কাঁধে সাইকেল নিয়ে সেতু পার

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ঠাকুরগাঁও
প্রকাশিত: ০৫:২৫ পিএম, ০৬ অক্টোবর ২০১৮

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার চাড়োল ইউনিয়নের ভোটপাড়ায় সেতু নির্মাণের পাঁচ মাস পরও সংযোগ সড়কের দুই পাশের মাটি ভরাট না করায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ৫০টি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ।

ঐতিহ্যবাহী হাট লাহিড়ি বাজারে আসতে মরণফাঁদ অতিক্রম করতে হচ্ছে উপজেলার চাড়োল ইউনিয়নের পারদেশিপাড়া, ভোটপাড়া, ঝাড়গাও, খেকিডাঙ্গা, গুঞ্জরা হাট, আখানগর, পাতিলাভাসাসহ আশপাশের প্রায় ৫০টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষকে। সেতু পারাপারের সময় ইতোমধ্যে দুইজনের হাত ও একজনের পা ভেঙে গেছে।

স্থানীয়রা জানান, চাড়োল ইউনিয়নের পারদেশিপাড়া, ভোটপাড়া, ঝাড়গাও, খেকিডাঙ্গা, গুঞ্জরা হাট, আখানগর, পাতিলাভাসাসহ আশপাশের প্রায় ৫০টি গ্রামের মানুষের লাহিড়ি হাটে আসার জন্য ভোটপাড়া গ্রামে একটি সেতু নির্মাণ করা হয়। সড়ক ভেঙে পানিতে ভেসে যাওয়ায় সেতুর অভাবে বর্ষা মৌসুমে লাহিড়ি হাটে যাতায়াতে চরম অসুবিধায় পড়তে হত পথচারীদের।

উপজেলা প্রকৌশল অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, গত বছর প্রায় ২ কোটি ১৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ভোটপাড়া দিয়ে লাহিড়ি যাওয়ার জন্য একটি সেতু নির্মাণ করা হয়। সেতু নির্মাণের পর সড়কের দুই পাশে মাটি ভরাট না করা এবং চলাচলের জন্য বিকল্প সড়ক না থাকায় সেতু পারাপারের জন্য কাঠ দিয়ে সিঁড়ি তৈরি করে দেয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

পাতিলাভাসা গ্রামের সমশের আলী বলেন, কাঁধে সাইকেল নিয়ে এই পথ দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। আজ একটুর জন্য প্রাণে বেঁচে গেছি। এর আগেও দু’দিন সেতু থেকে পড়ে যাই।

jagonews

স্থানীয় ব্যবসায়ী আখানগর গ্রামের মকবুল হোসেন বাইসাইকেল কাঁধে নিয়ে সেতু পার হওয়ার সময় দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, আগে সেতু ছিল না। দু’চারদিন পানিতে কাপড় ভিজে গেলেও তেমন কোনো সমস্যা হত না। কিন্তু এখন সেতু নির্মাণের পর কাঁধে সাইকেল নিয়ে সেতু পার হতে হয়।

স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের সভাপতি আবুল কাসেম বলেন, এলাকায় ব্যাপক হারে উন্নয়ন করছে আওয়ামী লীগ সরকার। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর অনিয়ম, অবহেলা এবং সরকারি কর্মকর্তাদের উদাসীনতায় সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ম্লান হচ্ছে। সেতুটির দুই পাশে মাটি ভরাট জরুরি।

চাড়োল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দিলিপ কুমার চ্যাটার্জী বলেন, কয়েকমাস ধরে স্থানীয় লোকজন পরিষদে এসে দুর্ভোগের কথা বলেছেন। আমি নিজেও সেতুর অবস্থা দেখেছি। উপজেলা প্রকৌশলীকে একাধিকবার বলার পরও কি কারণে মাটি ভরাট কাজটি হচ্ছে না তা আমি জানি না।

স্থানীয় এক ইউপি সদস্য বলেন, মাটি ভরাট কাজের টাকা নিয়ে স্থানীয় প্রকৌশলী, ঠিকাদার ও স্থানীয় ব্যক্তির অভ্যন্তরীণ কোন্দল দেখা দিলে মাটি ভরাট কাজ বন্ধ হয়ে যায়। বিষয়টি এখনও মীমাংসা হয়নি। তাই মাটি ভরাট কাজ বন্ধ রয়েছে।

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার প্রকৌশলী মাইনুল ইসলাম বলেন, মাটি ভরাটের কাজটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক রামবাবু স্থানীয় এক ব্যক্তিকে দিয়েছিলেন। এক পাশে অল্প মাটি ভরাটের পর কাজ বন্ধ করে দিয়েছে ওই ব্যক্তি। আমি বিষয়টি দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করছি। দ্রুতসময়ে এলাকার মানুষের দুর্ভোগের দিন শেষ হবে।

রবিউল এহসান রিপন/এএম/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।