তিস্তার পানিতে ৫ শতাধিক পরিবার বন্দী
ভারী বর্ষণ ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় লালমনিরহাটের পাঁচ উপজেলায় সৃষ্ট বন্যায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় ৫ শতাধিক পরিবার।
সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা দোয়ানী তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলে নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এদিকে, তিস্তা নদীর পানির তোড়ে হাতীবান্ধা উপজেলার সিংগিমারী ইউনিয়নের দক্ষিণ ধুবনী গ্রামের সড়ক ভেঙে গেছে। ফলে ওই এলাকার শিক্ষার্থীসহ লোকজনের ভোগান্তি বেড়েছে।
তিস্তা নদীতে বন্যা দেখা দেয়ায় লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলা তিস্তা চরবেষ্টিত গ্রামগুলোর বসতঘরে বন্যার পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। হাতীবান্ধা উপজেলার পশ্চিম সারডুবী গাইডবান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পানি প্রবেশ করায় শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

এছাড়া হাতীবান্ধা তিস্তা চরের চর গড্ডিমারী, চর ধুবনী, সিংগিমারী, সিন্দুর্না, হলদিবাড়ি, ডাউয়াবাড়ি, বড়খাতা, ফকিরপাড়া আশপাশের কয়েকটি গ্রামসহ অন্তত ৫ শতাধিক গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, হাতীবান্ধা উপজেলার ধুবনী গ্রামের অস্থায়ী বাঁধগুলো হুমকির মুখে পড়েছে। এ বাঁধগুলো ভেঙে গেলে তিস্তার পানি হাতীবান্ধা শহরে ঢুকে পড়বে। আদিতমারী উপজেলার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ সংস্কার না করায় হুমকির মধ্যে পড়েছে।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডে সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকাল থেকে তিস্তার গজলডোবায় পানি কমতে শুরু করেছে। তিস্তার ব্যারাজের ৪৪টি গেট খুলে দেয়া হয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা অববাহিকায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ৯৯ মিলিমিটার।

গড্ডিমারী ইউপির চেয়ারম্যান আতিয়ার রহমান জানান, তার ইউনিয়নের চর গড্ডিমারী এলাকায় বসবাসরত ৩ শতাধিক বাড়িতে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। ওসব গ্রামের মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন।
হাতীবান্ধা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ফেরদৌস আহমেদ বলেন, বন্যা মোকাবেলায় আমাদের আগাম প্রস্তুতি রয়েছে। বন্যাকবলিত ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল আলম জানান, ভারী বর্ষণের সঙ্গে উজানের পাহাড়ি ঢলে রোববার সকাল থেকে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেতে থাকে। সোমবার সকাল থেকে পানি কমতে শুরু করেছে। এভাবে কমতে থাকলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে।
রবিউল হাসান/এএম/এমএস