মাটি ছাড়াই চারা উৎপাদন

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নীলফামারী
প্রকাশিত: ০৫:১৪ পিএম, ১১ জুন ২০১৮

কোকো ডাস্ট এবং প্লাস্টিক ট্রে ব্যবহারের মাধ্যমে মাটি ছাড়াই উন্নত সবজির চারা উৎপাদন করছেন সৈয়দপুর উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের বালাপাড়া গ্রামের ওসমান গনী।

সরেজমিনে দেখা যায়, সবজি জোন হিসেবে পরিচিত বোতলাগাড়ী এলাকা। ওসমান গণি পেশায় একজন কৃষক। সুস্থ সবল চারা উৎপাদনে তিনি নতুন এ প্রযুক্তি ব্যবহার করেছেন। আগে তিনি মাটিতে চারা উৎপাদন করার ফলে আবহাওয়ার কারণে চারা উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটত। ২০১৭ সালে সেলফ-হেলপ অ্যান্ড রিহেবিলিটেশন প্রোগ্রামের (শার্প) শরণাপন্ন হলে শার্পের কেজিএফ কর্মসূচির আওতায় কৃষি সেবা কেন্দ্র ও সবুজ নার্সারি বাস্তবায়নে পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) সহযোগিতায় ১০ শতক জমিতে সবজি নার্সারি গড়ে তোলেন।

আধুনিক প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে ১০ শতক জমির উপর গ্রিন হাউসের আদলে নেট হাউস তৈরি করেছেন। তিনি কোকো ডাস্ট ব্যবহার করে কেঁচো সারের সমন্বয়ে মাটি ছাড়াই সবজি চারা উৎপাদন করছেন প্লাস্টিক ট্রেতে। এটা উন্নত প্রযুক্তি। এতে চারা পুরো শিকড় পেচিয়ে নেয় এতে শিকড়ের কোনো ক্ষতি হয় না। এই চারা জমিতে লাগানোর পর পরই খাদ্য গ্রহণ শুরু করে। তার এই আধুনিক পদ্ধতিতে তৈরি নেট হাউসের চারপাশে নেট দিয়ে রাখতে দেখা গেছে। যেখানে পর্যাপ্ত আলো বাতাস প্রবেশ নিশ্চিত হয় এবং ক্ষতিকারক পোকামাকড় একেবারেই প্রবেশ করতে পারে না। এছাড়া পলিথিন দিয়ে তৈরি করা হয়েছে হাউসের চাল। যে কারণে তাপ নিয়ন্ত্রণে থাকছে। এছাড়া ঝড়-বৃষ্টি থেকেও চারাগুলো নিরাপদ থাকছে।

jagonews24

ওসমান গনী বলেন, এই প্রযুক্তিতে অল্প খরচে বিভিন্ন সবজি চারা উৎপাদন করা যায়। বেগুন, মরিচ, টমেটো, কফি, চাল কুমড়া, লাউ, করলা, পেঁপে, ঢেঁড়স, খিরা ইত্যাদি সবজি। ফুলের মধ্যে রয়েছে- গোলাপ, গাঁধা, অর্কিড, অ্যান্ধরিয়াম, চন্দ্র মল্লিকা।

এ বিষয়ে শার্পের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর (কৃষি) মো.করিম উদ্দিন বলেন, মাটি ছাড়া চারা উৎপাদনে কৃষক লাভবান হচ্ছে। উন্নত প্রযুক্তির কৃষি পণ্য উৎপাদন ও বাজার সংযোগের সমন্বিত সেবা কেন্দ্রের মাধ্যমে কৃষকদের ফসল বিক্রি করা হয়। এ জন্য ওই এলাকাতেই শার্পের উদ্যোগে সেবা কেন্দ্র গড়ে উঠেছে। এখানে বাজারজাত করার জন্য কৃষক ও পাইকাররা তাদের উন্নত সবজি ও চারা ক্রয় বিক্রয় করতে পারেন।

সেলফ-হেলপ অ্যান্ড রিহেবিলিটেশন প্রোগ্রামের (শার্প) নির্বাহী প্রধান মাহবুব-উল-আলম বলেন, এ অঞ্চলের কৃষকরা কোকো ডাস্ট ব্যবহার করে প্লাস্টিক ট্রেতে উৎপাদিত সবজির চারার নতুন জাত উদ্ভাবন করেছে। উন্নত প্রযুক্তিতে উৎপাদিত এসব সবজির চারা খুবই মানসম্মত। পোকা মাকড় বা কীটনাশক মুক্ত। এতে কৃষকও লাভবান হচ্ছেন।

জাহেদুল ইসলাম/আরএ/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।