কাউন্টারে টিকেট নেই, বেশি দামে নিতে হচ্ছে সিন্ডিকেট থেকে

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি পঞ্চগড়
প্রকাশিত: ০৮:১৬ পিএম, ২৭ আগস্ট ২০১৮

পঞ্চগড়ে ঢাকাগামী বাসের টিকিট প্রদানে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। ঈদ উপলক্ষে যাত্রীদের ভিড়ের কারণে বিভিন্ন পরিবহন এজেন্ট নিয়ন্ত্রিত স্থানীয় কাউন্টারে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত তিন থেকে চারশ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। ঈদের পরদিন থেকে এই সিন্ডিকেট তাদের তৎপরতা শুরু করে।

সোমবার দুপুরে জেলা শহরের হানিফ এন্টারপ্রাইজের স্থানীয় কাউন্টারে ঢাকা যাওয়ার টিকিট না পেয়ে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ৮৫০ টাকা মূল্য লেখা টিকিট এক হাজার ১০০ টাকায় কিনেন যাত্রীরা। এ নিয়ে ঢাকাগামী স্থানীয় যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

ঢাকাগামী যাত্রী ও স্থানীয়রা জানায়, পঞ্চগড় জেলা শহর থেকে হানিফ এন্টারপ্রাইজ, নাবিল পরিবহন, বাবলু এন্টারপ্রাইজ, এনা পরিবহনসহ প্রায় ২০টি পরিবহন কোম্পানির ৮০ থেকে ৯০টি বাস ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় নিয়মিত চলাচল করে। এসব যানবাহনে পঞ্চগড় থেকে ঢাকার ভাড়া ৫৫০ থেকে ৭৫০ টাকা। কিন্তু ঈদুল আজহা উপলক্ষে বরাবরের মতো এবারও ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়। হানিফ এন্টারপ্রাইজ বর্তমানে পঞ্চগড় থেকে ঢাকা যাওয়ার প্রতিটি আসনের টিকিট ৮৫০ টাকায় বিক্রি করলেও তাদের কাউন্টারে কোনো টিকিট পাওয়া যাচ্ছে না। তবে অতিরিক্ত টাকা দিলে একই পরিবহনের স্থানীয় হেলপার অথবা ধোলাইকারীর কাছে টিকিট পাওয়া যাচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, কাউন্টার ম্যানেজারসহ পরিবহন সংশ্লিষ্টরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ৮৫০ টাকার টিকিট এক হাজার ১০০ থেকে এক হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি করছে। তবে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে কেনা টিকিটের মধ্যে মূল্যের জায়গায় ৮৫০ টাকাই লেখা থাকছে। একই অবস্থা অন্য পরিবহনেরও। তারা প্রতি আসনের টিকেটের মূল্য এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করছে। অতিরিক্ত ভাড়ায় স্থানীয় যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হলেও এ নিয়ে জেলা প্রশাসন বা পরিবহন সংশ্লিষ্টদের কোনো নজরদারি দেখা যায়নি।

Panchagarh-Bus-Ticket-1

জেলা শহরের ধাক্কামারা পুরাতন পঞ্চগড় এলাকার আল মামুন বলেন, সোমবার দুপুরে আমি হানিফ এন্টারপ্রাইজের কাউন্টারে গিয়ে কোনো টিকিট পাইনি। তবে কাউন্টার ম্যানেজার বাপ্পির সঙ্গে কথা বলে বুঝতে পারি, ফয়সাল নামে একজনের কাছে টিকিট পাওয়া যাবে। পরে আমি ফয়সালের সঙ্গে যোগাযোগ করলে মঙ্গলবার সকাল ৯টায় হানিফ এন্টারপ্রাইজের একটি গাড়িতে দুই হাজার ২০০ টাকায় জি-১ এবং জি-২ নাম্বর আসনের দুইটি টিকিট পাই। আমি ১০০ টাকা গাড়িতে দেওয়ার কথা বলে দুই হাজার ১০০ টাকা নগদ দিয়ে টিকিট দুইটি গ্রহণ করি। অথচ টিকিটের মূল্যের জায়গায় ৮৫০ টাকা করে দুইটি মুল্য এক হাজার ৭০০ টাকাই লেখা রয়েছে। দুই আসনের টিকিটটি মি. রানা নামে ইস্যু করা ছিল।

এ ব্যাপারে সিন্ডিকেট সদস্য ফয়সলের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। তবে হানিফ এন্টারপ্রাইজের স্থানীয় কাউন্টার ম্যানেজার বাপ্পি বলেন, আমাদের কাউন্টারে ঢাকাগামী গাড়িতে প্রতি আসনের বিপরীতে ৮৫০ টাকায় টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। কারও কাছে এক টাকাও বেশি নেয়ার কোনো সুযোগ নেই।

হানিফ এন্টারপ্রাইজের স্থানীয় এজেন্ট প্রতিনিধি আক্তারুজ্জমান শাজাহান বলেন, ঈদ উপলক্ষে আমাদের প্রতিটি টিকিটের নির্ধারিত মূল্য ৮৫০ টাকা। টিকিটের সংকট রয়েছে। তবে সিন্ডকেটের মাধ্যমে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ সত্য নয়। কোনো যাত্রী আগে টিকিট কিনে বেশি দামে বিক্রি করলে অবশ্যই সেটা একটা অপরাধ। এতে আমাদের কেউ সংশ্লিষ্ট থাকলেও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ গোলাম আজম বলেন, ঈদে ঢাকাগামী যাত্রীদের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো প্রকার টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়নি। তবে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়সহ বিভিন্ন বিষয়ে মনিটরিং করা হচ্ছে। এ নিয়ে কোনো অভিযোগ পেলে অবশ্যই সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সফিকুল আলম/এমএএস/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।