ইফতার মাহফিলে জাহাঙ্গীর-হাসানের নির্বাচনী প্রচারণা
আগামী ২৬ জুন গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রধান দুই মেয়র প্রার্থী আওয়ামী লীগ মনোনীত জাহাঙ্গীর আলম ও বিএনপি মনোনীত হাসান উদ্দিন সরকার এবং তাদের নিজ নিজ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা বাকযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছেন। প্রতিদিন ইফতার মাহফিলের মাধ্যমে অঘোষিতভাবেই নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন দুই মেয়র প্রার্থী ও তাদের পক্ষের নেতাকর্মীরা।
এসব প্রচারণায় আওয়ামী লীগের মন্ত্রী, এমপি ও কেন্দ্রীয় নেতারা যোগ দিচ্ছেন। অপরদিকে হাসান উদ্দিন সরকারের পক্ষেও দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা আসছেন বিভিন্ন অনুষ্ঠানে। দুই দলের মেয়র প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় নেতারা নির্বাচনী কৌশলের অংশ হিসেবে বাকযুদ্ধে নেমেছেন।
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, গাজীপুরের আওয়ামী লীগ দেশের মডেল আওয়ামী লীগ। এখান থেকে বিজয়ের ঢেউ দেশের সব নির্বাচনে লাগবে। যারা মানুষ পুড়িয়ে মারে, যারা আহসান উল্লাহ মাস্টারকে হত্যা করে তাদের ভোট পাওয়ার অধিকার নাই। আপনারা আগামী ২৬ জুন নির্বাচনে নৌকাকে বিজয়ী করুন। জাহাঙ্গীরকে পরিচালনা করবেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। গাজীপুরের উন্নয়ন করবেন শেখ হাসিনা।
বুধবার মহানগরীর ৫১ নম্বর ওয়ার্ডের সাতাইশ স্কুল মাঠে ইফতার ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।
মো. আলী মিয়ার সভাপতিত্বে ইফতার পূর্ব আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আজমত উল্লা খান। তিনি আগামী ২৬ জুন নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে জাহাঙ্গীর আলমকে জয়জুক্ত করার আহ্বান জানান।
আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী মো. জাহাঙ্গীর আলম বুধবার নগরীর ১৫, ৫১ ও ৫২ নম্বর ওয়ার্ডে পৃথক ৩টি ইফতার মাহফিলে যোগ দেন। পরে সাতাইশ স্কুলে ইফতার করেন। তিনি উপস্থিত মুসল্লিদের কাছে আগামী নির্বাচনে দোয়া, সহযোগিতা ও ভোট চান।
১৫ নম্বর ওয়ার্ড মধ্য ভোগড়া স্কুল মাঠে আয়োজিত ইফতার ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, আমাদের মেয়র প্রার্থী জাহাঙ্গীর তরুণ বয়স থেকে ব্যক্তি উদ্যোগেই সমাজ সেবামূলক কাজে নিয়োজত। গাজীপুর সিটির মেয়র নির্বাচিত হলে তিনি আরও বেশি সেবামূলক কাজ করবেন। জননেত্রী শেখ হাসিনার মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মেয়র নির্বাচিত হলে জাহাঙ্গীর খুব সহজেই সরকারের সহযোগিতায় অনেক বেশি উন্নয়নমূলক কাজ করতে পারবেন।
এ সময় মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী ইলিয়াস আহমেদ, মো. হাফিজুর রহমান, ফিরোজ খান, মো. বিল্লাল হোসেন, মো. ফারুক মাস্টার, মজিবুর রহমান খান, মাসুম বিল্লাহ বিপ্লব, সুফিয়া কাদের প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
অপরদিকে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের মেয়রপ্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা হাসান উদ্দিন সরকার বলেছেন, আওয়ামী লীগ লুটপাটের উদ্দেশ্যে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায়। মেয়র এম এ মান্নানকে একের পর এক মিথ্যা মামলায় কারাগারে বন্দি রেখে আওয়ামী লীগ উন্নয়নের নামে লুটপাটের মহোৎসব করেছে। আগামীতেও তারা সিটি কর্পোরেশনে কীভাবে লুটপাট করবে এখনই সেই ছক আঁকতে শুরু করেছে।
বুধবার টঙ্গীর বড় দেওড়ায় আহসান উল্লাহ সরকার ইসলামিক ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে চাচা মগদম আলী সরকারের রুহের মাগফিরাত কামনায় অনুষ্ঠিত দোয়া ও ইফতার মাহফিল পূর্ব আলোচনা সভায় বক্তৃতাকালে তিনি এসব কথা বলেন।
হাসান উদ্দিন সরকার বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে যারা জনগণকে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। তারা প্রকৃতপক্ষে এলাকার উন্নয়ন চান না। তারা যে উন্নয়নের কথা বলছেন সেটি নিজেদের উন্নয়নের কথা, জনগণের ট্যাক্সের টাকা লুটপাটের কথা। মেয়র মান্নানকে জনগণের টাকা খরচ করার সুযোগ দিলে আজ গাজীপুর নগরীর এই বেহাল অবস্থা হতো না।
নগরবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনাদের ভোটে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্ব পেলে আপনাদের প্রতিটি পয়সা আমানতের সহিত খরচ করবো। অতীতেও আপনাদের আমানতের খেয়ানত করিনি, আগামীতেও আপনাদের আমানত যথাযথভাবে রক্ষা করা চলবো।
মো. বিল্লাল হোসেন সরকারের সভাপতিত্বে দোয়া মাহফিলে আরও উপস্থিত ছিলেন রকিব উদ্দিন সরকার পাপ্পু, শহীদুল্লাহ সরকার, এম এ ফয়সল, মাসুদ সরকার, ইঞ্জিনিয়ার ইদ্রিস খান, ফারুক হোসেন খান, ইউসুফ সরকার প্রমুখ।
আমিনুল ইসলাম/আরএআর/জেআইএম