বিচার পেতে লাশের ঠাঁই হলো মহাসড়কে

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ঝিনাইদহ
প্রকাশিত: ০১:৫৩ পিএম, ২২ এপ্রিল ২০১৯

ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার গোয়ালখালি গ্রামে স্বামী ও শ্বাশুড়ীর বিরুদ্ধে গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ ও থানায় মামলা না নেয়ার প্রতিবাদে লাশ নিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করেছেন নিহতের স্বজনরা।

সোমবার সকাল ১০টার দিকে শৈলকুপা উপজেলার ভাইট বাজারে মহাসড়কে লাশ রেখে ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া মহাসড়ক অবরোধ করা হয়।

নিহতের স্বজনরা অভিযোগ করেন, প্রেমের সম্পর্কের জেরে প্রায় এক বছর আগে উপজেলার গোয়ালখালি গ্রামের ফিরোজ হোসেনের মেয়ে সোনিয়ার সঙ্গে একই গ্রামের বাদশা হোসেনের ছেলে সজিবের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে সোনিয়াকে বিভিন্ন সময় নির্যাতন করে আসছিল শ্বশুরবাড়ির লোকজন।

এরই জের ধরে রোববার সকালে সোনিয়াকে হত্যার পর ওড়নায় ঝুলিয়ে রেখে ঘরে তালা দিয়ে পলিয়ে যায় পরিবারের লোকজন। খবর পেয়ে নিহতের বাবা-মা খবর দিলে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

এ ঘটনায় পরিবারের লোকজন থানায় হত্যা মামলা দিতে গেলে পুলিশ মামলা গ্রহণ না করে অপমৃত্যু মামলা রেকর্ড করে। সেইসঙ্গে আটক হওয়া শাশুড়ি ও শ্বশুরকে ছেড়ে দেয়।

এ ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার সকাল ১০টার দিকে মহাসড়কে লাশ রেখে অবরোধ করে তার স্বজনরা। পরে থানায় মামলা ও দোষিদের গ্রেফতারে পুলিশের আশ্বাসে প্রায় দেড় ঘণ্টা পর সড়ক অবরোধ তুলে নেয়া হয়।

ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শৈলকুপা সার্কেল) তারেক আল মেহেদি বলেন, গতকাল সোনিয়া আত্মহত্যা করেছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। লাশের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে বিস্তারিত জানা যাবে।

তিনি আরও বলেন, সোনিয়ার একটি ডায়রি পাওয়া গেছে সেখানে উল্লেখ আছে তার মৃত্যুর জন্য কে কে দায়ী। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে হত্যার বিষয় এলে হত্যা মামলা আর আত্মহত্যার রিপোর্ট এলে আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা নেয়া হবে।

আব্দুল্লাহ আল মাসুদ/এফএ/এমকেএইচ

আপনার মতামত লিখুন :