যশোরে গুলিতে নিহতরা আপন দুই ভাই

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি যশোর
প্রকাশিত: ০৮:২৯ পিএম, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮
প্রতীকী ছবি

যশোরে ফারুক হোসেন (৫০) ও আজিজুল ইসলাম (৪৫) নামে দুই ভাইয়ের মরদেহ দুই উপজেলা থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। শনিবার বিকেল থেকে নিখোঁজের পর রোববার সকালে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে রোববার বিকেলে তাদের পরিচয় নিশ্চিতের পর জানা যায় তারা আপন দুই ভাই।

নিহত ফারুক হোসেন ও আজিজুল ইসলাম শার্শা উপজেলার জামতলা সামটা এলাকার জেহের আলীর ছেলে। তারা মাদক বিক্রেতা ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রোববার সকালে আজিজুলের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয় শার্শা উপজেলার পশ্চিম কোটা গ্রামের একটি মেহগনি বাগান থেকে। আর ফারুক হোসেনের মরদেহটি কেশবপুর উপজেলার ধর্মপুর গ্রামের রাস্তার পাশ থেকে অজ্ঞাত হিসেবে উদ্ধার করে পুলিশ।

শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির জানান, রোববার সকালে শার্শা উপজেলার পশ্চিম কোটা গ্রামের একটি মেহগনি বাগানে মাথায় গুলিবিদ্ধ একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

ওসি আরও জানান, নিহত ব্যক্তি উপজেলার জামতলা সামটা গ্রামের জেহের আলীর ছেলে আজিজুল হক। তার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, দুই দল মাদক ব্যবসায়ীর মধ্যে বন্দুকযুদ্ধে তার মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে একই দিন সকালে কেশবপুর উপজেলার ধর্মপুর গ্রামের রাস্তার পাশ থেকে গুলিবিদ্ধ অপর একটি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মাথায় গুলিবিদ্ধ এ ব্যক্তির প্রাথমিকভাবে পরিচয় জানতে না পেরে মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। সেখানে তার ভাই সাইদুর গিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করেন।

নিহতদের ভাই সাইদুল হাসপাতালে সাংবাদিকদের বলেন, শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে আজিজুল ও ফারুক বাজারে যাওয়ার জন্য একসঙ্গে বাড়ি থেকে বের হন। রাত ১০টা পর্যন্ত তারা বাড়িতে না ফেরায় খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে বিষয়টি পুলিশকে জানান।

রোববার সকালে একটি মেহগনি বাগান থেকে শার্শার পুলিশ আজিজুলের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। তিনি (সাইদুল) তার ভাইয়ের মরদেহ শনাক্ত করার সময় কেশবপুর উপজেলা থেকে ‘অজ্ঞাত পরিচয়’ আরেকজনের মরদেহ মর্গে আনা হয়। মুখ দেখতে গিয়ে সেটি তার আরেক ভাই ফারুকের মরদেহ হিসেবে শনাক্ত করেন সাইদুল।

আজিজুলের বিরুদ্ধে জেলার বিভিন্ন থানায় মাদক আইনে অন্তত সাতটি মামলা রয়েছে বলে বাগআঁচড়া পুলিশ ক্যাম্পের এসআই আব্দুর রহিম হাওলাদার দাবি করেছেন।

কেশবপুর থানার ওসি মোহাম্মদ শাহীন বলেন, নিহত ফারুকের গলায় একটি ক্ষত রয়েছে। এটি গুলির দাগ কি না সেটা ময়নাতদন্ত করলে জানা যাবে।

মিলন রহমান/এফএ/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :