোক না আসে। পুলিশরা বলে তারা জোর করে ভেতরে ঢুকে গেছে। অনেকে সাংবাদিকদের ছবি নেয়ার সময় কৌতুহলবশত আমার রুমে ঢুকে পড়েছে। তারপরও পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেটদের বলে দিয়েছি কোথাও যাতে কেউ আচরণবিধি লঙ্ঘন না করেন। আচরণবিধি যাতে লঙ্ঘন না হয় এজন্য আমরা বিভিন্ন ধরণের প্রচেষ্টা চালাচ্ছি, আচরণবিধি বিলি করছি, মাইকিং করাচ্ছি, প্রশাসনও চেষ্টা করছে। আমাদের প্রচেষ্টা কিন্তু অব্যাহত আছে। তারপরও কিছু অতি উৎসাহী মানুষ অনেক সময় হয়ত তারা আচরণবিধি লঙ্ঘনের চেষ্টা করে। আইনবিধি অনুযায়ী আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

প্রার্থীর সঙ্গে থাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ খান বলেন, মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার আগে বৃহস্পতিবার সকালে দলের জেলা কার্যালয়ে সভা করে নেতা-কর্মীদের আচরণবিধি মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছি। কিন্তু তারপরও অনেকে তা না মেনে রিটার্নিং কর্মকর্তার কক্ষে ঢুকে পড়েছে।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. তারিফুজ্জামান জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. জাহাঙ্গীর আলম, বিএনপির প্রার্থী মো. হাসান উদ্দিন সরকারসহ ৯ জন মেয়র প্রার্থী তাদের মনোয়নপত্র রিটার্নিং অফিসারের কাছে দাখিল করেছেন। এর আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র ১৮ প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন।
বিএনপির দলীয় প্রার্থী মো. হাসান উদ্দিন সরকার বলেন, সরকার দলীয় প্রার্থী যেভাবে আচরণ বিধি লঙ্ঘন করছে এ নির্বাচন জনগণকে হতাশ করবে। নির্বাচন শুরু হওয়ার আগেই যেভাবে আচরণবিধি লঙ্ঘিত হচ্ছে শেষ পর্যন্ত নির্বাচন কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে তা ভাববার বিষয়।
মো. আমিনুল ইসলাম/আরএ/জেআইএম