মানুষ হাঁটুর উপর কাপড় তুলে চলছে দেখে লজ্জা পাই : শামীম ওসমান

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৭:০৭ পিএম, ২৬ এপ্রিল ২০১৮

নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান বলেছেন, সংসদের প্রথম বক্তৃতায় ডিএনডি প্রকল্প নিয়ে বক্তব্য দিয়েছিলাম। কিন্তু গত ৪ বছরেও কোনো কূলকিনারা করতে পারছিলাম না। মাচা বেঁধে বসবাস করছেন লোকজন। লজ্জা পাই যখন দেখি মানুষ হাঁটুর উপরে কাপড় তুলে চলাচল করছে। পানিটা সম্পূর্ণ দুর্গন্তযুক্ত ও দূষিত। আর এই জলজট সৃষ্টি হয় প্রভাবশালী লোকদের কারণে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে জনদুর্ভোগ লাঘবে ডিএনডির পানি নিষ্কাশন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন ও যানজট নিরসনের লক্ষ্যে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

শামীম ওসমান বলেন, ডিএনডিবাসীকে পানির নিচে রেখে আমার এমপিগিরি করার কোনো ইচ্ছা নেই। আমি মন্ত্রীকে বলে দিয়েছি- যদি ডিএনডির পানি সমস্যা নিরসন না করা হয় তাহলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক রোড বন্ধ করে দেব।

তিনি আরও বলেন, সারা পৃথিবীতে দেশের সুনাম এনে দিয়েছে দেশের সেনবাহিনী। এই সেনাবাহিনী ৭৫ এর সেনাবাহিনী না। তাই ডিএনডি প্রকল্পের কাজ করানো হচ্ছে সেনাবাহিনী দিয়ে। আমি চাই এই প্রকল্পের কাজের বিষয়ে কেউ যাতে আমার কাছে কোনো তদবির নিয়ে না আসে। আমরা চাই না সেনাবাহিনীকে নিয়ে কোনো বিতর্ক সৃষ্টির চেষ্টা হোক। তারা ইচ্ছে করলে অবৈধ দখলদারদের স্থাপনা ভেঙে দিতে পারতো। কিন্তু তারা জনগণের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে ধীরে ধীরে এগুচ্ছে। ডিএনডি প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে ঢাকা আমাদের চেয়ে পিছিয়ে পড়বে।

শামীম ওসমান বলেন, দেশটা আমাদের সকলের। সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে যারা নারায়ণগঞ্জে দায়িত্ব পালন করছেন আমি মনে করি তারা সকলেই নারায়ণগঞ্জের নাগরিক। তাই সকলেরই মতামত দেয়ার অধিকার রয়েছে। আর সকলের মতামত নিয়েই সকল সমস্যার সমাধান করা হবে। এটার উদ্দেশ্য রাজনীতি করা না, মানুষের সেবা করাই একমাত্র উদ্দেশ্য।

বিসিক শিল্পনগরীর জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আড়াই লাখ লোক জলাবদ্ধতায় ভোগে আর উপকৃত হয় দুই একজন লোক। তাই ভেকু দিয়ে জমি কেটে দিয়েছি। এখানে হাজার হাজার লোকের কর্মসংস্থান। এদের কাছ থেকে টাকা খেয়ে শ্রমিক নেতা সাজে কিছু লোক। এসব চাঁদাবাজরাই সমাজের সমস্যা। আর কোনো সুযোগ দেয়া হবে না। আমি ওই এমপিগিরি আর করব না। এ রকম নেতা হওয়ার আর দরকার নেই।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে শামীম ওসমান বলেন, নারায়ণগঞ্জ হচ্ছে একমাত্র সিটি কর্পোরেশন যেখানে কোনো ময়লার ডাস্টবিন নেই। মানুষ ময়লা কোথায় ফেলবে। ডাস্টবিন থাকার পরেও লোকজন ময়লা বাহিরে ফেলে। গুলশানের মতো ভিআইপি এলাকায়ও রাস্তায় ময়লা ফেলা হয়। সে জায়গায় সিটি কর্পোরেশনের কোনো ডাস্টবিনই নেই। তাহলে কী অবস্থা হতে পারে সহজেই বোঝা যায়।

জেলা প্রশাসক রাব্বি মিয়ার সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য দেন ডিএনডির জলাবদ্ধতা নিষ্কাশন প্রকল্পের পরিচালক লে. কর্নেল মাশফিক আলম ভূঁইয়া, নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মঈনুল হক প্রমুখ।

শাহাদাত হোসেন/আরএআর/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :