স্বাভাবিক হচ্ছে রাঙ্গামাটির জনজীবন

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি রাঙ্গামাটি
প্রকাশিত: ০৫:৫৪ পিএম, ১৩ জুন ২০১৮ | আপডেট: ০৬:০৩ পিএম, ১৩ জুন ২০১৮

টানা তিনদিনের ভারী বর্ষণে আতঙ্কে দিন কাটছিল রাঙ্গামাটিবাসীর। তবে মঙ্গলবার বিকেল থেকে বৃষ্টি না হওয়ায় স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে এখানকার জনজীবন। রাঙ্গমাটির বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নেয়া লোকজন ফিরে যাচ্ছেন নিজ বাসস্থানে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাঘাইছড়িতে পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত এলাকাগুলো থেকে পানি সরে যাওয়ায় আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নেয়া লোকজন নিজ বাসস্থানে ফিরে গেছেন। জেলার সঙ্গে যেসব উপজেলার যোগাযোগ সাময়িক বন্ধ ছিল সেগুলোও স্বাভাবিক হয়েছে। তবে প্রবল বর্ষণের কারণে সড়কের বেশ কিছু স্থানের প্রতিরক্ষা দেয়াল ধসে গেছে।

অপরদিকে নানিয়ারচরে পাহাড় ধসে নিহত পরিবারগুলোকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ সহায়তা হিসেবে প্রতি মৃত ব্যক্তির বিপরীতে ২০ হাজার টাকা, ৩০ কেজি খাদ্য শস্যসহ অন্যান্য সহায়তা দেয়া হয়েছে। নানিয়াচরে নিহত একই পরিবারের চারজনসহ ১১ জনের দাহক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।

রাঙ্গামাটি শহরের ভেদভেদীস্থ আঞ্চলিক বেতার কেন্দ্রে আশ্রয় নেয়া আজগর আলী বলেন, গত সোমবার রাতে যখন বেশি বৃষ্টি হচ্ছিল তখন বউ-ছেলে নিয়ে বেতার কেন্দ্রের আশ্রয় কেন্দ্রে এসেছিলাম। এখন বৃষ্টি নেই তাই বাসায় চলে যাচ্ছি।

Rangamati02

বাংলাদেশ টেলিভিশন আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নেয়া খাদেজা বেগম বলেন, আমার স্বামী নেই। ছেলে ও ছেলের বউয়ের সঙ্গে থাকি। রূপনগরে আমাদের বাড়ি। পাহাড় ধসে যাচ্ছে তাই ভয়ে ছেলে, ছেলের বউ আর নাতিকে নিয়ে আশ্রয় কেন্দ্রে এসেছিলাম। এখন দেখছি বৃষ্টি নাই তাই বাড়ি ফিরে যাচ্ছি।

রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসক এ কে এম মামুনুর রশিদ বলেন, গতকাল বিকেল থেকে বৃষ্টি না হওয়ায় রাঙ্গামাটির পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক। টানা বৃষ্টি না হওয়ায় মানুষ আশ্রয় কেন্দ্র ছেড়ে নিজেদের বাসায় ফিরে যাচ্ছে অনেকে। বাঘাইছড়ি উপজেলার পাহাড়ি ঢলের পানিও কমে গেছে।

তিনি আরও বলেন, নানিয়ারচরে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহয়তা প্রদান করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও আমরা সতর্ক রয়েছি। যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় আমরা প্রস্তুত আছি।

উল্লেখ্য, গত তিনদিনের ভারী বর্ষণে রাঙ্গামাটির নানিয়ারচর উপজেলায় একই পরিবারের চারজনসহ ১১ জন নিহত হয়। জেলার একাধিক স্থানে পাহাড় ধস ও ঘর-বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে অন্য কোনো উপজেলায় হতাহতের সংবাদ পাওয়া যাইনি।

আরএআর/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :