উদ্বোধনের আগেই হেলে পড়ল গণশৌচাগার

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি শ্রীপুর (গাজীপুর)
প্রকাশিত: ০১:৪০ পিএম, ১৯ মে ২০১৯

গাজীপুরের শ্রীপুরের মাওনা চৌরাস্তায় পথচারীদের দুর্ভোগ লাঘবে ছয় মাস আগে একটি গণশৌচাগার নির্মাণ করা হয়। অপরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা এই গণশৌচাগারটি সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করার আগেই একদিকে হেলে পড়েছে। যে কোনো সময় তা ধসে পড়তে পারে। সঠিক পরিকল্পনায় গণশৌচাগারটি নির্মাণ না করায় জলে যেতে বসেছে সরকারের প্রায় পাঁচ লাখ টাকা।

শ্রীপুর উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিসের তথ্য মতে, শিল্প এলাকা সমৃদ্ধ জেলার অন্যতম জনবহুল স্থান মাওনা চৌরাস্তা। কিন্তু মাওনা চৌরাস্তায় দীর্ঘদিনেও নেই কোনো গণশৌচাগার। ফলে পথচারীসহ সাধারণ লোকজনকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এই দুর্ভোগ লাঘবে বিগত এক বছর আগে উপজেলা সমন্বয় কমিটির সভায় মাওনা চৌরাস্তায় একটি গণশৌচাগার নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়। গণশৌচাগার নির্মাণের জন্য ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে সড়ক ও জনপথ বিভাগের জায়গা নির্ধারণ করা হয়।

এদিকে কাজটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেয়া হয় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগকে। পরে চার লাখ ৬০ হাজার টাকা ব্যয় নির্ধারণ করে কার্যাদেশ দেয়া হয় মেসার্স মোল্লা এন্টারপ্রাইজকে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান গণশৌচাগার নির্মাণের পর যে সময় এটি উন্মুক্ত করে দেয়ার কথা সে সময় মহাসড়কের পাশ দিয়ে তিতাস গ্যাসের সঞ্চালন লাইন নির্মাণ কাজ শুরু হয়। এই গণশৌচাগারের লাগোয়া স্থানে পাইপ স্থাপনের গর্ত তৈরি করায় তা হেলে পড়েছে।

মাওনা চৌরাস্তার আবাসন সামগ্রীর ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম মীর বলেন, মাওনা চৌরাস্তায় একটি গণশৌচাগারের খুব প্রয়োজন। এর অভাবে পথচারীদের অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হয়। কিন্ত এই গণশৌচাগারটি অপরিকল্পিতভাবে নির্মাণ করা হয়েছে। ভুল স্থান নির্বাচন করা হয়েছে। প্রথম থেকেই আমরা ব্যবসায়ীরা ভালো একটি স্থান নির্বাচনের দাবি জানিয়েছিলাম। সড়কের পাশে ফুটপাতে তা স্থাপন না করে উড়াল সড়কের নিচে স্থাপন করলে সরকারি এই অর্থ নষ্ট হত না।

এ বিষয়ে মাওনা হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেলোয়ার হুসেন বলেন, জনদুর্ভোগ লাগব ও পরিচ্ছন্ন গাজীপুর গড়তে মাওনা চৌরাস্তায় একটি গণশৌচাগার নির্মাণের প্রস্তাব করেছিলাম। কিন্তু সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোর মধ্যে সমন্বয় না থাকায় গণশৌচাগার নির্মাণের পরও তা ব্যবহার করা যায়নি। শৌচাগারের পাশ দিয়ে গর্ত তৈরি করায় তা হেলে পড়ে এখন অনেকটা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী সৈয়দ তদবীরুর রহমান জানান, মাওনা চৌরাস্তায় জনদুর্ভোগ লাঘবে একটি গণশৌচাগার নির্মাণের পর গ্যাস সঞ্চালন লাইনের জন্য গর্ত করার পর শৌচাগারটি হেলে পড়েছে। বিষয়টি দেখে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়ার জন্য জানানো হয়েছে।

শিহাব খান/আরএআর/আরআইপি