সে গ্রামে বিদ্যুৎ থাকা না থাকা সমান

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি টাঙ্গাইল
প্রকাশিত: ১১:৩৭ এএম, ১৪ মে ২০১৮

টাঙ্গাইলের নাগরপুরে ৪ দিন ধরে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন প্রায় ৮-১০টি গ্রাম। এ উপজেলার সরিষাজানী, পূগলী, ভারড়া, বাটরা, সিংদাইর, বেতো, শুনসিসহ আরও কয়টি গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এর মধ্যে সরিষাজানী ও পূগলী গ্রামে গত বৃহস্পতিবার থেকে টানা ৪ দিন ধরে বিদ্যুৎ সংযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, টাঙ্গাইল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নাগরপুর জোনাল অফিসে বার বার যোগাযোগ করেও কোনো সুফল না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েছেন এর গ্রাহকরা। গত ৪ দিন যাবৎ মোম নিয়েই চলছে এ গ্রামগুলোর জনজীবন। এছাড়া আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে টাঙ্গাইল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নাগরপুর জোনাল অফিসের সকল গ্রাহকদের বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ হয়ে যায়। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বিদ্যুৎ সংযোগ সাময়িকের জন্য বন্ধ না করে তা কোনো কোনো গ্রামে ঘণ্টার পর ঘণ্টা এমনকি দিনের পর দিন বন্ধ রাখা হয়।

টাঙ্গাইল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নাগরপুর জোনাল অফিসের আওতায় প্রায় ৬০ হাজার গ্রাহক রয়েছেন। পরিবেশ শান্ত রাখতে উপজেলা সদরে বিদ্যুৎ সুবিধা দেয়া হলেও গ্রাম-গঞ্জের হাজার হাজার গ্রাহককে বেশির ভাগ সময় বিদ্যুৎ বঞ্চিত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ গ্রাহকদের।

একাধিক গ্রাহক আক্ষেপের সুরে জানান, যে কোনো সমস্যা নিয়ে টাঙ্গাইল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নাগরপুর জোনাল অফিসে গ্রাহকদের সেবায় নিয়োজিত জরুরি নম্বরে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে বেশির ভাগ সময় নম্বরটি থাকে বন্ধ। জরুরি নম্বরে অফিসে কর্মরত কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো সুফল পাওয়া যায় না।

গয়হাটা ইউপি সদস্য মো. আব্দুল হাকিম জানান, গত বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে রোববার পর্যন্ত টানা ৪দিন ধরে সরিষাজানী ও পূগলী উত্তর পাড়া বিদ্যুৎ সংযোগ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রয়েছে। এ দুটি গ্রামে ৪ দিন ধরে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ থাকায় গ্রাম দুটির প্রায় সহস্রাধিক মানুষ অন্ধকারে জীবন-যাপন করছে। এতে স্কুল কলেজে পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশুনার ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, আমাদের গ্রামে বিদ্যুতের অচলাবস্থা থাকলেও নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে। অপরদিকে প্রতিটি মানুষকে নিয়মিত মোম ও কেরোসিনও ব্যবহার করতে হচ্ছে। এ গ্রামে বিদ্যুৎ থাকা আর না থাকা প্রায় সমান।

এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নাগরপুর জোনাল অফিসের ডিজিএম জয় প্রকাশ নন্দির বলেন, আমাদের অফিসের আওতায় প্রায় ৬০ হাজার বিদ্যুতের গ্রাহক রয়েছেন। বৃহস্পতিবার ঝড়ের কারণে গাছ-পালা পড়ে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে যাওয়ায় বিভিন্ন গ্রামের বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করতে দেরি হচ্ছে। এছাড়া আমার অফিসের আওতায় গ্রাহকের তুলনায় জনবল কম এ সত্ত্বেও অফিসে কর্মরত প্রত্যেকে ঝুঁকি নিয়ে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছি।

আরিফ উর রহমান টগর/এফএ/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।