স্কুল মাঠে মেলায় চলছে সার্কাস, পাঠদান ব্যাহত

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি সিরাজগঞ্জ
প্রকাশিত: ১২:১০ পিএম, ১৯ এপ্রিল ২০১৯

জেলা প্রশাসনের অনুমোদন ছাড়াই সিরাজগঞ্জের বেলকুচি পৌর এলাকার একটি স্কুলমাঠে চলছে মেলা ও সার্কাস। বৈশাখী মেলার নামে নববর্ষের প্রথম দিন থেকে মেলাটি শুরু হলেও তা এখনো চালানো হচ্ছে। এতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পাঠদান প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

গত রোববার (১৪ এপ্রিল) পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে বেলকুচির আলহাজ্ব সিদ্দিক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে চলছে এ মেলা। বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষের সামনে করা হয়েছে সার্কাসের প্যান্ডেল ও শত শত দোকানপাট। সকাল থেকেই মেলা প্রাঙ্গণে হাজারও মানুষের সমাগম ও মাইকের শব্দে লেখাপড়ার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলা যুবলীগের প্রভাবশালী নেতা ও বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি এই মেলার আয়োজন করেছেন। পাঠদান কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে বাধ্য হয়ে মর্নিং শিফটে ক্লাস পরিচালনা করছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে মেলাটি শুরু হলেও রমজান শুরুর আগের দিন পর্যন্ত এই মেলাটি চলতে পারে বলে অনেকেরই ধারণা। অবৈধভাবে মেলাটি চলতে থাকলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার চরম ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়াও মেলায় র্যাফেল ড্র লটারির নামে জুয়া চালানোর প্রক্রিয়াও চলছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন।

Belkuchi-Mela-pic2

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মেহেদী মাসুদ বলেন, স্থানীয় এমপি মহোদয়ের সুপারিশ আর ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির অনুমতিতে এই মেলা চলছে। বৈশাখী মেলা সারাদেশেই হয়। প্রতিষ্ঠান প্রধান হিসেবে আমাদের করার কিছু থাকে না। আমার পাঠদানে যাতে কোনো সমস্যা না হয় সেজন্য ইউএনও স্যারের সঙ্গে পরামর্শ করে মর্নিং শিফটে সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ক্লাস চালাচ্ছি।

বেলকুচি পৌর মেয়র আশানুর বিশ্বাস বলেন, এই মেলার বিষয়ে আমি আগে থেকে কিছুই জানি না। একদিকে এইচএসসি পরীক্ষা চলছে। অপরদিকে সামনে রমজান মাস। রমজান মাসে স্কুল বন্ধ হয়ে যাবে। এ সময় শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার ব্যাঘাত ঘটানো কারও কাম্য হতে পারে না। মেলা চলার বিষয়টি জেনে আমি ডিসি ও ইউএনও মহদোয়ের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা কোনো অনুমোদন দেননি। বিষয়টি এমপিকেও জানানো হয়েছে। তারপরও মেলা চলছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এস এম গোলাম রেজা বলেন, মেলার বিষয়টি প্রশাসন অনুমোদন দিয়ে থাকে। এ বিষয়ে আমাদের তেমন কিছু জানা নেই। তবে সকাল ৮টা থেকে বিদ্যালয়টির ক্লাস চলছে। তারপরও বিদ্যালয় মাঠে মেলা থাকায় শিক্ষার্থীদের মাঝে কিছুটা প্রভাব পড়বে।

বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম সাইফুর রহমান বলেন, আলহাজ্ব সিদ্দিক মাঠের ওই বৈশাখী মেলা চালানোর অনুমোদনের কোনো চিঠি আমি এখনও পাইনি। তবে তারা আবেদন করেছে। আমাদের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছিল। আমি এখানকার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তদন্ত প্রতিবেদন পাঠিয়েছি। অনুমোদন ছাড়াই মেলাটি চলছে। তারা আবেদন করেই সার্কাস প্যান্ডেল তৈরি করে ফেলেছে। এখন জেলা প্রশাসন থেকে সিদ্ধান্ত দিলে এটা উচ্ছেদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ফিরোজ মাহমুদ বলেন, বেলকুচিতে কোনো মেলার অনুমোদন দেয়া হয়নি। ডিসি স্যার একটু বাইরে আছে। তার সঙ্গে কথা বলে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ইউসুফ দেওয়ান রাজু/আরএআর/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।