অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী কল্যাণ সমিতির নির্বাচনেও কারচুপি!

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি রাজবাড়ী
প্রকাশিত: ০৭:৫০ পিএম, ৩০ মার্চ ২০১৯

রাজবাড়ীতে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী কল্যাণ সমিতির দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনে ব্যালট পেপারে কারচুপির অভিযোগ এনে নির্বাচনী ফলাফল প্রত্যাখান করে পুনঃনির্বাচনের দাবি জানানো হয়েছে। শনিবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত রাজবাড়ীর অফিসার ক্লাবে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনে প্যানেল-১ এর চেয়ারম্যান প্রার্থী মীর আব্দুল আউয়ালসহ প্যানেলের অন্য সদস্যরা নির্বাচনে ব্যালট পেপারে মাধ্যমে এ কারচুপি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন।

নির্বাচনে ৮৮ ভোট পেয়ে প্রফেসর শংকর চন্দ্র সিনহা, আব্দুল জলিল ও আকরাম পরিষদ বিজয়ী হয় এবং ৬৪ ভোট পেয়ে মীর আব্দুল আওয়াল ও তপন কুমার ধর পরিষদ পরাজিত হয়।

অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন, নির্বাচন পরিচালনা কমিটি সু-কৌশলে দু’ভাবে ব্যালট পেপার ছাপিয়ে এই কারচুপি করেছে। যার কারণে ভোটাররা বিভ্রান্তিতে পড়েছেন। ভোটগ্রহণ শেষে তারা তাৎক্ষণিক দেয়া নির্বাচনী ফলাফল প্রত্যাখান করে নির্বাচন কমিশনারের কাছে মৌখিক অভিযোগ করেছেন ব্যালটে কারচুপির বিষয়ে এবং সেই সঙ্গে পুনঃনির্বাচনেরও দাবি করেছেন। লিখিত আকারেও তারা কারচুপির বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে জানাবেন।

রাজবাড়ীর অফিসার ক্লাবে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী কল্যাণ সমিতি রাজবাড়ী জেলা শাখা’র দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে প্রফেসর শংকর চন্দ্র সিনহা, আব্দুল জলিল ও আকরাম পরিষদ এবং মীর আব্দুল আওয়াল ও তপন কুমার ধর পরিষদ পৃথক দুটি প্যানেলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। ১৭টি পদের বিপরীতে উভয় প্যানেল থেকে ১৭ জন করে মোট ৩৪ জন প্রার্থী অংশগ্রহণ করেন। এ নির্বাচনে ১৮২ জন ভোটারের মধ্যে ১৫৭ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। বাতিল হয় ৫টি ভোট। এর মধ্যে ৮৮ ভোট পেয়ে প্রফেসর শংকর চন্দ্র সিনহা, আব্দুল জলিল ও আকরাম পরিষদ বিজয়ী হয় এবং ৬৪ ভোট পেয়ে মীর আব্দুল আওয়াল ও তপন কুমার ধর পরিষদ পরাজিত হয়।

নির্বাচনে বিজয়ীরা হলেন, সভাপতি পদে প্রফেসর শংকর চন্দ্র সিনহা, ভাইস-চেয়ারম্যান পদে বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুল জলিল মিয়া ও কাজী সামছুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক পদে মো. আকরামুজ্জামান, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. আজিজুল হাসান, কোষাধ্যক্ষ মো. নজর মওলা, যুগ্ম-কোষাধ্যক্ষ খন্দকার নিজাম উদ্দিন আহমেদ, কার্যনির্বাহী সদস্য মো. আঃ জলিল মিয়া, আবু সাঈদ চৌধুরী মানিক, সুলতানা রাজিয়া, জিতেন্দ্র কুমার সরকার, প্রভাত চন্দ্র দত্ত, মো. রওশন আলী, মো. সায়েদুর রহমান, আব্দুস সাত্তার মন্ডল, সালমা রব ও মৃধা ওয়াজেদ আলী।

নির্বাচন শেষে পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থী মীর আব্দুল আওয়াল সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচন পরিচালনা কমিটি সু-কৌশলে ব্যালট পেপার ছাপিয়েছে। প্যানেল ভিত্তিক কিছু ব্যালট পেপারের নিচের অংশে স্থান পরিবর্তন করে ১ ও ২নং ব্যালটের সিল দেবার চিহ্ন দেয়া হয়েছে। যে কারণে বৃদ্ধা ভোটাররা বিভ্রান্ত হয়েছেন এবং না বুঝে তারা ২ নং ব্যালটের চিহ্নে সিল মেরেছেন। তাই তারা এটাকে কারচুপির ভোট হিসেবে উল্লেখ করে পুনঃনির্বাচনেরও দাবি করেছেন।

নির্বাচন রিটার্নিং অফিসার প্রফেসর নিত্য রঞ্জন ভট্টাচার্য জানান, নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরাজিত প্যানেলের প্রার্থীরা মৌখিকভাবে কারচুপির অভিযোগ করেছেন। যদি তারা লিখিতভাবে অভিযোগ করেন তাহলে তা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী কল্যাণ সমিতি রাজবাড়ী জেলা শাখা’র আহ্বায়ক জেলা প্রশাসকের কাছে প্রদান করা হবে।

রুবেলুর রহমান/এমএএস/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।