কিশোরীর মৃত্যু নিয়ে রহস্য

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি পিরোজপুর
প্রকাশিত: ০৬:৩৪ পিএম, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮

পিরোজপুর সদর থানা পুলিশ শুক্রবার শ্মশান থেকে লক্ষ্মী রানী (১৭) নামে এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করে। রোববার বিকেলে মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। মৃত কিশোরী পিরোজপুরের মোড়েলগঞ্জ উপজেলার হোগলাবুনিয়া গ্রামে অরুন দাসের মেয়ে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে পিরোজপুর সদর থানার উপপরিদর্শক ভাস্কর চন্দ্র দে জানান, অরুণ দাসের মেয়ে লক্ষ্মী রাণীকে কাউখালী উপজেলার বাসিন্দা তরুন দের স্ত্রী সঙ্গীতা আইচ প্রায় সাত বছর আগে তাদের ঢাকার বাসায় গৃহ পরিচারিকার হিসেবে নিয়ে যায়। তাদের বাসা ঢাকার হাজারিবাগের ২৪০ নম্বর সুলতানগঞ্জ রাজাবাজারে। তাকে ঢাকায় নেয়ার সময় লক্ষ্মীর বাবা-মায়ের সঙ্গে চুক্তি করে যে লক্ষ্মীর পারিশ্রমিক বাবদ প্রতি মাসে এক হাজার টাকা দিবে। সে যখন বিয়ের যোগ্য হবে তখন তার বিয়ের খরচ দেয়া হবে। কিন্তু লক্ষ্মীর বাবা অরুণ চন্দ্র দাস পুলিশকে বলেছেন সাত বছরে একটি টাকাও দেয়নি তারা। হঠাৎ করে গত ১৩ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সঙ্গীতা আইচের ভাই টুটুল আইচ মোবাইল ফোনে লক্ষ্মীর বাবাকে জানায় আপনার মেয়ে অসুস্থ। বিকেলে লক্ষ্মীর মৃত্যু সংবাদ দেয়া হয়। শুক্রবার তারা লক্ষ্মীর মরদেহ নিয়ে পিরোজপুরে এসে দ্রুত দাহ করার জন্য শ্মশানে নেয়া হয়।

পিরোজপুর সদর থানার ওসি এসএম জিয়াউল হক বলেন, লক্ষ্মীকে গৃহকর্তা ও তার বাসার লোকেরা নির্যাতন করে হত্যা করেছে এমন সংবাদ পেয়ে এসআই ভাস্কর চন্দ্র দেকে পাঠিয়ে দাহ করার আগেই পিরোজপুর শহরের পৌরসভা শ্মশান থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। তদন্তকারি কর্মকর্তা জানান লক্ষ্মীর মরদেহের সুরাত হাল রিপোর্ট করার সময় দেখা যায় তার গলা দাগ, মাথায় আঘাতের চিহ্ন, নাকদিয়ে রক্ত পড়ছিল।

ওসি জিয়াউল হক আরও জানান, রোববার তার ময়না তদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে। তবে কিশোরীর মৃত্যু রহস্যজনক বলে মনে হচ্ছে।

এ বিষয়ে একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। তবে ময়না তদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

হাসান মামুন/আরএ/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :