সৈয়দ আশরাফ, শাফায়াত নাকি অন্য কেউ?

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কিশোরগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৪:০১ পিএম, ১০ নভেম্বর ২০১৮

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে সরগরম হয়ে উঠেছে দেশের রাজনীতি। আন্দোলন-সংগ্রাম কিংবা সংলাপের প্রসঙ্গ চাপা পড়ে যাচ্ছে ভোটের উত্তাপে। দেশের রাজনীতির এসব নানা সমীকরণের মাঝে পর্দার আড়ালে ছিলেন ক্লিন ইমেজের রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।

দীর্ঘদিন ধরে তিনি ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত। চিকিৎসা নিচ্ছেন থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে। সংসদ থেকে নিয়েছেন লম্বা ছুটি। পরিবারের পক্ষ থেকেও বলা হচ্ছে তার অবস্থা মোটেও ভালো না। হয়তো রাজনীতিতে তিনি নাও ফিরে আসতে পারেন।

এ পরিস্থিতিতে কিশোরগঞ্জ-১ (কিশোরগঞ্জ সদর-হোসেনপুর) আসন থেকে তার নামে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। একই সঙ্গে দলের মনোনয়নপত্র কিনেছেন তার ছোট ভাই মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ শাফায়াতুল ইসলাম। একই আসন থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের মেজো ছেলে রাসেল আহমেদ তুহিন।

তফসিল ঘোষণার পর একই আসন থেকে সৈয়দ আশরাফ ও তার ভাইয়ের মনোনয়ন কেনার বিষয়টি এখন প্রধান আলোচনায়। তাহলে কি সৈয়দ আশরাফই আবার মনোনয়ন পাচ্ছেন? নাকি তার ভাই সৈয়দ শাফায়াতুল ইসলামকে এ আসনের মনোনয়ন দেয়া হবে? নাকি অন্য কেউ পাবেন সৈয়দ আশরাফের আসন থেকে দলের মনোনয়ন! এটি এখন টক অব দ্যা টাউন।

গতকাল শুক্রবার আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয় সংলগ্ন দলের নির্বাচন পরিচালনা কার্যালয় থেকে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ও মেজর জেনারেল শাফায়াতুল ইসলামের পক্ষে মনোনয়ন ফরম কেনা হয়। সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের জন্য ফরম সংগ্রহ করে নিয়ে যান তার ব্যক্তিগত সহকারী তোফাজ্জল হোসেন। পরে সৈয়দ আশরাফের ছোট ভাই মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ শাফায়াতুল ইসলামের পক্ষে একই আসনের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন সাবেক ছাত্রনেতা জহির উদ্দিন।

একই আসন থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী কৃষিবিদ মসিউর রহমান হুমায়ন, কিশোরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মাহমুদ পারভেজ, ডা. দীন মোহাম্মদ। আরও কয়েকজন এ আসন থেকে মনোনয়ন কেনার কথা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে কিশোরগঞ্জ-১ আসন থেকে কে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাবেন সেটাই দেখার বিষয়।

১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর কারাগারে খুন হওয়ার পর জাতীয় চার নেতার অন্যতম সৈয়দ নজরুল ইসলামের বড় ছেলে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম যুক্তরাজ্যে চলে যান। দীর্ঘদিন পর দেশে ফিরে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে কিশোরগঞ্জ-১ আসন থেকে নির্বাচন করে সংসদ সদস্য হন তিনি। ২০০১, ২০০৮ ও ২০১৪ সালের নির্বাচনেও একই আসন থেকে পুনরায় নির্বাচিত হন তিনি। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী, দলের সাধারণ সম্পাদক, এলজিআরডি মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। বর্তমানে তিনি জনপ্রশাসন মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন।

ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত সৈয়দ আশরাফ বর্তমানে থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অসুস্থতার কারণে গত ১৮ সেপ্টেম্বর সংসদ কার্যক্রম থেকে ৯০ কার্যদিবসের জন্য ছুটি নিয়েছেন তিনি।

গত ৪ নভেম্বর কিশোরগঞ্জে এক আলোচনা সভায় তার ছোট ভাই মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ শাফায়াতুল ইসলাম জানান, গুরুতর অসুস্থ সৈয়দ আশরাফ পরিবারের সদস্যদেরসহ কাউকেই চিনতে পারছেন না। এ পরিস্থিতিতে তার রাজনীতিতে ফিরে আসার সম্ভাবনা খুবই কম। পরিবারের পক্ষ থেকে তারা এখন রাজনীতি ও নির্বাচনের চেয়ে তার চিকিৎসার দিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।

কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জননন্দিত রাজনীতিবিদ সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম অনেকদিন ধরেই অসুস্থ। গত বছর তার স্ত্রীর মৃত্যুর পর তিনি অনেকটা ভেঙে পড়েন। তার শারীরিক অবস্থা কতটা খারাপ এ নিয়ে কারও স্পষ্ট ধারণা ছিল না। সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম রাজনীতিতে থাকছেন না এবং আগামী নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না- এমন ধারণা ছিল সবার। এমনকি সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের ভাইদের মধ্যে কেউ একজন এই আসনে নির্বাচন করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এরই মধ্যে সৈয়দ আশরাফুর ইসলামের ছোট ভাই মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ শাফায়াতুল ইসলাম এলাকায় এসে বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন। এছাড়া তার অপর দুই ভাই ড. সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম ও ড. সৈয়দ শরীফুল ইসলাম কিছুদিন আগে কিশোরগঞ্জে এসে ভোটার তালিকায় নিজেদের নাম অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

নূর মোহাম্মদ/আরএআর/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :