শ্রীপুরে পটকা বানানোর সময় ঝলসে গেছে ছাত্রের আঙ্গুল
গাজীপুরের শ্রীপুরে ঈদ বিনোদনের লক্ষে বারুদ, কাপড় ও স্কচটেপ দিয়ে তৈরি বস্তু (পটকা) বানানোর সময় বিস্ফোরণে শিমুল ইসলাম শামীম (১১) নামে এক মাদরাসাছাত্রের দুটি আঙ্গুল ঝলসে গেছে। পরে স্থানীয়রা আহত ওই ছাত্রকে উদ্ধার করে মাওনা চৌরাস্তার আয়েশা হাসপাতালে ভর্তি করেন।
সোমবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার মুলাইদ গ্রামে কাশেম মিয়ার ছেলে মাজহারুলের বাড়ির পরিত্যক্ত ঘরে এ ঘটনা ঘটে।
আহত শামীম ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নের কিসমত বনোগ্রাম এলাকার ফরহাদ মিয়া ওরফে শাহ্ পরানের ছেলে। শাহ্ পরান গাজীপুরের শ্রীপুরের মুলাইদ গ্রামের বাদল মিয়ার বাড়িতে পরিবার নিয়ে ভাড়া থেকে স্থানীয় রঙ্গিলা বাজারে কাঁচামালের ব্যবসা করেন। শামীম কেওয়া পশ্চিম খণ্ড গ্রামে (মাওনা বাজার সংলগ্ন) হাজী সাহিদুর রহমান হাফিজিয়া মাদরাসার হেফজ বিভাগের ছাত্র।
আহত শামীমের মতে, বেলা ১১ টার দিকে মাদ্রাসা থেকে সে বাড়ি আসছিল, এ সময় মুলাইদ (রঙ্গীলা বাজার) গ্রামের কাসেম মিয়ার ছেলে স্থানীয় হাজী নিয়ামত আলী মাদরাসার হেফজ বিভাগের ছাত্র তার বন্ধু মাজাহারুলদের বাড়িতে যায়। সেখানে পূর্বে থেকে মাজহারুল ছাড়াও মাদরাসার আরও ২ ছাত্র বাবু ও আশরাফুল একটি পরিত্যাক্ত ঘরে বসে স্কচটেপ, বারুদ ও কাপড় দিয়ে পটকা তৈরি করেন। এ সময় তারা তাকে জানান ঈদের সময় এই পটকা দিয়ে আনন্দ করবেন। পরে তারা তাকে বানানো পটকা চাপ দেয়ার জন্য বললে সে চাপ দেয়, পরে তা বিস্ফোরণ হলে তার হাতে আঘাত পায়।
আহত শামীমের বাবা শাহ পরাণ জানান, সে সকাল থেকে রঙ্গীলা বাজারের দোকানে ব্যবসার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। শামীম সকালেই মাদ্রাসায় চলে যায়। পরে বেলা ১১টার দিকের স্থানীয়দের মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় শামীমকে উদ্ধার করে মাওনা চৌরাস্তা বেগম আয়েশা হাসপাতালে নিয়ে যাই।
বেগম আয়েশা হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক সেলিম বলেন, ছেলেটিকে হাসপাতালে আনার পর তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
শ্রীপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হেলাল উদ্দিন বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে ঈদ বিনোদনের লক্ষ্যে এ লাকার কিছু কিশোর পটকা জাতীয় বিশেষ বস্তু তৈরির করার সময় বিস্ফোরণ হয়। এতে শামীমের বাম হাত আঘাত পায়। তবে ঘটনার সঙ্গে অন্য কিছুর জড়িত থাকার বিষয়টি নিয়ে অধিকতর তদন্ত করা হবে।
শিহাব খান/আরএ/জেআইএম