নওগাঁয় কৃষকের মুখে হাসি ফুটিয়েছে পাট
চলতি পাট মৌসুমে নওগাঁয় পাট কাটা, জাগ দেওয়া, পাটকাঠি থেকে পাট ছাড়ানো ও শুকানো নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। আবহাওয়া অনূকুল হওয়ায় এবং পাটের ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। বাজারেও পাটের দাম ভালো বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।
এ বছর বৃষ্টিপাত ভালো হওয়ায় জমিতে সেচের প্রয়োজনও কম হয়েছিল। ফলে বৃষ্টিতে নদী, নালা, খাল, বিল ও ডোবাতে পানি থাকায় জাগ দেওয়ায় কোনো সমস্যাও হয়নি। এতে সেচ ও জাগ দিতে পানি না কেনায় কৃষকের বাড়তি লাভ হচ্ছে এবং অন্যান্য বছরের তুলনায় বিঘা প্রতি প্রায় দুই হাজার টাকার মতো সাশ্রয় হয়েছে। প্রতি বিঘায় পাটের ভাল ফলন হলে ১৩ থেকে ১৪ মণ হয়ে থাকে এবং খরচ হয় প্রায় নয় হাজার টাকার মতো।
জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবার নওগাঁ জেলায় সাত হাজার ৮৬০ হেক্টর জামিতে পাটের আবাদ করা হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিলো ৮ হাজার ৩৭৬ হেক্টর জমি। গত বছর আবাদ করা হয়েছিলো প্রায় ৮ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমি। জেলার ১১টি উপজেলায় কমবেশি পাটের আবাদ করা হলেও মূলত নওগাঁ সদর, বদলগাছী উপজেলা এবং মান্দা উপজেলায় পাটের আবাদ বেশি করা হয়েছে। এসব জমিতে দেশি, তোষা এবং মেছতা জাতের পাটের আবাদ করা হয়েছে।
অনুকূল আবহাওয়া হওয়ায় পাটের ফলন ভালো হওয়ায় প্রতি হেক্টর জমিতে ৫২ দশমিক ৫ মণ হারে হয়েছে বলে জানা গেছে।
আত্রাই উপজেলার উপজেলার ভোঁপাড়া গ্রামের কৃষক মজিবর আলী জাগো নিউজকে জানান, তিনি ৮ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন। পাটের ফলনও ভালো হয়েছে। সময়মতো বৃষ্টি হওয়ায় জমিতে সেচ কম লাগায় খরচও কম হয়েছে। দাম ভালো থাকলে লোকসান গুণতে হবে না।
এছাড়া মিরাপুর গ্রামের গহের আলী জাগো নিউজকে জানান, এক বিঘা জমিতে আধিয়ারি জমিতে পাটের আবাদ করেছেন। গতবার বিঘায় নয় মণ হয়েছিল এবার ভালো ফলন হয়েছে। বাজারে দামও ভালো আছে। দাম ১৬০০ টাকার মধ্যে থাকলে ভালো হবে। কিন্তু বাজার পড়ে গেলে লোকসান হবে বলে জানান।
মান্দা উপজেলার বৌদ্দপুর গ্রামের সিরাজ আলী জাগো নিউজকে জানান, দেড় বিঘা জমিতে পাটের আবাদ করেছেন। খরায় প্রথম দিকে মারা যাওয়ার উপক্রম হলেও পরে বৃষ্টিতে পাট ভালো হয়েছে। বিঘা প্রতি খরচ প্রায় সাড়ে আট হাজার টাকার মতো হয়েছে। বাজারে পাটের দাম ভালো থাকায় তাড়াতাড়ি শুকাতে হচ্ছে। গতবারের তুলনায় এবার দাম ভালো পাবেন বলে জানান।
এবার বৃষ্টি সময়মতো হওয়ায় খরচ একটু কম হয়েছে। গতবার দাম কম ছিল। এবার বাজারে ভালো দাম পাওয়ার কথা শুনছি। পাট শুকানোর জন্য ব্যস্ত সময় পার হচ্ছে। গতবার পাটের দাম কম পাওয়ায় এবার কম করে আবাদ করেছেন। দাম ভালো পেলে কম আবাদে পুশিয়ে যাবে বলে জানান কৃষকরা।
নওগাঁ জেলা কৃষি কর্মকর্তা সত্যব্রত সাহা জাগো নিউজকে জানান, এবার বৃষ্টিপাত বেশি হওয়া কারণে বরেন্দ্র অঞ্চলে বিশেষ করে সেচ নির্ভর জমিতে পানি সেচের প্রয়োজন কম ছিল। কৃষকদের পরামর্শ দেয়ায় পাটের ফলন ভালো হওয়ায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে। বৃষ্টিপাত বেশি হওয়ায় পাট জাগের তেমন কোনো সমস্যা হয়নি। গতবারের তুলনায় এবার পাটের আবাদ কম হলেও বাজারে পাটের দাম ভালো আছে। প্রায় ১৫০০ থেকে ১৬৫০ টাকা প্রতি মণ পাটের দাম পড়ছে। এতে কৃষকরা লাভবান হবেন।
এমজেড/আরআইপি