যমুনার ভাঙনরোধ কাজ শুরুর দাবিতে সড়ক অবরোধ
টাঙ্গাইলের ভুঞাপুরে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে কুঠিবয়ড়া গ্রামে ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙনে ইতোমধ্যে কয়েক একর জমির ফসলসহ বাড়ি-ঘর যমুনা গর্ভে চলে গেছে। ভাঙনরোধে কোনো প্রদক্ষেপ গ্রহণ না করায় ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।
বৃহস্পতিবার যমুনায় ভাঙনরোধে দ্রুত কাজ শুরু করতে এলাকাবাসী ভুঞাপুর-তারাকান্দি সড়ক দুই ঘণ্টা অবরোধ করে রাখে। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এই সড়কে সকল প্রকার যান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়।
জানা যায়, ভুঞাপুর উপজেলার উত্তর অঞ্চলের অর্জুনা ও কুঠিবয়ড়া পয়েন্টে গত বছরই যমুনার ভাঙন দেখা দেয়। ভাঙনে শত শত ঘর-বাড়ি ও ফসলি জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। তখনই কর্তৃপক্ষ ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও অদ্যাবধি কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। ফলে কুঠিবয়ড়া বাজার, ভুঞাপুর-তারাকান্দি-সরিষাবাড়ি যমুনা সার কারখানার সড়কসহ এলাকা হুমকির মুখে পড়েছে।
অবরোধকারীরা জানায়, টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের অবহেলা ও উদাসীনতার কারণে আমরা মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে রয়েছি।
তবে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে কুঠিবয়ড়া বাজার বণিক সমিতির সভাপতি মুজাফফর হোসেন বলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভাঙন প্রতিরোধের ব্যবস্থা করা না হলে অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। এসময় বক্তব্য রাখেন বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান মোল্লা, আলমগীর মোল্লা, মির্জা হাসানুর রহমান হেক্টর, জাহাঙ্গীর হোসেন প্রমুখ।
টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান জানান, যেখানে যমুনার ভাঙন শুরু হয়েছে সেখানকার লোকজন আগে থেকেই সচেতন হলে ভাঙনরোধে কাজ শুরু করা সম্ভব হতো। আগে থেকেই প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন লোকজনের সঙ্গে এলাকাবাসী যোগাযোগ করলে ভাঙনরোধে প্রকল্প পাস করা যেত। কিন্তু এলাকাবাসী মনে করেছে এই এলাকায় ভাঙন দেখা দিবে না। তারপরও ভাঙনরোধে দ্রুত কাজ শুরুর জন্য ঢাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডে একটি প্রাক্কলন তৈরি করে পাঠানো হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঝোটন চন্দ জানান, অতিদ্রুত ভাঙনরোধ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। দ্রুত ভাঙন এলাকায় কাজ শুরু হবে।
আরিফ উর রহমান টগর/এমএএস/পিআর