দাফনের দুই মাস পর তোলা হলো গৃহবধূর লাশ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি যশোর
প্রকাশিত: ০৮:৪৫ পিএম, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯
প্রতিকী ছবি

যশোরের মণিরামপুরে ইয়াসমিন নামে এক গৃহবধূর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। দাফনের প্রায় দুই মাস পর বুধবার দুপুরের দিকে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, থানার ওসি ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার উপস্থিতিতে মরদেহটি উত্তোলন করা হয়।

এর আগে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মণিরামপুর থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) খান আব্দুর রহমানের আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ২২ জানুয়ারি সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক নুসরাত জাবীন নিম্মী মরদেহটি ময়নাতদন্তের আদেশ দেন। গত ১০ জানুয়ারি নিহতের স্বামী মতিয়ার রহমান তার স্ত্রীকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ এনে দুইজনের বিরুদ্ধে আদালতে এ মামলা দায়ের করেন। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত কেউ এখনও আটক হয়নি।

জানা যায়, গত ১০ ডিসেম্বর উপজেলার ফেদাইপুর গ্রামের মতিয়ার রহমানের স্ত্রী দুই সন্তানের জননী ইয়াসমিনকে রাতের যে কোনো সময় হত্যা করে মরদেহ সীমানা বেড়ার তারের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়।

নিহতের স্বামীর পরিবারের অভিযোগ, হত্যার ঘটনা আড়াল করতে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ইয়াসমিনের মরদেহ ঝুলিয়ে রাখাসহ তড়িঘড়ি করে দাফন সম্পন্ন করা হয়।

নিহতের জা (ভাসুরের স্ত্রী) শামছুন্নাহার জানান, ইয়াসমিনের মরদেহের পা মাটিতে ছিল। মাথার চুলে পাতাসহ বিভিন্ন ধরনের আবর্জনা ছিল। তার গলার বাম পাশে আঙ্গুলের ছাপ ছিল। গোসলের সময় পরনের কাপড়-চোপড়ে ধর্ষণের আলামত দেখা যায়।

নিহতের বড় মেয়ে তুলি জানায়, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় তার মা রাতের খাবার রান্না করছিল। ওই সময়ে প্রতিবেশী বুলবুল খাঁ তার মাকে ডেকে নিয়ে যায়। তার অভিযোগ, তার মাকে হত্যা করা হয়েছে।

এদিকে আলোচিত এই হত্যার ঘটনার এক মাস পর গৃহবধূর স্বামী মতিয়ার রহমান গত ১০ জানুয়ারি একই গ্রামের বুলবুল খাঁ (৩০) ও তার বাবা আমিন উদ্দীনের (৫৩) বিরুদ্ধে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ এনে আদালতে মামলা করেন। মামলাটি আদালতের নির্দেশে ২১ জানুয়ারি মণিরামপুর থানায় এজহারভুক্ত হয়। পরদিন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই খান আব্দুর রহমান মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য আদালতে আবেদন করেন। এর প্রেক্ষিতে বুধবার দুপুরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আয়েশা সিদ্দীকা, থানার ওসি সহিদুল ইসলাম ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা খান আব্দুর রহমানের উপস্থিতিতে মরদেহটি উত্তোলন করা হয়।

মিলন রহমান/আরএআর/এমকেএইচ