শুভেচ্ছা পোস্টারে প্রস্রাব, প্রতিবাদ করায় পুড়িয়ে মারার হুমকি!

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক চট্টগ্রাম
প্রকাশিত: ০৩:২০ পিএম, ২৩ জুন ২০১৮

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে করা পোস্টারে শিশু দিয়ে প্রস্রাব করিয়ে সেই ছবি ফেসবুকে ছড়ানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই ঘটনার প্রতিবাদ করায় স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ কর্মীকে পুড়িয়ে মারার হুমকিও দেয়া হয়েছে।

কোতোয়ালি থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন এ বিষয়ে জাগো নিউজকে বলেন, ‘গত ২১ তারিখ মেজবাহ উদ্দিন সোহেল রানা নামে একজন থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে করা পোস্টারের অবমাননার প্রতিবাদ করায় বাদীকে পুড়িয়ে মারার হুমকি দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আদালত থেকে অভিযোগ তদন্তের নির্দেশনা পেলে খতিয়ে দেখা হবে।’

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মিরসরাইয়ের আওয়ামী লীগ নেতা নিয়াজ মোর্শেদ এলিট বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে ব্যানার ও পোষ্টার প্রকাশ করেন। ওই ব্যানার ও পোস্টারে নিয়াজ মোর্শেদ এলিটের মুজিব কোট পরিহিত ছবি ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের ছবি রয়েছে।

সম্প্রতি স্থানীয় রাজনীতির বিরোধের জেরে ওই পোস্টার ও ব্যানারে শিশুদের দিয়ে প্রস্রাব করানো হয়। পরে সেই ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হয়। ওই ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে অনলাইনে ও রাজনীতির মাঠে ওঠে প্রতিবাদের ঝড়। প্রতিবাদ করায় মেজবাহ উদ্দিন নামে আওয়ামী লীগের এক কর্মীকে প্রাণনাশের হুমকি দেয় প্রতিপক্ষ। গত ২১ জুন নগরীর কোতোয়ালি থানায় হুমকির বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি করেন মেজবাহ উদ্দিন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে নিয়াজ মোর্শেদ এলিটের ছবি সংবলিত পোস্টার ও ব্যানারে মিরসরাই ৮ নম্বর দুর্গাপুর ইউনিয়নের ছাত্রলীগ সভাপতি আনিস রিফাত ও ছাত্রলীগ কর্মী এম ডি সেলিমের যোগসাজশে শিশুদের দিয়ে প্রস্রাব করানো হয়। যে ছবির একপাশে রয়েছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা এবং প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের ছবি। এই দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করে সেই ছবি আনিস রিফাতের ফেসবুক আইডি থেকে পোস্ট করা হয়। ঘটনার প্রতিবাদ করায় মেজবাহ উদ্দিন ও তার পরিবারের সদস্যদের পুড়িয়ে মারার হুমকি দেন আনিস রিফাত ও তার সহযোগীরা।

স্থানীয় সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখেই এই বিরোধের শুরু। বর্তমান এমপি আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এবং গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে আগামী নির্বাচনেও দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী। তবে তার বিপরীতে সম্প্রতি বেশ জোরেশোরেই শোনা যাচ্ছে তরুণ শিল্পপতি ও বড়তাকিয়া গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়াজ মোর্শেদ এলিটের নাম। ওই বিরোধের জেরে দু’পক্ষের কর্মী-সমর্থকরা প্রায়ই নিজেদের মধ্যে সংঘাতে জড়াচ্ছেন। অভিযোগ ওঠা ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি আনিস রিফাত গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের পক্ষের বলে এলাকায় পরিচিত।

এদিকে ওই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছেন চট্টগ্রামের সচেতন মহল ও আওয়ামী লীগ নেতারা। তারা বলছেন, রাজনীতিক বিরোধের জেরে বঙ্গবন্ধু ও তার মুজিব কোট এবং প্রধানমন্ত্রীকে অবমাননা করার কোনো অধিকার কারও নেই। ওই ঘটনার জন্য যারাই দায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, ‘মুজিব কোট বঙ্গবন্ধুর আদর্শের প্রতীক। সেই পোশাকের অবমাননা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রধানমন্ত্রীর ছবি সংবলিত পোস্টারকে এভাবে অপমানের কোনো সুযোগ নেই। ওই ঘটনার অবশ্যই যথাযথ তদন্ত করে দোষীকে আইনের আওতায় আনতে হবে।’

তবে এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা আনিস রিফাত ও উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল আলম চৌধুরীর সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সংযোগ স্থাপন করা যায়নি। কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন।

আবু আজাদ/এমএআর/আরআইপি

আপনার মতামত লিখুন :