তিন ঘণ্টা পর কেঁদে উঠলো মৃত ভেবে ফেলে রাখা নবজাতক

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি যশোর
প্রকাশিত: ০৪:৩৫ পিএম, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে জন্মের পর মৃত ভেবে নবজাতককে কাপড়ে মুড়িয়ে টেবিলের নিচে ফেলে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে। জন্মের তিন ঘণ্টা পর কান্না শুনে শিশুটিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। অপরিপক্ক (প্রিম্যাচিউর) বাচ্চাটি এখনও জীবিত রয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে।

নবজাতককের মা প্রসূতি সালমা খাতুন যশোর শহরের খড়কি এলাকার বাসিন্দা।

প্রসূতি সালমা খাতুনের খালা আয়শা ও রোজিনার অভিযোগ করেন, গত ১৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টার দিকে সালমাকে গাইনি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। কিন্তু চিকিৎসকরা প্রসূতিকে সঠিকভাবে দেখাশোনা ও ব্যবস্থাপত্র দেননি। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ওয়ার্ডের তিন নাম্বার বেডে প্রসূতির প্রসব বেদনা ওঠে। তখন নার্স ও চিকিৎসককে ডাকাডাকি করলেও কেউ সাড়া দেননি। পরে আয়া হেলেনা প্রসূতি সালমার অপরিপক্ক ২৭ সপ্তাহের শিশুকে বেডের ওপরে প্রসব করান। এ সময় বাচ্চা নড়াচড়া না করায় আয়া হেলেনা মৃত ভেবে শিশুটিকে কাপড়ে পেঁচিয়ে ওই বেডের নিচে রেখে দেন। পরে রাত সাড়ে ৭টার দিকে প্রসূতির স্বজনরা শিশুর কান্নার শব্দ পেয়ে শিশুটিকে খোঁজা শুরু করেন। এ সময় বেডের নিচ থেকে তারা শিশুটিকে মোড়ানো অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

এই নিয়ে শিশুটির স্বজনদের সঙ্গে আয়া ও নার্সদের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। খবর পেয়ে হাসপাতালের আবাসিক সার্জন নিলুফার ইয়াসমিন ওয়ার্ডে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ সময় তিনি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নবজাতককে শিশু ওয়ার্ডে ভর্তির পরামর্শ দেন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত শিশুটি জীবিত রয়েছে।

বুধবার দুপুরে যশোর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবুল কালম আজাদ বলেন, ঘটনাটি যেভাবে বলা হচ্ছে আসলে ঘটনা সেটি নয়। প্রসূতি ভর্তি ছিল। রোগীর সম্পর্কে আমাদের আগেই ধারণা ছিল। প্রসূতির বাচ্চার বয়স ২৭ সপ্তাহ। অপরিপক্ক বাচ্চা প্রসব করানো ঝুঁকিপূর্ণ। হাসপাতালে চিকিৎসকদের পরামর্শে ওষুধের মাধ্যমে বাচ্চাটি প্রসব করানো হয়। এরপর বাচ্চাটি র্যাপিং ( মোড়ানো) করে রাখা হয়েছিল। কিন্তু প্রসূতির লোকজন ভুল বুঝেছে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের হাসপাতালে আইসিইউ নেই। প্রসূতিকে ভালো জায়গায় নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা অন্য কোথাও নেননি। আমাদের এখানে প্রসব করানো হয়েছে। বাচ্চাটি জীবিত আছে। কিন্তু তাকে শেষ পর্যন্ত বাঁচানো সম্ভব হবে না। এই ধরণের বাচ্চা সাধারণত বাঁচানো যায় না।

মিলন রহমান/আরএআর/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।