বন্ধ চাতাল মালিকরা পেয়েছেন চাল সরবরাহের কাজ

উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি মির্জাপুর (টাঙ্গাইল)
প্রকাশিত: ০৫:১৫ পিএম, ২৪ মে ২০১৯

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার দেওহাটা বাজারে অবস্থিত মেসার্স ইন্নছ রাইস মিলে গত ছয় মাস ধরে চাল উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। তারপরও মিলটি থেকে সরকারিভাবে ৬৫ মেট্রিকটন চাল ক্রয় দেখানো হয়েছে। এ নিয়ে মির্জাপুর সচেতন মহলে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

মিলটির মালিক মির্জাপুর উপজেলা চাতাল কল মালিক সমিতির সভাপতি ও পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মো. মোয়াজ্জেম হোসেন।

একইভাবে উপজেলার কদিম ধল্যার মেসার্স কাজি রাইস মিল, মেসার্স থ্রি ব্রাদার্স রাইস মিল ও মেসার্স হেলাল উদ্দিন রাইস মিলে উৎপাদন বন্ধ থাকলেও তাদের কাছ থেকে আরও ২২৫ মেট্রিকটন ২শ কেজি চাল ক্রয় দেখানো হয়েছে।

Mirzapur-Chatal

খাদ্য গুদাম সূত্রে জানা গেছে, এ বছর সরকারিভাবে মির্জাপুর খাদ্য গুদামে ১৪৮২ টন চাল সংগ্রহ করার কথা। এজন্য গত ৬ মে টাঙ্গাইল জেলা খাদ্য কর্মকর্তার সঙ্গে মির্জাপুরের মেসার্স ইন্নছ রাইচ মিল, বিসমিল্লাহ রাইচ মিল, মেসার্স থ্রী ব্রাদার্স রাইচ মিল, মেসার্স সাহা অটো রাইচ মিল, মেসার্স একতা অটো রাইচ মিল, মেসার্স কাজী রাইচ মিল ও মেসার্স হেলাল উদ্দিন রাইচ মিল মালিকের চুক্তি হয়। ১৩ মে থেকে গুদামে চাল সংগ্রহ শুরু হয়। সরকার প্রতি কেজি চালের দাম ৩৬ টাকা বেঁধে দিয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ২৩ মে পর্যন্ত ৬৩১ টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা দিয়ে চাতাল কল মালিকদের নির্দেশনা দেয়া হয়।

চাতাল কল মালিকরা স্থানীয়ভাবে নতুন ধান ক্রয় করে চাল বানিয়ে সরকারি খাদ্য গুদামে সরবরাহ করার চুক্তি করলেও তা করেননি। দেওহাটা বাজারের মেসার্স ইন্নছ রাইচ মিলে গত প্রায় ছয় মাস ধরে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। কিন্তু ১৩ মে থেকে ১৯ মে পর্যন্ত চারবারে মিলটির নামে ৬৫ টন চাল সরবরাহ করা হয়। একইভাবে উপজেলার কদিম ধল্যার মেসার্স কাজি রাইস মিল, মেসার্স থ্রি ব্রাদার্স রাইস মিল ও মেসার্স হেলাল উদ্দিন রাইস মিল বন্ধ থাকলেও তাদের নামে ২২৫ মেট্রিকটন চাল ক্রয় দেখানো হয়েছে।

Mirzapur-Chatal

কিন্তু খাদ্য গুদামের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাদের পছন্দের ব্যবসায়ীদের দিয়ে কালিহাতি, জামালপুর, শেরপুর, রংপুরসহ উত্তরাঞ্চল থেকে ট্রাকযোগে দিন ও রাতে গুদামে চাল ঢোকান। আর কাগজে-কলমে চুক্তিবদ্ধ মিলারদের নামে চাল সরবরাহ দেখানো হয়। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৫৭৭ মেট্রিকটন ২শ কেজি চাল সরবরাহ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে দেওহাটা বাজারের মেসার্স ইন্নছ রাইস মিলে সরেজমিন দেখা গেছে, চাতালে কিছু ধান শুকানো হচ্ছে। শ্রমিকও একজন। ধান ভেজানোর হাউজের ভেতরে ঘাষে ছেয়ে গেছে। ধান সিদ্ধর চুলাও বন্ধ। দেখে বুঝার উপায় নেই মিলটিতে কতদিন আগে ধান থেকে চাল তৈরি করা হয়েছে।

Mirzapur-Chatal

দেওহাটা বাজারের চাল ব্যবসায়ী সমেজ উদ্দিনের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ১৫ বছর ধরে দেওহাটা বাজারে চালের ব্যবসা করেন। তিনি জানান, প্রায় ছয় মাস ধরে ইন্নছ চাতাল কলে চাল উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।

একই কথা বলেন, গোড়াই ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য মুক্তিযোদ্ধা শাজাহান মিয়া, আবুল কাশেম ও নুরুন নাহার।

মেসার্স ইন্নছ রাইস মিলের মালিক ও চাতাল কল মালিক সমিতির সভাপতি মো. মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, গত দুই মাস আগে তিনি ধান ক্রয় করে চাল তৈরি করেছেন। গুদামের সঙ্গে ৬ মে চুক্তি হওয়ার পর সেই চাল চারবারে গুদামে সরবরাহ করেছেন। দুই মাস আগে কোথায় ধান পেলেন জানতে চাইলে তিনি কোনো উত্তর দেননি।

এস এম এরশাদ/এমএএস/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :