পুঁজি সঙ্কটে দুশ্চিন্তায় নাটোরের চামড়া ব্যবসায়ীরা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নাটোর
প্রকাশিত: ০৯:০৯ পিএম, ২০ আগস্ট ২০১৮

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম নাটোরের চামড়ার মোকামে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। প্রতিবার এখানকার চামড়া বাজার থেকে প্রায় ২০০ কোটি টাকার চামড়া ঢাকার ট্যানারিগুলোতে সরবরাহ করা হয়।

তবে চলতি বছর পুঁজি সঙ্কট ও লবণের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় রয়েছেন চামড়া ব্যবসায়ীরা। সেইসঙ্গে সরকার চামড়ার দাম বেঁধে দেয়ায় অর্ধেকে নেমে এসেছে চামড়ার বাজার দর।

সরেজমিনে চামড়ার মোকাম ঘুরে দেখা যায়, নাটোর শহরের চকবৈদ্যনাথ এলাকায় নাটোর-রাজশাহী মহাসড়কের দুই পাশে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে অবস্থিত দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম চামড়ার বাজার। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে এখানকার চামড়ার আড়তগুলোতে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। চামড়া ভালোভাবে প্রক্রিয়াজাত করে রাখতে আড়তগুলো মেরামত, রঙ করা এবং পরিষ্কার করা হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতি বছর দেশের মোট চামড়ার ৩০ থেকে ৩৫ ভাগ এই বাজার থেকে ঢাকার ট্যানারিগুলোতে সরবরাহ করা হয়। দেশের উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা এবং খুলনা, যশোরসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে গরু ও ছাগলের চামড়া নাটোরের বাজারে আমদানি হয়। এসব চামড়া ঢাকার ট্যানারিগুলোতে সরবরাহ করা হয়। এবার রাজধানীর বাইরে ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন গরুর চামড়া প্রতি বর্গফুট ৩৫ টাকা থেকে ৪০ এবং খাসির চামড়া প্রতি বর্গফুট ১৩ থেকে ১৫ টাকা নির্ধারণ করেছে। প্রতি বছর ট্যানারি মালিকদের বেঁধে দেয়া দামের চেয়ে মৌসুমী ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত দামে চামড়া কেনায় বিপাকে পড়েন মূল ব্যবসায়ীরা। এতে আশঙ্কা থাকে চামড়া পাচারের। সেইসঙ্গে ঈদের আগে চামড়ার প্রধান কাঁচামাল লবণের দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা লোকসানে পড়েন। এছাড়া ট্যানারি মালিকদের কাছে পড়ে আছে কোটি কোটি টাকা বকেয়া। ফলে চরম পুঁজি সঙ্কটে আছেন এখানকার চামড়া ব্যবসায়ীরা।

Natore-Leather-Market-1

চামড়া ব্যবসায়ী পারভেজ হোসেন বলেন, কোরবানিকে সামনে রেখে আমরা আড়ৎ মেরামত করছি। চামড়ার যে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে তা বর্তমান বাজারের সঙ্গে মিল আছে।

আরেক চামড়া ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম নুরু বলেন, চামড়া বাজারে মন্দাভাব বিরাজ করছে। ঈদের আগে ট্যানারি মালিকরা পুঁজি সরবারাহ করলে এবং সেইসঙ্গে লবণের বাজারে স্থিতিশীল থাকলে মন্দাভাব কেটে যাবে।

স্থানীয় চামড়া ব্যবসায়ী সায়দার খাঁন বলেন, লবণের দাম স্থিতিশীল। চামড়া পাচার রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিলে চামড়া শিল্প লাভের মুখ দেখবে।

নাটোর চামড়া ব্যবসায়ী সংগঠনের সহ-সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হালিম সিদ্দিকী বলেন, কোরবানির আগেই পুঁজি সরবরাহ করে চামড়া শিল্পকে সচল রাখবে ট্যানারি মালিকরা; এমনটি আশা করছি। দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকা শক্তি চামড়া শিল্পের প্রসারে প্রধান কাঁচামাল লবণের দাম স্থিতিশীল রাখাসহ চামড়া পাচার রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিলে এ বছর চামড়া শিল্প লাভের মুখ দেখবে।

রেজাউল করিম রেজা/এএম/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।