সারাদিন তাদের বসিয়ে রেখে ফিরিয়ে দিলো ব্যাংক

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ফরিদপুর
প্রকাশিত: ০৫:২৪ পিএম, ২০ আগস্ট ২০১৮

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার প্রায় দুই হাজার বয়স্ক, প্রতিবন্ধী ও দুস্থ নারী-পুরুষ সরকার প্রদত্ত ভাতা না পেয়ে খালি হাতে ফিরে গেলেন। তীব্র গরম ও রোদে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ব্যাংকের বাইরে দাঁড়িয়ে থেকে অবশেষে খালি হাতে ফিরে যেতে হলো তাদের। রোববার ফরিদপুরের চরভদ্রাসন সোনালী ব্যাংক শাখায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, চরভদ্রাসন উপজেলার বৃদ্ধ, প্রতিবন্ধী ও দুস্থ চার হাজার নারী-পুরুষের সরকারি ভাতা প্রদানের দিন ছিল রোববার। সকাল থেকে তারা সোনালী ব্যাংক চরভদ্রাসন শাখায় এসে সমবেত হন। ব্যাংক ম্যানেজার এ কে এম নুরুল আলম ভাতাগ্রহীতাদের বইগুলো এক এক করে গ্রহণ করে তাদের বাইরে অপেক্ষায় রাখেন। পরে আইনগত জটিলতার কারণে প্রায় দুই হাজার ভাতাগ্রহীতাকে ভাতা দেননি।

ভাতা পাওয়ায় আশায় প্রচণ্ড কষ্ট সহ্য করে অপেক্ষায় থাকেন তারা। কিন্তু বিকেলে ব্যাংক ম্যানেজার এ কে এম নুরুল আলম তাদেরকে ভাতা দেয়া হবে না বলে জানিয়ে দেন। সরকার প্রদত্ত এই ভাতা না পেয়ে মন ভেঙে যায় সবার।

ডাঙ্গী গ্রামের আব্দুল গফুর মৃধা বলেন, আমার বৃদ্ধা মা আনোয়ারা বেগমের (৭৫) নামে ২২৯০ নং বইতে বয়স্কভাতা হিসেবে ছয় মাস পর পর তিন হাজার টাকা করে ভাতা দেয়া হয়। আজ সকাল ৮টায় অসুস্থ মাকে নিয়ে ভাতা তুলতে ব্যাংকে আসি। কিন্তু ম্যানেজার আমাদের ব্যাংকের মধ্যে ঢুকতে দেননি। প্রচণ্ড রোদের মধ্যে দাঁড়িয়ে থেকে দুপুর ১টায় মা আনোয়ারা বেগম মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে চরভদ্রাসন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে তাকে ভর্তি করি। আমার মা না বাঁচলে ভাতার টাকা দিয়ে কি করব।

ফাজেলখার ডাঙ্গী গ্রামের ইমরান মোল্যা বলেন, আমার দাদি হাজু খাতুন (৮০) অসুস্থ হয়ে দীর্ঘদিন ধরে ঘরে পড়ে আছেন। এর আগের ব্যাংক ম্যানেজার একমাত্র নাতি হিসেবে দাদির বয়স্কভাতা আমাকে দিতেন। কিন্তু নতুন এই ম্যানেজার আসার পর আজ কয়েকদিন ধরে শুধু ঘুরাচ্ছেন। কিন্তু দাদির ভাতার টাকা দিচ্ছেন না।

উপজেলা হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের প্রধান সহকারী জাহিদ হোসেন বলেন, সোনালী ব্যাংক ম্যানেজার নুরুল আলম চরভদ্রাসন শাখায় পোস্টিং নেয়ার পর সব ব্যাপারে চরম ঝামেলা করতেছেন। ভুক্তভোগীরা প্রতিদিন আমাদের কাছে এসে অভিযোগ করে চলেছেন। কিন্তু আমরা আর কী করব বলেন।

সমাজসেবা কার্যালয় সূত্র জানায়, বিগত দিনের ব্যাংক ম্যানেজাররা বয়স্কভাতা, প্রতিবন্ধীভাতা ও বিধবাভাতার মোট অর্থ আমাদের দফতরে পাঠিয়ে দিতেন। আমরা গ্রাহকদের মাঝে শান্তিপূর্ণভাবে ভাতার টাকা বিতরণ করতাম। কিন্তু বর্তমান ব্যাংক ম্যানেজার নিজেই ভাতার টাকা প্রদান করবেন বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। ফলে এ বছর ভাতাগ্রহীতারা ঈদের আগে ভাতার টাকা না পেয়ে হতাশায় বাড়ি ফিরেছেন।

এ ব্যাপারে সোনালী ব্যাংক চরভদ্রাসন শাখার ম্যানেজার এ কে এম নুরুল আলম বলেন, বিগত দিনে এই শাখার ম্যানেজাররা আইন অনুযায়ী অর্থ বিতরণ করেননি। তারা মানবিক দিক বিবেচনা করে অর্থ বিতরণ করলেও আমি পরিপূর্ণ আইন মেনে দায়িত্ব পালন করতে চাচ্ছি।

বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের সারাদিন রোদের মধ্যে দাঁড় করিয়ে রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ব্যাংকের মধ্যে জায়গা কম থাকায় তাদেরকে বাইরে দাঁড় করে রাখতে বাধ্য হয়েছি।

এএম/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।