চালককে নিজ জিম্মায় নিলেন ডিএফও, হয়নি মামলা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি দিনাজপুর
প্রকাশিত: ০৯:২২ পিএম, ১৬ জুন ২০১৯

দিনাজপুরের রামসাগর জাতীয় উদ্যান থেকে কাঠ পাচারের সময় বন বিভাগের কাঠসহ গাড়ি জব্দ করে পুলিশের জিম্মায় দেয়া হয়েছে। পুলিশের জিম্মা থেকে পরে গাড়িচালককে বিভাগীয় বন কর্মকর্তার (ডিএফও) কাছে হস্তান্তর করা হয়। ওই ঘটনায় এখনও কোনো মামলা হয়নি।

ঘটনার তদন্তে সহকারী বন সংরক্ষক মোস্তাফিজুর রহমানকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে। শনিবার রাত ৮টার দিকে বন বিভাগের পিকআপে বেশকিছু সেগুন ও আকাশমনি গাছের কাঠ পাচার করে স’মিলে নেয়ার সময় কাঠ ও চালকসহ গাড়িটি জব্দ করেন স্থানীয়রা।

আটক গাড়িচালক মো. কোরবান আলী জানান, তিনি শনিবার সন্ধ্যায় পিকআপে ঘাস নিয়ে রামসাগরে যান। ফিরে আসার সময় রামসাগরের তত্ত্বাবধায়ক আব্দুস সালাম তুহিন তাকে কিছু কাঠ স’মিলে নিয়ে যেতে বলেন। এতে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন। পরে তাকে বিভাগীয় বন কর্মকর্তার বাসার রান্নাঘরের দরজা-জানালার কাজ হবে, এজন্য কাঠগুলো চিরাইয়ের জন্য পুলহাটের একটি স’মিলে নিয়ে যেতে বলেন। এ কারণে তিনি ইচ্ছার বিরুদ্ধে হলেও কাঠগুলো পিকআপে তোলেন।

গাড়িচালক কোরবান আলীর অভিযোগ, তাকে চাকরির ভয় দেখিয়ে কাঠ পাচার করতে বাধ্য করা হয়েছে। এর আগেও তাকে দিয়ে এ ধরনের কাজ করানো হয়।

স্থানীয় মনা মিয়া ও ফয়সাল হোসেন জানান, ওই পাচারের সঙ্গে রামসাগরের তত্ত্বাবধায়ক আব্দুস সালাম তুহিন জড়িত। দীর্ঘদিন ধরে তিনি এমন কাজ করে আসছেন।

ওই রাতেই দিনাজপুরের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আব্দুর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে জব্দ করা কাঠ, গাড়ি ও চালককে পুলিশের হেফাজতে দেন। তিনি বলেন, রামসাগরের তত্ত্বাবধায়ক আব্দুস সালাম তুহিনের কাজ সরকারি সম্পদ রক্ষা করা। উল্টো তিনি কাঠ পাচার করে স’মিলে পাঠাচ্ছিলেন।এর বিচার হতেই হবে।

Dinajpur-Forest

তিনি আরও বলেন, তদন্ত করে আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

রোববার সহকারী বন সংরক্ষক মোস্তাফিজুর রহমানকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রামসাগরের তত্ত্বাবধায়ক আব্দুস সালাম তুহিন জানান, রামসাগর জাতীয় উদ্যানকে অনেকে অবৈধভাবে ব্যবহার করতে চান। মাদক বিক্রি, অসামাজিক কার্যক্রম চালাতে চান কিন্তু আমি তাতে বাধা দেই। এ কারণে আমার বিরুদ্ধে এ ষড়যন্ত্র করা হয়েছে।

‘আমি ডিএফও স্যারের নির্দেশে ঝড়ে পড়ে যাওয়া গাছগুলো ডিএফও অফিসে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করেছি মাত্র।’

এ বিষয়ে দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার ওসি মো. রেদওয়ানুর রহিম জানান, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা প্রথমে জব্দ করা কাঠ, গাড়ি ও চালককে পুলিশের হেফাজতে দেন। পরে গাড়ি চালককে তিনি নিজ জিম্মায় নিয়ে যান।

‘এখনও কোনো মামলা হয়নি। ঘটনাটি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। গাড়ি ও কাঠ থানা হেফাজতে রয়েছে’- বলেন ওসি।

এমদাদুল হক মিলন/এমএআর/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :