বাবার কারণে মা হারাল দুই শিশু

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি পঞ্চগড়
প্রকাশিত: ০৬:৫২ পিএম, ১৭ অক্টোবর ২০১৮

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় লিজা আক্তার নামে দুই সন্তানের জননী এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। তাকে হত্যার পর ওড়না দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে বলে দাবি করেন নিহতের স্বজনরা।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধারসহ তার স্বামীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার গভীর রাতে বোদা উপজেলার বেংহাড়ি বনগ্রাম ইউনিয়নের ইসলামপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

বুধবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য তার মরদেহ পঞ্চগড় সদর হাসপাতলের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় গৃহবধূর ছোট ভাই বাদী হয়ে নিহতের স্বামী আজিজুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রীর বড় ছেলে আল আমিন এবং আল আমিনের শ্বশুর আব্দুস সালামসহ অজ্ঞাত আরও তিনজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, প্রায় ১০ বছর আগে বোদা উপজেলার বেংহাড়ি বনগ্রাম ইউনিয়নের আজিজুল ইসলামের (৫৫) প্রথম স্ত্রী তিন সন্তান রেখে মারা যান। পরে একই উপজেলার ময়দানদিঘি ইউনিয়নের গাইঘাটা এলাকার লিজা আক্তারকে বিয়ে করেন তিনি।

বর্তমানে লিজা আক্তারের মামুন (৬) ও মোমিন (৪) নামে দুটি ছেলে রয়েছে। প্রথম স্ত্রীর দুই ছেলে এক মেয়ের আলাদা সংসার রয়েছে। সম্প্রতি আজিজুল তার ৫০ শতক জমি বিক্রি করে তার প্রথম স্ত্রীর সন্তানদের টাকা দেয়ার পর দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করেন, বসতভিটার ১০ শতক জমি তার ছেলেদের নামে লিখে দিতে হবে। কিন্তু আজিজুল দ্বিতীয় স্ত্রী লিজা ও তাদের সন্তানদের জমি না দিয়ে বসতভিটাও বিক্রি করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ শুরু হয়।

নিহত গৃহবধূর পরিবারের দাবি, ভসতভিটার জমি নিয়ে কলহের জের ধরে মঙ্গলবার রাতে ঝগড়ার একপর্যায়ে আজিজুল, তার প্রথম স্ত্রীর বড় ছেলে আল আমিন ও আলামিনের শ্বশুর আব্দুস সালাম তাকে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে তারা বাড়ির আঙিনার আমগাছে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখার চেষ্টা করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী আজিজুলের ছয় বছরের ছেলে মামুন জানায়, তার বাবা ও বড় ভাই আলামিনের শ্বশুর তার মাকে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে। এ সময় বালিশ ফেটে সারা ঘরে তুলা ঘরে ছড়িয়ে যায়। মারা যাওয়ার আগে ছটফট করেছিলেন মা।

মামলার বাদী ও নিহতের ছোট ভাই হাসিবুল ইসলাম বলেন, আজিজুল তার ৫০ শতক জমি বিক্রির টাকা প্রথম স্ত্রীর তিন সন্তানকে দিয়ে দিয়েছেন। সর্বশেষ বসতভিটার ১০ শতক জমিও বিক্রি করে দেয়ার চেষ্টা করেন তিনি। এতে বাধা দেয়ায় আমার বোনকে বিভিন্ন সময় নির্যাতন করত। বিষয়টি নিয়ে সালিসও হয়েছে। পরিকল্পিতভাবে অন্যদের সহযোগিতায় আমার বোনকে হত্যা করেছেন আজিজুল।

বোদা থানা পুলিশের ওসি একেএম নুরুল ইসলাম বলেন, গৃহবধূর মরদেহ উঠানে ছিল। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় গৃহবধূর ভাই একটি হত্যা মামলা করেছেন। গৃহবধূর স্বামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সফিকুল আলম/এএম/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।