অজ্ঞাত মরদেহের ঠিকানা ব্রাহ্মণবাড়িয়া!

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশিত: ১০:৪৮ এএম, ২৭ এপ্রিল ২০১৮
ফাইল ছবি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নদী, ডোবা, ধানি জমি আর পুকুর থেকে একের পর এক উদ্ধার হচ্ছে অজ্ঞাত পরিচয়ের মরদেহ। শুধুমাত্র এপ্রিল মাসেই জেলার সদর উপজেলা, কসবা, আখাউড়া ও বিজয়নগর থেকে আটজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে এক নারীর মস্তকবিহীনসহ দুই নারীর মরদেহও রয়েছে। কিছুতেই যেন থামছে না এসব হত্যাকাণ্ড। দু’একজনের পরিচয় মিললেও বাকিদের পরিচয় এখনও মিলেনি। অজ্ঞাত এসব মরদেহের ঠিকানা যেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া!

এসব হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জেলার নাগরিকদের মনে যেমন আতঙ্ক বিরাজ করছে তেমনি অস্বস্তিতে পড়ছে জেলা পুলিশও।

ঘটনা সূত্রে জানা গেছে, গত ২ এপ্রিল দুপুরে সরাইল-বিশ্বরোড মোড়ের একটি বাস কাউন্টারের সামনে থেকে আনুমানিক ৫০ বছর বয়সী অজ্ঞাত এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে সদর মডেল থানা পুলিশ। এরপর ৪ এপ্রিল সদর উপজেলার বড়হরণ এলাকা থেকে ১৫-১৬ বছর বয়সী অজ্ঞাত আরেক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করে সদর মডেল থানা পুলিশ। ওই কিশোরের পকেট থেকে একটি ট্রেনের টিকিটও উদ্ধার করা হয়। ১১ এপ্রিল বিকেলে জেলার আখাউড়া উপজেলার কোড্ডা এলাকার দ্বিতীয় তিতাস রেলসেতুর নিচ থেকে আতিউর রহমান (৩৫) নামে আরেক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতের বাড়ি লালমনিরহাট জেলার আদিতমারি উপজেলার বাদাই গ্রামে। নিহতের নাক-মুখ থেৎলে দেয় দুর্বৃত্তরা।

বাংলা নববর্ষের দিন ১৪ এপ্রিল সকালে জেলার কসবা উপজেলার বায়েক ইউনিয়নের রঘুরামপুর গ্রামের একটি ধানি জমি থেকে অজ্ঞাত আরেক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহটি পচে গলে অনেকটা কঙ্কাল হয়ে যাওয়ায় পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। ১৬ এপ্রিল আখাউড়া উপজেলা সদরের মালদারপাড়ার একটি পুকুর থেকে ভাসমান অবস্থায় অজ্ঞাত এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের পরিচয় জানা না গেলেও তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন বলে স্থানীয়রা পুলিশকে জানায়।

১৯ এপ্রিল আনুমানিক ৩৫ থেকে ৪০ বছর বয়সী এক ব্যক্তির পচে যাওয়া মরদেহ উদ্ধার করে সদর মডেল থানা পুলিশ। সদর উপজেলার তিতাস নদীর কাঞ্চনপুর ঘাট থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। ২২ এপ্রিল সদর উপজেলার নয়নপুর এলাকার তিতাস নদী থেকে বস্তায় ভরা এক নারীর মস্তকবিহীন মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ২২ বছর বয়সী ওই নারীর মরদেহটি নদীদে ভাসমান অবস্থায় দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। মস্তক না থাকায় মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ।

সর্বশেষ গত ২৫ এপ্রিল জেলার বিজয়নগর উপজেলার ইছাপুরা ইউনিয়নের খাদুরাইল গ্রামের একটি ডোবা থেকে পারভীন নামে এক নারীর গলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এটি পারিবারিক কলহজনিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছে পুলিশ।

একের পর এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় উৎকণ্ঠায় রয়েছেন জেলাবাসী। নাগরিক সংগঠনের নেতাদের মতে, দ্রুত এসব হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করে অপরাধীদের বিচারের আওতায় না আনতে পারলে ভবিষ্যতেও এসব হত্যাকাণ্ড চলতে থাকবে।

জেলা নাগরিক ফোরামের সভাপতি পীযূষ কান্তি আচার্য জাগো নিউজকে বলেন, এক মাসে এতগুলো মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই জেলার নাগরিকদের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব অজ্ঞাত এসব হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নিলেই সাধারণ নাগরিকদের মনে স্বস্তি ফিরে আসবে।

এসব ব্যাপারে জানতে চাইলে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. ইকবাল হোসেন বলেন, পুলিশের মধ্যে অস্বস্তির কিছু নেই। অপরাধ সংগঠিত হলে পুলিশকে সেটির মুখোমুখি হতে হয়। এটি সহজভাবে মেনে নেয়া ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু পুলিশের কাজ হচ্ছে যে ঘটনা ঘটছে সেগুলোর রহস্য উদঘাটন করা এবং বেশিরভাগই উদঘাটন করা হয়ে গেছে।

তিনি আরও বলেন, সর্বশেষ দুই নারীর হত্যকাণ্ড ঘটে পারিবারিক কলহ নিয়ে। এটি আসলেই উদ্বেগের বিষয়। এটা নিয়ে আমাদের কাজ করতে হবে। পারিবারিক এ কলহজনিত হত্যাকাণ্ড রোধে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে।

আজিজুল সঞ্চয়/এফএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।